ঢাকা, রবিবার,২৩ এপ্রিল ২০১৭

সিলেট

জমি পেলেন ভূমিহীন রহিমা

কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৩ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১০:৫০


প্রিন্ট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রীজের নিচে বসবাস করা স্থানীয় ভূমিহীন জনপ্রতিনিধি রহিমা খাতুনের খুশির খবর। আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী এক সাহসী জনপ্রতিনিধি রহিমা খাতুন এর জীবনযুদ্ধের এক করুণ কাহিনী গত বছরের ১২ ডিসেম্ভর প্রকাশ হয় পাঠক প্রিয় দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায়। এই সংবাদে আলোচনায় আসেন রহিমা মেম্বার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার এর উদ্যোগে খাস জমির ১২ শতক জায়গা বরাদ্দ হয়েছে রহিমা খাতুনের নামে। তবে এখনও ওই ভুমি বুঝে পাননি রহিমা খাতুন।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মকদুছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে মেয়ে বড় হওয়ার আগেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তার স্বামী। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থ স্বামী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা রহিমা অসীম সাহস আর দৃঢ়প্রত্যয়ে নেমে পড়েন ঘটকের কাজে। মাসে দু-একটা বিয়ে সাজিয়ে চলত তার চার সদস্যের সংসার। দু-এক বেলা পান্তাভাত জুটলেও জুটেনি মাথা গোঁজার ঠাই। রহিমা খাতুনের স্বামীর বাড়িঘর না থাকায় মহাসড়কের ব্রিজের নিচে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে! দিন রাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচলা করছে রহিমা ও তার পরিবারের মাথার ওপর দিয়ে। ১২ বছর ধরে ব্রিজের নিচেই বসবাস করে আসছিলেন তিনি। মধ্য বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে আসতেই নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে, স্বামী-সন্তানসহ। শুরু থেকেই কোনো উপায় না পেয়ে নেমে পড়েন ঘটকালিতে। এ থেকে দেখা সাক্ষাৎ হতো এলাকার শিক্ষিত মহিলাদের সাথে। গ্রাম এলাকার লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আর বিভিন্ন গ্রামের নারী ও পুরুষের অনুপ্রেরণায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ীও হন। আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজো পরাজিত রহিমা। কিন্তু এখন দেখছেন সম্ভাবনার আলো।
ইউপি সদস্য রহিমা খাতুন বলেন, ইউএনও তাজিনা সারোয়ার এর আশু হস্তক্ষেপে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। এমন অনুসন্ধ্যানী সংবাদ প্রকাশের জন্য দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রহিমা খাতুন বলেন, নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ দেখে ইউএনও স্যার আমার পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং তিনি ঘর বাড়ী নির্মানের জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রহিমা বেগমকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, বিষয়টি আগে আমাদেরকে কেউ জানায়নি। আমি গনমাধ্যমে বিষয়টি জেনে খোজঁ খবর নিয়ে রহিমা বেগমকে পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নেই। অতঃপর তাকে ১২ শতক খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছি এবং এই ১২ শতক ভূমি খুব শীঘ্রই রহিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫