ঢাকা, সোমবার,২৪ জুলাই ২০১৭

প্রিয়জন

ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

স্বাধীনতা সংগ্রাম

ফাল্গুনী হাসান

১১ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটির নাম স্বাধীনতা সংগ্রাম। বাঙালির ইতিহাসে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত সব বীরত্বগাথাকে ধারণ করে
নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্যটি। লিখেছেন ফাল্গুনী হাসান
নতুন প্রজন্ম ’৭১-এর সংগ্রাম দেখেনি। একাত্তর সম্পর্কে জেনেছে বই পড়ে। বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে গল্প শুনে। মনের ভেতর মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তৈরি হওয়া ছবিটি যখন মূর্ত হয়ে ওঠে তখন চোখের সামনে দেখতে পায় স্বাধীনতা যুদ্ধের ভাস্কর্য। ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানার জন্য ভাস্কর্যের বিকল্প নেই। স্বাধীনতার পরে আমাদের দেশে নির্মিত হয়েছে অনেক ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যে মূলত তুলে ধরা হয়েছে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বিভিন্ন দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে সলিমুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল ও বুয়েটসংলগ্ন সড়ক দ্বীপে অবস্থিত সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটি হলো ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্য। ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।
ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৬-এর স্বাধীকার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান, ২৫ মার্চের কালরাত্রি, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ভাষণ, ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এই ভাস্কর্যটি। উল্লেখিত আন্দোলনসমূহে নিহত হয়েছেন এমন ১৮ জন শহীদের ভাস্কর্য রয়েছে এতে। সবার নিচে ভাষাশহীদদের ভাস্কর্য এবং সবার ওপরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যে আরো তুলে ধরা হয়েছে লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতীক আমাদের লাল-সবুজ পতাকা।
মূল ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’কে ঘিরে আরো অনেক ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে এ সড়ক দ্বীপে। এখানে ভাস্কর্য ১১৬টি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জগদীশ চন্দ্র বসু, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, লালন শাহ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শিল্পী সুলতান, জিসি দেব, সুভাস বোস, কামাল আতাতুর্ক, মহাত্মা গান্ধী, রাজা রামমোহন রায়, মাও সেতুং, ইয়াসির আরাফাত, কর্নেল ওসমানী, তাজউদ্দীন আহমদ, সিরাজ সিকদার প্রমুখের প্রতিকৃতি রয়েছে। সবটারই রঙ শ্বেতশুভ্র মূল ভাস্কর্য ছাড়া অন্যান্য ভাস্কর্যের গড় উচ্চতা তিন থেকে চার ফুট।
সবই শামীম সিকদারের গড়া। পাতা বাহার ও বর্ণিল ফুলগাছের সারির মধ্যে চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ভাস্কর্যগুলো। এগুলো ধরে রেখেছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অস্তিত্বকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫