ঢাকা, সোমবার,০১ মে ২০১৭

সংগঠন

'দলীয় ওয়েজবোর্ড সাংবাদিকরা মেনে নেবে না'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ২০:৩৮


প্রিন্ট

কোনো দলীয় ওয়েজবোর্ড মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সব সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে। আর রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে দলকানা ওয়েজবোর্ড গঠন করা হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে এ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজীজ, ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, খুরশিদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুন্সী আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমীন রোকন, আবুল কালাম মানিক, জাকির হোসেন, ইরফানুল হক নাহিদ, এস এম আলমগীর, সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, বোরহান উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত।

সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড সাংবাদিকদের মৌলিক দাবি। আমরা দেড় বছর ধরে এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। যদি সব সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয় তাহলে কোনো কথা নেই। আর যদি শুধুমাত্র সরকার সমর্থক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয় তাহলে আমরা তা মেনে নেবো না। শুধু আমরাই নয়, সাংবাদিক সমাজই তা মেনে নিবে না। সকল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে।

এই সরকারের আমলে পশুপাখির চেয়েও সাংবাদিকরা বেশি নির্যাতিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে শওকত মাহমুদ বলেন, এই সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত একটি সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি। কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনারও বিচার হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী ইনুকে উদ্দেশ্য করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, এই সরকারের বিদায়ের আগেই আপনাকে বিদায় নিতে হবে। একদিন সাংবাদিকদের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা হবে বলেও জানান শওকত মাহমুদ।
তিনি আরো আরো বলেন, অবিলম্বে সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিন। সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করুণ।
রুহুল আমিন গাজী তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে সকল পক্ষকে নিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়েছে। এবারও সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে। তা নাহলে এর পরিনতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। শতশত সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখছে। অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করে হাজার হাজার সাংবাদিকদের বেকার করে রেখেছে।
তিনি বলেন, আজ কেউ সত্য কথা বলতে পারছে না। বললেই তাকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ নিরাপদে নেই। সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীন। যতদিন গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম স্বাধীন হবে না। আমাদের আন্দোলন চলছে এবং যতদিন দাবি আদায় না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫