ঢাকা, মঙ্গলবার,২৮ মার্চ ২০১৭

আলোচনা

চালিয়াতি সাহিত্য, সাহিত্যে চালিয়াত

বাসার তাসাউফ

০৯ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০৬


প্রিন্ট

উইলিয়াম হেনরি আয়র্ল্যান্ডের (১৭৭৭-১৮৩৫) যেমনি ছিলেন সাহিত্য প্রতিভা ও প্রখর বুদ্ধি তেমনি ছিলেন চালিয়াতির মানসিকতা। তার বাবা ছিলেন একজন বিখ্যাত পুস্তক ব্যবসায়ী, বিশেষত পুরনো বই, পাণ্ডুলিপি ও পুরাতত্ত্ব সংগ্রহে তার ছিল দারুণ আগ্রহ। মাত্র সাত বছর বয়সে একবার তার বাবার সাথে মহাকবি শেকস্পিয়রের জন্মস্থান দর্শনের জন্য স্ট্যাডফোর্ড অন অ্যাভনে গিয়েছিলেন। তখন থেকেই তার মনে শেকস্পিয়রের সম্মোহক প্রভাব। প্রবল উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে তিনি শেকস্úিয়র চর্চা করতে থাকেন এবং কালক্রমে তিনি একজন বিখ্যাত শেকস্পিয়র বিশারদ হয়ে ওঠেন। চলনে-বলনে পোশাকে সর্বত্রই তিনি শেকস্পিয়রীয় রীতিকে অনুকরণ ও অনুসরণ করতেন। কিন্তু এত করেও তার খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা এলো না। শেষ পর্যন্ত খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অন্য পথ ধরলেন। প্রথমে তিনি শেকস্পিয়রের স্বাক্ষর অবিকল নকল করেন। এরপর তার হস্তরেখারও। এ সময় তার প্রাথমিক পরিচয় একজন শেকস্পিয়রের সংগ্রাহক হিসেবে। নিজের রচিত বেশক’টি সনেট সেকস্পিয়রের অপ্রকাশিত সনেট নামে পত্রিকায় ছাপা হয়। কিছু কিছু নাট্যাংশও শেকস্পিয়রের অসমাপ্ত ও অপ্রকাশিত লেখা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের কাজকে সাহিত্যে চালিয়াতি বলা হয়।
উইলিয়াম হেনরি আয়র্ল্যান্ড কাজটি এত নিখুঁতভাবে করেছিলেন যে, তখন কারো মনে কোন সংশয় জাগে নি। লেখাগুলোর ‘ফুটনোটে’ লেখা হয়েছিল যে, একটি বাড়ির পুরনো কাগজপত্রের সাথে এ সমস্ত অপ্রকাশিত লেখা পাওয়া গেছে। এর পর আয়র্ল্যান্ড তার অমোঘ অস্ত্র ছুড়লেন। একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক রচনা করে শেকস্পিয়রের নামে চালিয়ে নিলেন। নাটকটির নাম দিলেন ঠঙজঞওএঊজঘ অঘউ জঙডঊঘঅ। এর উৎস হলিন শেডের ‘ক্রনিকল’। মাত্র আঠারো বছর বয়সে দু’মাস পরিশ্রম করে তিনি এ নাটক রচনা করেছিলেন। নাটকে শেকস্পিয়রের ভাব, ভাষা ও স্টাইল এবং হস্তাক্ষর একেবারেই নিখুঁতভাবে ছিল। কাগজ, কালি ও কলমের ব্যবহারেও আয়র্ল্যান্ড কম চাতুর্যের পরিচয় দেননি। এলিজেবেথিয়ান যুগের পুরনো বই থেকে সাদা কাগজ সংগ্রহ করে বিশেষ কালি ব্যবহার করেন। মূলত সব পাণ্ডুলিপিতে একটি শেকস্পিয়রীয় আবহ ও ভাব এবং উত্তাপ ফুটে উঠেছিল। যার বাইরের দিকটা চিন্তা করলে একে কেউ জাল বা চালিয়াতি বলে সন্দেহ করার অবকাশ পায়নি।
শেকস্পিয়রের একটি নতুন নাটক পাওয়া গেছে জেনে পুরো ইংল্যান্ডে কী বিপুল উৎসাহ, আগ্রহ,আনন্দ ও উন্মাদনা! স্বয়ং প্রিন্স অব ওয়েলস আয়র্ল্যান্ডের বাড়ি এসে তাকে অভিনন্দন জানালেন এ বিস্ময়কর আবিষ্কারের জন্য। ১৭৯৬ খিষ্টাব্দের এপ্রিল বিখ্যাত নাট্যকার মেরিভানের নির্দেশনা ও প্রযোজনায় ডরিলেন থিয়েটারে অসীম উৎসাহে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শেকস্পিয়রের নাট্য চরিত্রের দক্ষ রূপকার ও কীর্তিমান অভিনেতা কেম্বল। সেদিন এ নাটকের অভিনয় দেখার জন্য পুরো লন্ডন শহর উল্লাসে ভেঙে পড়েছিল। নাটকের রয়্যালিটি হিসেবে আয়র্ল্যান্ডকে দেয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার পাউন্ড। কিন্তু শেকস্পিয়রের নাটকের মহৎ উত্তাপ ও বিশালতা, গভীর জীবন দর্শন ও মানবমনের অন্তর্লীন রহস্য এবং দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের তীব্রতা আর ট্রাজেডির সেই রক্তক্ষরণ এ নাটকে ছিল না। নাটক হিসেবে ছিল খুব কাঁচা। তবুও দর্শক শ্রোতারা এমনকি শেকস্পিয়র বিশারদরাও একে শেকস্পিয়রের প্রথম জীবনের অপটু রচনা মনে করে আশ্বস্ত হয়েছিল। এভাবে চালিয়াতির মাধ্যমে বিত্ত ও খ্যাতি অর্জন করে শেষ পর্যন্ত আয়র্ল্যান্ড নিজেই একদিন সবাইকে তাক লাগিয়ে এ রহস্যের জাল উন্মোচনা করে দিয়ে বলেন, এ নাটক শেকস্পিয়রের নয়, তার নিজেরই লেখা শুধু খ্যাতি অর্জনের জন্য তাকে এসব করতে হয়েছিল।
ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (১৮২৫-১৮৯৫) নাটক, উপন্যাস ও ছোটগল্প মিলে প্রায় বারো শ’ গ্রন্থ রচনা করেছেন। কিন্তু একজন লেখকের পক্ষে কি এত গ্রন্থ রচনা সম্ভব? বাজারে তার বইয়ের বিপুল চাহিদা। বই বের হলেই হটকেকের মতো শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এমন হলো যে, বইয়ে শুধু ডুমার নাম থাকলেই হলো। ডুমাও গ্রহণ করলেন এ সুযোগ। ভাড়াটিয়া লেখকদের দিয়ে বই লিখিয়ে চালিয়ে দেয়া হতো তার নামে। এ সম্বন্ধে একটি সুন্দর গল্প আছে। একদিন ডুমা নাকি তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘তুমি আমার শেষ লেখাটা পড়েছ তো?’ ছেলেও তো আর কম নয়, সাথে সাথেই সে বাবাকে বলল, ‘তুমি নিজে পড়েছ তো বাবা!’
প্রসপের মেরিম (১৮০৩-১৮৭০) প্রথম জীবনে ছিলেন নামকুলহীন এক অজ্ঞাত লেখক। কেউ তাকে চিনত না এবং লেখক হিসেবে পাত্তাও দিত না। নাটক লেখায় ছিল তার ভীষণ শখ। অনেক নাটকও লিখেছিলেন, প্রকাশকরা তাকে বিমুখ করেছেন আর নাট্যকার হিসেবে কেউ তাকে স্বীকৃতিও দেয়নি। অবশেষে হতাশ হয়ে মেরিম খ্যাতি অর্জনের জন্য অন্য পথ ধরলেন। তার নিজের লেখা একটা নাটকই ক্লারা গাজর নামে এক মহিলার লেখা স্পেনিশ ভাষা থেকে অনুবাদ বলে চালিয়ে দেন। এমনকি অনুবাদের দায়িত্বটাও মেরিম নিজের ওপর বর্তায়নি, সেখানে এক কাল্পনিক অনুবাদকের নাম দেয়া হয়। গ্রন্থের সম্পাদনায় অতীব পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনায় মূল লেখক ও ফরাসি ভাষায় অনুবাদকের জীবনী ও সাহিত্যকর্মের ওপর বিস্তৃত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছিল। বইটি প্রকাশের সাথে সাথেই প্রসপের মেরিম পাঠক মহলে বিশেষত পণ্ডিত মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং এ বইয়ের মাধ্যমেই তিনি বিখ্যাত হয়ে পড়েন। এক বিজ্ঞ লেখক ও সমালোচক মূল লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদকের সম্পাদনার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, সম্পাদনা মোটামুটি ভালো হলেও অনুবাদ মূলের তুলনায় অনেকটা নিকৃষ্টমানের। হায়রে পাণ্ডিত্য! কোথায় মূল লেখক, অনুবাদক ও অনুবাদ! এ যে চালিয়াতের ওপর চালিয়াতি!
জোনাথন সুইফট শুধু ইংরেজি সাহিত্যে নন, সমগ্র বিশ্বসাহিত্যে একজন শ্রেষ্ঠ স্যাটায়ারিস্ট। তার ‘গালিভার ট্রাভেলস্’ প্রথমে বেনামিতে বের হয়। ভূমিকায় বলা হয়েছিল স্যামুয়েল গালিভারের সাথে প্রকাশকের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক শহরে অবস্থান করছেন। পাঠকের বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপনের জন্য বইয়ে একটি কল্পিত ছবি এবং তারিখসহ চিঠিও ছাপা হয়েছিল, যাতে কেউ কোনো সন্দেহ করতে না পারে। বইটি বের হওয়ার সাথে সাথে চার দিকে হইচই পড়ে যায়। এমন এক বিখ্যাত লেখককে অভিনন্দন জানাতে ও পরিচিত এবং বিশেষ করে সাক্ষাৎকার নিতে ইংল্যান্ড থেকে অনেকে পাড়ি জমান নিউ ইয়র্কে। কিন্তু কোথায় সে গালিভার!
অষ্ঠাদশ শতাব্দী ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ইংল্যান্ডে নতুন লেখকদের প্রতিষ্ঠা লাভ ছিল এক দুরূহ ব্যাপার। নতুনদের স্বীকৃতি দেয়া তো দূরের কথা, তাদের দিকে কেউ তাকাতই না। কাজেই খ্যাতি অর্জন ও প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য নবীন লেখকেদের অন্য পথ ধরতে হয়েছিল। এমনি একটা দৃষ্টান্ত জন ডিফোর ‘জার্নাল অব দ্য প্লেগ’। বইয়ের ভূমিকায় তিনি লেখেনÑ প্লেগের সময় ইংল্যান্ডে অবস্থানকারী একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বাস্তব বিবরণ। ইংল্যান্ডে অবস্থানকারী প্রত্যক্ষদর্শীর বাস্তব বিবরণ বললে বইটি পাঠক সমাজে বেশি সমদৃত হবে এবং পাঠকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবেÑ এ জন্যই এই চালিয়াতির আশ্রয় নিতে হয়েছিল ডিফোকে। বইটির বাস্তব এ মর্মস্পর্শী বর্ণনা ও করুণ আবেদনের জন্য সবাই ডিফোর প্রশংসা করেন এবং ডিফোও রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। অথচ এ বইয়ের বর্ণনা কোনো মতেই প্রত্যক্ষদর্শীর হতে পারে না। কারণ প্লেগের সময় ডিফোর বয়স হয়েছিল মাত্র ছয় বছর। বিখ্যাত ফরাসি লেখক ভলতেয়ারও সাহিত্য জগতে একদিন অপরিচিত ছিলেন। ‘কাদিদ’ই তাকে বিখ্যাত করে তোলে। অথচ এ বইয়ের প্রথম প্রকাশের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেনÑ ‘জার্মান লেখক ড. র‌্যালকের বই থেকে এর ফরাসি অনুবাদ।’ অথচ জার্মান ভাষায় এ ধরনের বই বা লেখকের অস্তিত্ব কোনো কালেই ছিল না। পরবর্তীকালে নাকি ভলতেয়ারের বন্ধুরা এ প্রসঙ্গ তুললে তিনি শুধু মৃদু হাসতেন। আমরা জানি ‘কাদিদই’ভলতেয়ারকে দিয়েছে সম্মান, খ্যাতি ও পরিচিতি।
টমাস চ্যাটারটন ছিলেন এক বিরল প্রতিভার অধিকারী কিন্তু তার এ প্রতিভা সুনিয়ন্ত্রিত পথে পরিচালিত হয়নি। কবি খ্যাতির জন্য কিশোর চ্যাটারটন অনেক চালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর পুরনো কাগজ সংগ্রহ করে এতে একটি কাব্য রচনা করেন। এরপর তিনি প্রচার করেন যে, পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি টমাস রাউলির একটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেছেন ব্রিস্টলের এক গির্জার পুরনো দলিলপত্রের বান্ডেল থেকে। কিশোর কবি চ্যাটারটন পঞ্চদশ শতাব্দীর হস্তাক্ষর, ভাষা, ছন্দ ও পরিবেশ এবং সে যুগের আবহকে এমনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, এ নিয়ে আর কারো কোনো সন্দেহই হয়নি। অথচ এ বইয়ের ভূমিকা ও সম্পাদনার মাধ্যমেই চ্যাটারটন প্রকাশক ও গবেষক মহলে বিখ্যাত হয়ে যান এবং পরবর্তীকালে যশস্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
স্কটল্যান্ডের পার্বত্য-অঞ্চলের অধিবাসী জেমস ম্যাকফারসন ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। প্রাচীন ‘গেইলিক উপজাতির’ কিছু কবিতা সংগ্রহ করে ইংরেজিতে অনুবাদ ও সম্পদনার মাধ্যমে তিনি গবেষক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে কোনো কোনো গবেষণা একাডেমি তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করে এ ধরনের আরো কবিতা সংগ্রহের জন্য। এ আর্থিক সাহায্যের লোভ ও মোহই তাকে নিয়ে যায় চালিয়াতির পথে। কয়েক দিন দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের গেইলিক উপজাতি এলাকায় ঘুরে এসে তিনি ঘোষণা করলেন, গেইলিক উপজাতির কিংবদন্তির বিখ্যাত যোদ্ধা ও কবি ওসিয়ানের একটি কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তিনি উদ্ধার করেছেন। ওসিয়ানের পিতা ফিঙ্গলের জীবন কাহিনী ও বিভিন্ন যুদ্ধে তার বীরত্বের বর্ণনা এ কাব্যের বিষয়বস্তু। আসলে এ কাব্যের ঘটনা ও পিণ্ডুলিপি ম্যাকফারসনের নিজেরই রচনা, বাজারে এর অনুবাদ বের হলে অনেকে চড়া দামে এ বই কেনেন। মূল পাণ্ডুলিপি আর কেউই দেখতে আসেনি। অথচ বিস্ময়ের বিষয়Ñ ওসিয়ানের প্রভাব গ্যায়টে শিলার ও শাতোরিয়া প্রমুখ জগৎবিখ্যাত লেখকদের ওপরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ওসিয়ানের সব ঘটনাই ম্যাকফারসনের চালিয়াতি।
সাহিত্যে এ ধরনের ঘটনা আমাদের দেশেও অনেক ঘটেছে। তবে পর্থক্য এখানেই যে, পাশ্চাত্যের লেখকেরা নিজের লেখা অন্যের নামে ছাপিয়ে নাম করেছেন, আমাদের দেশে অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অবশ্যি এর কিছু কিছু ব্যতিক্রমও হয়েছে। যেমন বঙ্কিম ও রবীন্দ্রনাথ নিজের লেখা অন্যের নামে চালিয়েছেন।

বুদ্ধদেব বসু সম্বন্ধে একবার শনিবারের চিঠির সংবাদ সাহিত্যে লেখা হয়েছিল, এতদিন না জেনেশুনে বুদ্ধদেব বসুকে আমরা অনেক প্রশংসা করেছি, কিন্তু ইদানীং ধরা পড়েছে তার লেখার যেটুকু ভালো তা সবটুকুই ইংরেজি থেকে অনুবাদ মাত্র। মূল ইংরেজি আর বুদ্ধদেব বসুর লেখা একই সাথে তুলে ধরা হয়েছিল। অবশ্যি এ মন্তব্যও করা হয়েছিল যে, তবে এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, বুদ্ধদেব বসু ভালো ইংরেজি জানেন।
আমাদের দেশে অনেকেই ইংরেজি ও ফ্র্যান্স সাহিত্যের খবর তেমন রাখেন না। অথচ যারা ভালো ইংরেজি ও ফ্রান্স ভাষা জানেন, তারা সেখান থেকে নিয়ে মৌলিক বলে চালিয়ে দেয়ার চালিয়াতি করে থাকেন। এমন চালিয়াতের সংখ্যা একেবারে কম নয়। আমার বন্ধুকে কবি খ্যাতির ভূত পেয়ে বসেছিল। অনেক করেও জাতীয় কোনো পত্রিকায় লেখা ছাপাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নিজের লেখাকেই অনুবাদ বলে জাতীয় পত্রিকায় ছাপিয়েছে। সাহিত্যে এ ধরনের ঘটনা অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আমরা শুধু বলব, পর প্রভাবকে আত্মস্থ করে লেখা আর লেখাকে নিজের নামে চালিয়ে দেয়া এক নয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫