ঢাকা, সোমবার,০১ মে ২০১৭

সাতরঙ

ফ্যা শ নে স্ট্রা ই প

রঙের ঝলক

সাবিরা সুলতানা

১৪ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পরনে ডুরে শাড়ি, খোঁপায় গোঁজা ফুল চোখে কালো কাজলÑ ষাট আর সত্তরের দশকে মেয়েদের সাজ বলতে এমন একটা দৃশ্যই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এই যে ডুরে শাড়ি বা স্ট্রাইপ এটাই ছিল একসময়ে ফ্যাশনের মূল ডিজাইন। কয়েক শ’ বছর ধরে কাপড়ের ডিজাইনে স্ট্রাইপ অন্যতম প্যাটার্ন হিসেবে চলে আসছে। এ বছরের ফ্যাশনে পুরনো স্ট্রাইপের প্রাধান্য নতুনভাবে থাকবে বলে ফ্যাশন ডিজাইনারদের অভিমত। কারণ, ২০১৭ সালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শোতে স্ট্রাইপ ফ্যাশনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছে। শুধু পোশাকে নয়, এক্সেসরিজেও ছিল এর বৈচিত্র্য। বিশেষ করে এ বছর মাল্টিকালার স্ট্রাইপ ফ্যাশন সচেতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাল্টি কালারের স্ট্রাইপে করা পোশাকগুলো যেমন আকর্ষণীয় তেমনি এলিগেন্ট। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেলিব্রেটিদের পরনেও স্ট্রাইপের পোশাক দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাইপ রয়েছে ডিজাইন হিসেবে। সরু, মোটা, আড়াআড়ি বা লম্বা, দুই রঙ বা একাধিক রঙা আবার চিকন-মোটার সমন্বয়েও ডিজাইনে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। আসলে স্ট্রাইপ এমন একটি এলিমেন্ট যা ডিজাইনাররা তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতেন পারেন পোশাকে।
এর আরো একটি সুবিধা হলোÑ স্ট্রাইপ যেকোনো পোশাকে ব্যবহার করা যায়। মেয়েদের শাড়ি, কামিজ, ওড়না, স্কাট, টপস থেকে শুরু করে যেকোনো ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্ট্রাইপের কাপড় অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। একই সাথে ছেলেদের শার্ট, পলো শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া প্রভৃতি পোশাকেও স্ট্রাইপের কাপড় বেশ প্রচলিত। অন্য দিকে, বলা যায় ছেলেদের পোশাকের অন্যতম ডিজাইন হচ্ছে স্ট্রাইপ।
চরকার প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার জাভেদ কামাল বললেন, স্ট্রাইপের কাপড় হচ্ছে এমন একটি উপাদান যা সব সময়ই স্ট্রাইলে থাকে। হয়তো প্রচলন কিছুটা কমে যায় তবে কখনো হারিয়ে যায় না। প্রতি বছরই আমরা কিছু পোশাকে স্ট্রাইপের কাপড় ব্যবহার করি। শাড়িতেও বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাইপের সাহায্যে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। কখনো এর সাথে থাকে অন্য মাধ্যমের কিছু কাজ। যেমন ব্রক, লেস, জারদৌসিরা, কাজ, এমব্রয়ডারি ইত্যাদি। এভাবে পোশাকে আনা হয় বৈচিত্র্য। আসলে স্ট্রাইপ নিয়ে নানাভাবে কাজ করা যায় আর ক্রোতারা বেশ পছন্দও করে। এ বছরের ফ্যাশনে মাল্টিকালারের ও মাল্টি ডিজাইনের স্ট্রাইপের একটা প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
স্ট্রাইপের কাপড়ের একটা সুবিধা হলো এসব পোশাক সব বয়সীরা পরতে পারেন অনায়াসে এবং সব ধরনের অনুষ্ঠানে। ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে যেমন গ্রহণযোগ্য তেমনি যেকোনো জমকালো অনুষ্ঠানেও পরা যায়।
মজার বিষয় হলো স্ট্রাইপ একসময় সমাজের সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না। একে নিয়ে ছিল নানা ধর্মীয় ও সামাজিক ট্যাবু। অপরাধী, হ্যান্ডিক্র্যাপ, সমাজবিরোধীদের পোশাক হিসেবে প্রচলিত ছিল স্ট্রাইপের পোশাক। এটি নিয়ে একটি গল্পও শোনা যায়। গল্পটি এমন চর্তুদশ শতকে ফ্রান্সে এক লোককে তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এই লোককে যখন আটক করা হয় তখন তার পরনে ছিল স্ট্রাইপের পোশাক। তখন অবস্থা এমন হয় যেকেউ স্ট্রাইপের কাপড় পরলে অন্যরা সেটা ভালোভাবে নিত না।
সময়ের সাথে সাথে এসব ধারণা বদলে গেছে। স্ট্রাইপ ধীরে ধীরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আজকের দিনে অন্যান্য গ্রাফিক প্যাটার্ন যেমন জ্যামিতিক নকশা, ফুলেল, এনিমেল প্রিন্ট প্রভৃতির মতো স্ট্রাইপও ফ্যাশন সচেতনদের পছন্দের একটি প্যাটার্ন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫