ঢাকা, সোমবার,২৪ জুলাই ২০১৭

প্রিয়জন

প্রি য় জ ন পঙ্ ক্তি মা লা

১১ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

শিশির মাহমুদ
মৌমিতা ফিরে এসো তুমি

একজোড়া চোখের ইন্দ্রজালে-
অপেক্ষায় কাটিয়ে দিই হাজারও প্রহর।
অবসন্ন মন পথের বাঁকে এসেÑ
ছাড়ে নিথর শ্বাস-প্রশ্বাস!
বন্ধনহীন আকাশের রঙধনু আঙিনায়Ñ
তবুও দেখি না তোমার স্বপ্নিল চোখ!
ব্যাপারিদের শান বাঁধা পুকুর ঘাটেÑ
রাতের আঁধারে-আমার আঙিনায় আসবে বলে
Ñকতই না যুদ্ধ করেছ তুমি।
তবে কি আজ স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে-সমস্ত কিছু?
মাথার ওপরে খোলা আকাশÑ
ঘাস ফড়িঙের মাঠে সবুজ নিঃশ্বাসের ছোঁয়াÑ
এখনও তাড়া করে বেড়ায় আমাকে।
দূরত্ব যে দৌরাত্ম্য হয়Ñ
তা এতদিনে বুঝে গেছি মৌমিতা!
জানো, এখন আর আগের মতো কিছুই নেই!
বুনো পাখিরাও আর আগের মতো ওড়ে না
তোমাদের বেনারসি ঝিলে!
মৌমিতা, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,
তোমার সেই স্বপ্নান্ধ চোখÑ
এখনও কি সজল থাকে?
এখনও কি মুঠো-মুঠো প্রেম হৃদয়ে লুকায়েÑ
কারো প্রতীক্ষায় থাক তুমি?
সত্যিই তুমি কি ফিরে আসবে আবারÑ
আমার এই শূন্য হৃদয় প্রদেশে?
কথা দিচ্ছি, হিমশীতল ঠাণ্ডা সকালেÑ
গরম চাদর হয়ে আজয়ে রাখব তোমাকে!

রামপাড়া, নাটোর

ইয়াছিন খন্দকার লোভা
নদীর সাথে

ও নদী জানিস কি তুই
আমার ভেতর কেন এত কান্না?
আমার জলে বুকের ভেতর তোর মতো
এক নদী বহে ছলাৎ ছলাৎ।
যন্ত্রণা আর হতাশায়
নিত্য আমি খুন হচ্ছি নিজের ভেতর
তোর মতো এই আমারও
মাঝে মাঝে ঢেউ উঠে যায় নীল বেদনার,
জল গড়িয়ে চোখের কিনার
যায় ভেসে যায় অথৈ ঢেউয়ে।
তবু ও তুই খুব চুপচাপ
নিস্তব্ধতার ভরাট সুরে কাদিস না তো।
আর কতকাল এভাবে তুই
থাকবি পড়ে আশায় আসার সময় ধরে,
নিয়তিরা এমন কেন,
তোর তো তা ও জানা নেই, আজ অবধি
তোর হাতে হাতটি রেখে
বুকের উষ্ণ ছোঁয়া নিয়ে জানিস আমি বাঁচি নদী।

সিলোনীয়া বাজার, ফেনী

জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ
আমি তো এমন চাইনি

যদিও তুমি দিয়েছিলে পথ এগোবার সাহস;
বৈরাগী বাতাসের মুখোমুখির দাঁড়াবার পাহাড়সম শক্তি,
কলিজা বিদ্ধ করে আমিও নিয়েছিলাম সাগ্রহে
সুসময়ের চেয়ে অসময়ের কাছে বেশি জমা রাখে আমাকেÑ
আমি তো এমন চাইনি তোমার কাছে, স্বাধীনতা!
আমার ছনের কুঁড়েজুড়ে পড়ে থাকে কান্নার স্তূপ;
দিনের কাঁচা আলোয় হাঁটতে চেয়েছিলাম আমি নদীর বুক ঘেঁষে
কেন তবে আমার পায়ের তলায় থাকে না হাঁটা পথ;
আমি কি বেপথো বাঙালি নাকি তোমার প্রতিপক্ষ?
অসম আঁধারে আমাকে তলিয়ে রেখেছ তুমি;
ইচ্ছে কি হয় না আমার চোখ খুলে দেখি
সবুজ প্রকৃতির ছায়ানট
আমার রক্ত, প্রাণের উৎসর্গ এখানেই লুকিয়ে রেখেছি,
তুমি কি তবে দেখনি?
এখানেই মিশে আছে আমার মা-বোনের রূপ-রসের বিশুদ্ধ ছায়া;
দু-এক কদম হাঁটতে শেখালেও, সমবোধ নিয়ে চলতে শেখালেও
প্রতারক রাতের মতো সার্বভৌমত্ব নিয়েছ কেড়ে!
আমি তো এমন চাইনি তোমার কাছে...

সিরাজগঞ্জ


আবদুল কাদের আরাফাত
মন ভালো করার উপকরণ

বার বার ছুঁয়ে দেখি তোমার দেয়া ডায়েরি
খুঁজে ফিরি তোমার স্পর্শ
গুনে দেখি প্রতিটা পাতা
ক্ষুদ্র অংশও যেন হারিয়ে না যায়,
হাতের লেখার ধরণ মুখস্থ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হই
প্রতিবারই যেন নতুনরূপে আবিষ্কার করি
ছোট বাচ্চার লেখা এত সুন্দর হয়!
যখন মন খারাপের মেঘ ঘিরে রাখে
তামাম আশা কর্পূরের মতো
উড়াল দেয়ার প্রস্তুতি নেয়
তখন কি করি জানো?
নির্বাক তাকিয়ে থাকি সেই ডায়েরির দিকে,
খানিক মুচকি হেসে হাতে তুলে নেই
মনোযোগ দিয়ে দেখি, আবার রেখে দেই যথাস্থানে।
কষ্ট শোষণ করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা
রয়েছে কাগজের
জানা ছিল না কখনো,
ধুর! শুধু কাগজ হবে কেন
তোমার ছোঁয়া আছে বলেই তোÑ
এ কেবল ডায়েরি নয়
এই অবুঝের মন ভালো করার প্রধান উপকরণ ।
প্রিয়জন-১৬৫২

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫