ঢাকা, বৃহস্পতিবার,৩০ মার্চ ২০১৭

স্বাস্থ্য

ম নো স্বা স্থ্য - ত থ্য ক থা

ডা: মৌসুমী রিদওয়ান

১৪ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:৩৯


প্রিন্ট

হ্যালুসিনেশন

হ্যালুসিনেশন প্রত্যক্ষ ও সাইকোসিস রোগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। রোগীর এ ধরনের প্রত্যক্ষের পেছনে কোনো বাস্তব সত্য বা ঘটনা থাকে না এবং কোনো উদ্দীপক থাকে না। এ অভিজ্ঞতা রোগীর একান্ত নিজস্ব-ভুল প্রত্যক্ষ। এ ধরনের প্রত্যক্ষে বেশির ভাগ দু’টি ইন্দ্রিয় সক্রিয় হয়- চক্ষু ও কান অর্থাৎ দেখার ভুল, শোনার ভুল। হ্যালুসিনেশন বিভিন্ন মানসিক রোগের জন্য একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও নানাবিধ মানসিক সমস্যা হ্যালুসিনেশন থেকে শনাক্ত করা সহজ হয়। স্বাভাবিক মানুষেরও সময় সময় এ ধরনের দৃষ্টি-বিভ্রম বা শ্রুতি-বিভ্রম জাতীয় হ্যালুসিনেশন হতে পারে, বিশেষ করে যখন একটা প্রাক্ষোভিক মানসিক চাপ থাকে। সাইকোটিক প্রত্যক্ষের প্রমাণ পাওযা যায় সেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’-এর মধ্যে। রোগী এই অমূলক প্রত্যক্ষের প্রভাবে অনেক সময় বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যেও পড়তে পারে।
মানব মস্তিষ্কের বিপাকজনিত কারণ বা ক্রিয়াতে আমূল পরিবর্তন হলেই এটা বারবার হওয়া সম্ভব। যেমন- শিশুর প্রচণ্ড জ্বরে মস্তিষ্কের বিপাকজনিত পরিবেশের এক আমূল পরিবর্তনের কারণে ওই সময়ে হ্যালুসিনেশন হতে পারে। মনোবিকারজনিত মানসিক সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকে। যদিও মস্তিষ্কের বিপাকজনিত অস্বাভাবিকতা এখানে পরিষ্কার বোঝা যায়নি। তবে বিভিন্ন ভালো ওষুধ সেবনে সাইকোসিস বা মনোবিকারের যে ধরনের হ্যালুসিনেশন হয় তা দূর করা সম্ভব। কিডনি ফেলিওর ও লিভার ফেলিওর এর কারণেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন- এলএসডি, আফিম, মারিজুয়ানা ইত্যাদি মারাত্মকভাবে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়াও-
• পোস্টট্রমাটিক বা আঘাত পরবর্তী স্ট্রেস ডিসঅর্ডার
• অ্যালকোহলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
• সাইকোসিস বা মনোবিকার
• ডেলিরিয়াম
• ডিমেনশিয়ার কারণেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে
• ভালোবাসার মানুষটির সাম্প্রতিক মৃত্যুও হ্যালুসিনেশন সৃষ্টি করতে পারে

ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন
চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন করতে হয় ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে। রাগী ব্যক্তিরা সাধারণত উচ্চ স্বরে কথা বলে অযথা চিৎকার-চেচামেচি করে, অভিমান করে, অহেতুক প্রতিজ্ঞা করে। ক্রোধান্বিত হয়ে সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি ও নাটকীয় ভঙ্গি করে থাকে এবং ভাবনা-চিন্তারও নাটকীয় পরিবর্তন আসে। যৌক্তিক চিন্তা-ক্রোধ দমনে বিশেষ সহায়তা করে। ভাব প্রকাশে দুঃখজনক, ভয়ানক, ধ্বংসাত্মক এসব উত্তেজক শব্দ পরিহার করে যথাসম্ভব কোমল শব্দের ব্যবহার করে সব কিছুই সহজভাবে গ্রহণ করা ক্রোধ দমনে সহায়তা করে। ‘কখনোই না’ ‘সব সময়ই’ এসব শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিত। এ সব শব্দের যথেচ্ছ ব্যবহার আপনার ভালো হিতৈষীও নষ্ট করতে পারে। ধরা যাক, আপনার কোনো বন্ধু সবসময় আসতে দেরি করে ফেলে। তখন যদি আপনি তাকে ক্রোধের বশে দু-চারটি কড়া শব্দ শুনিয়ে দেন তাহলে হয়তো আপনার প্রিয় বন্ধুটিও আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে। বরং উদ্দেশ্য সাধনে আপনার কুশলী হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, ক্রোধানুভূতি কখনোই মানসিক শান্তি এনে দিতে পারে না। মনে রাখবেন, যুক্তির কাছে ক্রোধ সবসময়ই পরাভূত হয়। সুতরাং চিন্তায় সবসময় যৌক্তিক হওয়া উচিত। আপনি সবসময়ই সংসারের কোনো না কোনো বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন। সুতরাং এই বৈরী পরিবেশ থেকে ক্রুদ্ধ না হয়ে বরং যুক্তি সহকারে বা গঠনমূলকভাবে মোকাবেলা করলে জীবন ধারণে স্থিতিশীলতা আসবে। আমরা স্বাভাবিকভাবে যা কিছু ভালো, সুন্দর এবং অনুকূল তাই প্রত্যাশা করি। ক্রোধপ্রবণ লোকেরা এর ব্যত্যয় ঘটলে সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এই জন্য তাদেরকে তাদের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। যা চাই তা পেতেই হবে এ ধরনের মনোভাব পরিহার করে চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে মেনে নেয়ার মানসিক প্রবণতা তৈরি করতে হবে। কোনো কিছু না পেলে হতাশ হওয়া বা দুঃখ পাওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু ক্রোধান্ধ হওয়া অযৌক্তিক। সে সব ক্ষেত্রে তা ভাগ্য বলে মেনে নিতে হবে। এতে মনে শান্তনা আসবে ক্রোধ দূরীভূত হবে।

হাইপোম্যানিয়া
হাইপোম্যানিয়া, ম্যানিয়া থেকে মৃদু ধরনের। কিন্তু এটি ম্যানিয়ার মতোই, তবে কম মারাত্মক লক্ষণ ও কম ক্ষতি নিয়ে উপস্থিত হয়। হাইপোম্যানিক এপিসোডে ব্যক্তির মুড ফুর্তিতে পরিপূর্ণ থাকবে, ব্যক্তি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ভালোবোধ অনুভব করে, বেশি আনন্দ অনুভব করে ও সৃজনশীল মনোভাবে আচ্ছন্ন থাকে। এই এপিসোডে দারুণ তরতাজা লাগে রোগীর, তাই এটা দেখে পরিবারের লোকেরা রোগীর চিকিৎসা অনেক সময় বন্ধ করে দেন, ফলে মাঝে মধ্যে এর জন্য মারাত্মক মূল্য দিতে হয়- কারণ এই হাইপোম্যানিয়াও অনেক সময় পরিপূর্ণ ম্যানিয়া বা বিষণœতায় রূপান্তরিত হতে পারে।

বাইপোলার ডিস-অর্ডার
মানসিক রোগ বাইপোলার ডিস-অর্ডার, এটা ম্যানিক ডিপ্রেসিভ ইলনেস নামেও পরিচিত। বাইপোলার ডিস-অর্ডারে প্রকাশ পায় রোগীর মধ্যেঝ দু’টি মানসিক অবস্থা। এগুলো হলো-
• ম্যানিয়া
• ডিপ্রেশন
বাইপোলার ডিস-অর্ডারে রোগীর মুড বা মন-মেজাজ সব সময়ই খুব ‘হাই’ থাকে, রোগী অল্পতেই বিরক্ত হয় এবং তা থেকে দুঃখ ও হতাশায় রূপান্তরিত হয়। এক সময় তা ঠিক হয়ে যায় এবং তা নরমাল মুড প্রিয়ডে চলে আসে। বাইপোলার ডিস-অর্ডার একটি মেডিক্যাল কন্ডিশন। এই রোগটি মানুষের চিন্তাধারা, অনুভূতি, শারীরিক সুস্থতা, আচরণ ইত্যাদির ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে। বাইপোলার ডিস-অর্ডার কারো কোনো অপরাধে হয় না, হয় না কোনো দোষ ত্রুটিতে কিংবা এটা কোনো অভিশাপ নয় এবং নয় প্রতিটি দুর্বল পার্সোনালিটির ফলাফল। বাইপোলার ডিস-অর্ডার বা ম্যানিক ডিপ্রেসিভ ইলনেস একটি চিকিৎসাযোগ্য মেডিক্যাল ডিস-অর্ডার এবং এই রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা রোগীকেই সুস্থতার আশীর্বাদ এনে দেয়; এনে দেয় দেহ জীবনে সুন্দর সমাধান, চমৎকার প্রতিকার-প্রতিরোধ।

প্যানিক ডিস-অর্ডার ও ধূমপান
ধূমপান ম্যানিক ডিস-অর্ডার সমস্যার ক্ষেত্রে খুব বেশি ঝুঁকি বহন করে। অনেক সময় ধূমপান নিয়মিত না হলে প্যানিক ডিস-অর্ডারেও অনিয়ন্ত্রিতভাব থেকে যেতে পারে। ১৯৯৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্যানিক ডিস-অর্ডারের জটিলতা ধূমপানের ফলে আরো বেড়ে যায় এবং তা সমস্যাকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।


লেখিকা: যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাসপাতালে
উচ্চতর প্রশিক্ষণরত

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫