ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ময়মনসিংহ

মাদরাসায় ‘ভুতের আছর’ : ৫ দিন ধরে চলছে ঝাড়ফোঁক পানি পড়া

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

১৫ মার্চ ২০১৭,বুধবার, ১৮:২৬


প্রিন্ট

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর আক্কাছিয়া দাখিল মাদরাসায় ৫ দিন ধরে কথিত ভুতের আছর বিরাজ করছে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ছে ছাত্রীরা। গত শনিবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৩ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ভুতের আছর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। ভুত ছাড়াতে এ পর্যন্ত ৭ জন কবিরাজ ঝাড়ফোঁক পানি পড়া দিচ্ছে। মাদরাসায় ভুতের আছরের ঘটনায় রোববার মাদরাসা বন্ধ করে রাখে কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার সন্তোষপুর আক্কাছিয়া দাখিল মাদরাসায় ৪ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। শনিবার মাদরাসা ক্লাস চলাকালীন সময়ে সপ্তম শ্রেণীর লতিফা খাতুন, আকলিমা, লিজা আকতার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। ভয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ রোববার মাদরাসা বন্ধ রাখে। সোমবার মাদরাসা খুললে ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৮/১০ জন ছাত্রী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। মঙ্গলবার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে ২ জন ছাত্রী।

সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলা ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী আরজিনা আকতার জানান, প্রথমে প্রচ- মাথাব্যথা শুরু হয়। সেই সাথে শুরু হয় পেট ব্যথা। এ দুই কারণেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে ছাত্রীরা।

মাদসার শিক্ষকরা জানান, এ পর্যন্ত শুধু ছাত্রীরাই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছে। ছাত্ররা ভালো আছে। এ ঘটনার জন্য ৭ জন কবিরাজ দিয়ে মাদসায় চলছে ঝাঁড়ফোঁক পানি পড়া। কবিরাজের পানি পড়ায় কোন কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার মাদরাসায় গিয়ে দেখা গেছে, পাশ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার আশ্রা গ্রামের কবিরাজ আছর আলী মাদসায় পানি পড়া ছিটিয়ে দিচ্ছে। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটনা তা তিনি নিজেও বলতে পারছেন না।

মাদরাসায় ভুতের আছর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মাদসায় শিক্ষার্থীরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে ভুতের আছর বিরাজ করছে।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি মেডিকেল টিম নিয়ে তিনি মাদরাসায় যাবেন।

মাদরাসার সুপার আব্দুল বারী জানান, মাদরাসায় ভুতের আছরের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মাদরাসায় শিক্ষাথী আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৭ জন কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফোঁক পানি পড়া দেয়া হয়েছে। তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর পর একটি মেডিকেল টিম মাদরাসায় আসার কথা রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫