ঢাকা, শুক্রবার,৩১ মার্চ ২০১৭

স্বাস্থ্য

শিশুর হাড় ও মাংসপেশিতে ব্যথা মানেই বাতজ্বর নয়

ডা: প্রণব কুমার চৌধুরী

১৪ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:০৬


প্রিন্ট

 

শিশু থেকে বয়স্ক যাদেরই এক বা একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হয়, তখনই সবার আগে চিন্তা করি, তার বাতজ্বর হয়েছে কিনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাতজ্বর নিশ্চিত না হয়ে পেনিসিলিন ইনজেকশন বছরের পর বছর চলতে থাকে। এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পর থেকেই বাতজ্বরের প্রকোপ সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে এর উৎপত্তি হয়। এই রোগ শিশুদেরই বেশি হয়। বয়স্কদের হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশে নিম্নবিত্ত বা বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গলায় স্ট্রেল্টোকক্কাস জীবাণু সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। শিশুদের অনেক কারণে বোন বা জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। শিশুবাত বা জুভেলিন ক্রমিক আর্থাইটিস এর অন্যতম কারণ। শিশুবাত ও বাতজ্বর এক জিনিস নয়। দু’টিরই সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ রয়েছে। বাতজ্বরের কারণে হার্ট সংক্রমিত হয়ে রোগী মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করতে পারে। শিশুবাতের রোগীকে বাতজ্বর মনে করে পেনিসিলিন ইনজেকশন দিতে থাকলে সে ভালো না হয়ে ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে এগোবে।
শিশুদের হাড়, মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধির ব্যথার বহুবিধ কারণ রয়েছে। বাতজ্বর ও শিশুবাত দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলেও স্বল্পমেয়াদি ব্যথার প্রধান কারণ ভাইরাল ইনফেকশন। তা ছাড়া ব্যাকটেরিয়াজনিত হাড় ও অস্থিসন্ধিতে ইনফেকশনের কারণেও ব্যথা অনুভব হতে পারে। অল্প বয়সী শিশুরা খেলাধুলাজনিত কারণে বা হালকা আঘাতজনিত কারণ হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব করতে পারে। এ ধরনের ব্যথা হালকা ব্যথার ওষুধ সেবনে বা বিশ্রামেই ভালো হয়ে যায়। ভাইরাল ইনফেকশনজনিত ব্যথা বিশ্রাম এবং নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে ভালো হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হাড় ও অস্থিসন্ধির ইনফেকশন অবশ্যই একটি মেডিক্যাল ইমারজেন্সি, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না করালে রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারে। হাড় বা মাংসপেশিতে ব্যথা হলেই বাতজ্বর হয়েছে মনে করে উদগ্রীব বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

লেখক: শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫