ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

মায়াময় স্বাধীনতা

আলমগীর মহিউদ্দিন

১৪ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:৩৮


আলমগীর মহিউদ্দিন

আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রিন্ট

গণতন্ত্রের উদ্ভব কবে হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এক বিষয়ে সবাই একমত, তা হলো স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। আর এটি নিশ্চিত করতে পারে সত্যিকারের গণতন্ত্র। শব্দ বা অবস্থাটি হলো ‘সত্যিকারের’। গণতন্ত্রের সমস্যা মূলত এখানেই।
সত্যিকারের গণতন্ত্র বলতে অনেকেই বলেন সেই অধিকারের কথা যার জন্য মানুষ প্রথমে একমত হয়েছিল। তা ছিল প্রতিটি মানুষ তার নিজের মতো করে, নিজের ইচ্ছায় চলবে। বাইরে কেউ এতে নাক গলাবে না। তবে চলমান জীবন সব কিছু জটিল করে ফেলেছে এবং গণতন্ত্রও বারবার খোলস বদলাচ্ছে।
এ অবস্থার এক চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন বিখ্যাত রাজনৈতিক কর্মী চিন্তাবিদ লেখক র‌্যালফ নাদের। তিনি মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের কথা স্মরণ করে সেই বিখ্যাত প্রবাদের কথা বলেছেন। ‘মাইট ইজ রাইট।’ ক্ষমতাই অধিকার। তখন শক্তিশালীরাই সব ভোগ করত। ঝগড়া-সঙ্ঘাতের পরে পরাজিতরা বা আঘাতপ্রাপ্তদের সামনে একটি পথই খোলা থাকত। হয় প্রত্যাঘাত করো, নতুবা নীরবে সহ্য করো যন্ত্রণা। এমন অবস্থা নির্বিঘ্নে জীবনযাপনের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়লে, চিন্তাশীল কিছু মানুষ সঙ্ঘাত ও সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু নিয়মকানুনের কথা বললেন। জনগণ তা মেনে নিলো। এ নিয়মগুলো আজ অপরাধ ও শাস্তির আইন (‘টর্ট ল’) বলে পরিচিত। একসময়ে নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতের সৃষ্টি হলো। ঘোষণা করা হলো, কোনো বিরোধ বা মতদ্বৈধতা হলে, কেউ হিংসা বা শক্তির পথ বেছে না নিয়ে এ আদালতে মীমাংসা বা বিচারের জন্য যাবে। এটি সবার জন্মগত অধিকার। সাধারণ মানুষ দ্রুত এটি মেনে নিলো। যখন রাজা বা ভূস্বামী পদ্ধতির জন্ম হলো, সেখানেও মীমাংসার বিষয়টা প্রধান ছিল।
তবে এ ব্যবস্থা শিথিল হতে শুরু করল যখন রাজা বা ভূস্বামীরা লক্ষ করল জনগণ তাদের অধিকার রক্ষার জন্য এ বিচারব্যবস্থাকে প্রচুুর ব্যবহার করে ক্ষমতাবানদের চাপিয়ে দেয়া অন্যায়-অনাচারকে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এর মাঝে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে এবং একদল মানুষ তা পরিচালনা করছে। তারা ক্ষমতাবান। তাদের মধ্যে ক্ষমতা দখলদারীরা তাদের ক্ষমতা, কর্মকাণ্ড ও স্বার্থকে অপ্রতিহত রাখতে নতুন নিয়ম (যা এখন আইন বলে পরিচিত হলো) তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। যত নতুন আইন এলো, জনগণের অধিকার ততখানিই সীমিত হয়ে পড়ল।
দিন গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষে মানুষে সম্পর্কের বিস্তৃতি ঘটল এবং প্রযুক্তির কল্যাণে তা গভীরতর ও জটিলতর হতে থাকল। তাই জনমত সংগঠন, নিয়ন্ত্রণের কৌশলও পাল্টে গেল। শুধু আইন ও নিয়ম দিয়ে তা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়লে জনমনকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল যোগ হলো। এখন এটি নিয়ন্ত্রণের প্রধান কৌশল হয়ে পড়েছে।
এর প্রধান কারণ জনগণকে সংগঠিত করতে হলে জনমতের ঐক্য প্রয়োজন। ঐক্য অর্থ হলো যেকোনো বিষয় কমবেশি সবার মেনে নেয়া। তাই জনমানসকে কেমন করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে চিন্তা এলো। সে লক্ষ্যে জনমানসকে কেমন করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে প্রশ্ন উঠল এবং তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জটিল কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি হতে থাকল। এখন ক্ষমতা প্রয়োগ এবং পরিচালনার এটিই প্রধান হাতিয়ার। এর প্রধান হাতিয়ার প্রচারণা।
এসব পরিবর্তন সহজেই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে থাকল এ জন্য যে, এগুলো মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণের সহজ উপায় বলে প্রতিভাত করানো হলো। আসলে প্রতিটি মানুষ নিজের মতো করে বাঁচতে এবং বাধাহীন নিঃশ্বাস ফেলতে চায়। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মাঝে দু’টি পরস্পরবিরোধী শক্তি সক্রিয় ও ক্রিয়াশীল। এদের সম্যক বোঝাপড়া না থাকলে সমাজে বিরোধিতা ও সঙ্ঘাতই হবে প্রবলতর স্রোত। এ কারণেই সঙ্ঘাতহীন জীবনের আকাক্সক্ষা প্রতিটি মানুষের। যেকোনো ব্যবস্থা যদি শান্তির পক্ষে সামান্যতম সুযোগ ও সাহায্য করতে পারে, জনগণ তাকে অভিনন্দন জানায়, লুফে নেয়। তখন সুযোগসন্ধানী এবং ক্ষমতার দখলদাররা প্রমাদ গুনলেও এর নতুন ব্যবহার শুরু করে। তারাও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যোগ দিয়ে কৌশলে এর নেতৃত্বও নিয়ে নেয়। এভাবে জনগণের অজ্ঞাতেই জনগণের অধিকার তারা ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে র‌্যালফ নাদের এক চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কেমন করে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এ ‘টর্ট ল’ ১৯৭৩ সালের দিকে সীমিত হয়ে গেল। এ আইনের মাধ্যমে জুরিরা কোর্টকে বিচারে সাহায্য করতেন এবং বিচারপ্রার্থীরা নিশ্চিত ছিলেন বিচার নিরপেক্ষ হবে। ঠিক এ সময়ে রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি, শক্তিশালী শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (যাকে করপোরেট হাউজ বলে) কাছে বাঁধা পড়তে থাকল এবং সে পথে রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারকেও ক্রমান্বয়ে সঙ্কুচিত করে ফেলল। নতুন নতুন আইনের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটল।
মানসিকভাবে জনগণ ভাবতে শিখল, তারা যা পাচ্ছে সেটিই অধিকার এবং যা কেড়ে নেয়া হয়েছে, তা তার অধিকারের অংশ ছিল না। যেমন ক্যালিফোর্নিয়াতে আইন করা হলো কোনো ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আড়াই লাখ ডলারের বেশি হবে না। আগে এর কোনো সীমারেখা ছিল না। তখন সামাজিক অপরাধগুলো কমতে শুরু করে। কিন্তু যখন এ সীমা বেঁধে দেয়া হলো, সেই অপরাধের সংখ্যা আবার বাড়তে থাকল। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এক অনুসন্ধানে দেখতে পায়Ñ মধ্য ১৯৮০ তে ‘সিভিল সুটে’র সংখ্যা ১৮৪০ সালের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের অধিকার আগের চেয়ে কমে গেছে। এ বিষয়ের অনুসন্ধান করে অধ্যাপক আলেকজান্ডার লাহাব ‘ইন প্রেইজ অব লিটিগেশন’ নামে একটি বই লিখেছেন। কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক মন্তব্য করেছেন, ‘জনগণকে আরো বেশি করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ অধিকারকে ব্যবহার না করলে অবশেষে অধিকারই হারিয়ে যায়। তিনি কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে একটি চলমান চিত্র এঁকেছেন। এখন সাধারণ মানুষকে শুধুই আদালতের বাইরে রাখা হচ্ছে না, যাতে তারা কোনো সুবিচার না পায়, তাদের হৃদয় থেকে আদালতের ওপর থেকে ভরসাও চলে যায় সে জন্য বিচারকদেরও নানাভাবে প্রভাবিত করে সুবিচার থেকে দূরে থাকে তার চেষ্টা চলছে নিরন্তর। অধ্যাপক লাহাব বলেছেন, ‘আলোচনা ও মীমাংসার মাধ্যমে শুধু সমস্যার সমাধানই হয় না বরং গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হয়। কারণ এখানে আইনের শাসন জোরদার হয়, স্বচ্ছতা আসে এবং সামাজিক সমতার ভিত্তি শক্ত হয়।
তবে আমেরিকান মিউজিয়াম অব টর্ট ল’র ডিরেক্টর ড. রিচার্ড নিউম্যান এ জন্য একটি মূল্যবান শর্ত দিয়েছেন। তা হলো, আইন ও আদালতের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য এবং দ্রুত হতে হবে। নতুবা আদালত ও বিচার তাদের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ধনী এবং ক্ষমতাবানদের ক্রীড়নকে পরিণত হবে। তিনি লিখেছেন, ‘আজকে আদালত ও বিচারব্যবস্থা ‘টেম্পল অব জাস্টিস’ না হয়ে, পীড়নকারীদের অভয়কেন্দ্র হয়ে পড়ছে ‘অনেকস্থলে’। ড. নিউম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, ‘জনগণের সচেতনতার মধ্য দিয়ে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং তার সাথে স্বাধীনতাও অর্থবহ হবে।’
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে কেমন করে ক্ষমতাবানেরা কুক্ষিগত করে তার বিবরণ দিয়েছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক মিলটন মায়ের তার বহুলপঠিত বই ‘দে থট, দে ওয়ার ফ্রি : দি জার্মানস, ১৯৩৩-৪৫ (তারা ভাবত, তারা স্বাধীন-জার্মান ১৯৩৩-৪৫) বইটিতে মূলত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। মা নিজে একজন জার্মান ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিকও ছিলেন এবং নাৎসিদের ভয়াবহ কর্মকাণ্ড দু’টি মহাযুদ্ধ ঘটিয়ে বিশ্বের সামূহিক পরিবর্তন ঘটায় তার ওপর বইটি লিখেন। তার প্রশ্ন ছিল, সাধারণ জার্মান নাগরিকেরা কেন এমন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করল না? ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত তার এ বইটি জার্মানিকে জানার জন্য গত ছয় যুগ ধরে অবশ্য পাঠ্য হিসেবে বিরাজ করছে। সাংবাদিক-ঐতিহাসিক মায়ের অনুসন্ধানে পেয়েছেন যে, নাৎসি মতবাদ অতি ধীরে জার্মানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ১২ বছরের নাৎসি রাজত্বকালে জার্মান জাতিকে মিটিং-মিছিল-গান-বাজনা প্রভৃতির মধ্যে এমনভাবে নিমজ্জিত রাখা হয়েছিল যে, একজন সাধারণ জার্মানের জন্য নিজের কথা ভাবার সুযোগই ছিল না। বিশেষ করে, প্রতিদিন বাইরের এবং ভেতরের শত্রু আক্রমণের কথা বলে আন্দোলন এবং ধরপাকড়, বিভিন্ন বাহিনীর অলীক কাহিনী এবং রাষ্ট্রের অতন্দ্র তত্ত্বাবধান ও নজরদারির ফলে সবাই ব্যস্ত থাকত নিজেদের নিয়ে। ফলে তারা কেবল প্রতিদিনের জীবন নিয়েই আবদ্ধ থাকত না, তাদের অতি মূল্যবান অর্জন-স্বাধীনতা- তার কথা ভাবারও সময় তাদের ছিল না।
সে সময়ের জার্মানদের অবস্থার এক চমৎকার বর্ণনা ঐতিহাসিক মায়ের তার এই বইতে দিয়েছেন। সমালোচকেরা বলেছেন এই এক প্যারাগ্রাফের বর্ণনা এমন সার্বজনীন অনন্য সত্য তুলে ধরেছে যা আজকের জন্য আরো প্রযোজ্য। তিনি লিখেছেন, ‘সেখানে (জার্মানিতে) জনগণ সব কিছু মেনে নেয়ার জন্য ক্রমান্বয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। যেমন বিস্ময়করভাবে শাসিত হওয়া; (সরকারের) গোপনে নেয়া সিদ্ধান্ত; গোপন আলোচনার যুক্তি যে, এ বিষয়গুলো জনগণ বুঝবে না, বুঝলেও তা প্রকাশ করা যাবে না রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য; বিষয়টি এত জটিল যে সরকারকে এমন সব তথ্যের ওপর কাজ করতে হয় যে, যা জনগণ ‘বুঝবে’ না। জনগণ থেকে সরকারের এই বিচ্ছিন্নতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল সন্তর্পণে অথচ তীব্রভাবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল ছদ্মবেশী আবরণে। কখনো সত্যিকারের দেশপ্রেমের আদলে, কখনো বা সত্যিকারের সামাজিক (সুব্যবস্থার) উদ্দেশ্যে। সব সঙ্কট ও সংস্কারগুলো এমনভাবে জার্মানদের ব্যস্ত রাখত যে, তারা বুঝতেই পারেনি এর অন্তরাল দিয়ে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেছে- তা হলো স্বাধীনতা এবং সরকার ক্রমেই তাদের থেকে দূরে চলে গেছে।’
What happened here was the gradual habituation of the people, little by little, to being governed by surprise; to receiving decisions deliberated in secret; to believing that the situation was so complicated that the government had to act on information which the people could not understand, or so dangerous that, even if the people could understand it, it could not be released because of national security... This separation of government from people, this widening of the gap, took place so gradually and so intensely, each step disguised as a temporary emergency measure or associated with true patriotic allegiance or with real social purposes. And all the crises and reforms so occupied the people that they did not see the slow motion underneath, of the whole process of government growing remoter and remoter-" Milton Mayer in "They thought, they were Free, The Germans 1933-45)"
এই দীর্ঘ উদ্ধৃতিটি আজকের বিশ্বের রাজনৈতিক চিত্রকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে। রাজনীতিবিদ ও তাদের আমলারা দেশ পরিচালনার নামে প্রথমেই স্বাধীনতার কথা বলে জনগণের অধিকার হরণ করে। জনগণকে এমন সমস্যা এবং কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখে যেন সে তার এ অধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা বা ভাবনার সময় না পায়। মায়ের তাই এই অবস্থাকে মায়াময় মোহময়ী স্বাধীনতা বলেছেন যেখানে শৃঙ্খলাবদ্ধ জনগণ ভাবে সে স্বাধীন। অথচ এ স্বাধীনতা পরাধীনতার চেয়ে বিপজ্জনক।
বর্তমান অবস্থার সাথে সেই নিরোর বাঁশি বাজানোর কাহিনীর (রোম যখন পুড়ছিল, নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিল) তুলনা করে, রাদারফোর্ড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জন ডাবলু হোয়াইটহেড বলেছেন, ‘আজকের সবচেয়ে বড় ভয় ও বিপদ চরমপন্থীরা নয় (যাতে মুসলমানদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে), এটি হলো স্বৈরতন্ত্রের স্বেচ্ছাচারিতা যাতে শাসকশ্রেণীরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদের আনুগত্য শুধু ক্ষমতা এবং অর্থের কাছে।
রাজনীতিবিদদের জন্মগত মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করে নিক কহেন সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় লিখেছেন, এদের (রাজনীতিবিদদের) মিথ্যা কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম হয় না যতক্ষণ জনগণ তা বিশ্বাস না করে। জনগণ এসব মিথ্যায় বিশ্বাস শুরু করলেই তারা (রাজনীতিবিদেরা) রাষ্ট্রকে তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশি রাজ্যে পরিণত করে। প্রত্যেক নাগরিককে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে। ফলে জনগণের ভোটে নির্বাচিতরা জনগণের কথা না বলে শুধু নিজের স্বার্থই দেখে। শুধু সত্যিকারের স্বাধীনতা এ চিত্র পাল্টাতে পারে। হ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫