ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৪ আগস্ট ২০১৭

কবিতা

প্রিয় অনুজ কবি নূরুল হক

আল মুজাহিদী

০৯ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩২


প্রিন্ট

আমার কাব্যসহযাত্রী অনুজদের প্রায় সকলেই মেধাবী। কবি নূরুল হক আমার প্রিয় অনুজ এবং তার কবিতায় আমি প্রতিনিয়ত মৃত্তিকা ও প্রকৃতির সদা সতেজ ঘ্রাণ অনুভব করি। কবিতার ঘোরে কবিতার মোহে অনেক কিছু উৎসর্গকারী কবিদের মধ্যে নূরুল হক অন্যতম।
কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া এ কবি শৈশব কৈশোরসহ জীবনের অনেকগুলো সময় অতিবাহিত করেছেন চট্টগ্রামে। সেখানেই তার কবিতার ভীত রচিত হয়।
মানুষের গভীরে প্রোথিত হয় মনুষত্বের বীজকণা। কালের মাটি ও ধূলিতে তা বেড়ে ওঠে। একজন কবির জীবন প্রান্তরে রক্তকমল প্রস্ফুটিত হয়-তাই তার কাব্যিক আকর। সেখান থেকেই কবির কাব্য যাত্রা। কাবিতিক কাল কৃষ্টি সৃষ্টি করে। কবি নূরুল হক সেই কাবিতিক অভিযাত্রার এক শুভ নান্দনিক অভিযাত্রী। তার করতলে অতি সহজে উঠে আসে শ্যামল প্রান্তরের ধূলিকণা, তৃণলতা গুল্মরাজি। আর পুষ্পময় মানবিক ঐশ্বর্যে। মানুষের জীবনতো দুঃখময় সুখময়-আনন্দময় বিষাদময় এক অসমাপ্ত উপাখ্যান কিংবা ক্রমাগত সৃষ্টিশীল এক মহাকাব্য। কবির কবিতায় উদ্ধৃত হয়েছে-
‘আমার কবিতা নয় দূরগামী, থাকে সন্নিকটে
শ্যামল প্রান্তর ঘন বনরাজি কারো সোনা মুখ
আমার হৃদয়ে বাসা বেঁধে থাকে, নয়তো কুহুক
অদৃশ্য অস্তিত্ব জুড়ে থাকি আমি মানবিক তটে
আমার কবিতা হয়ে যায় কারো সুখদুঃখগাথা’
(এক মুঠো ছায়া)

মানুষের একটি সমাজ যতটুকু দৃশ্যমান আবার ততটুকুই অদৃশ্যমান। সমাজের যতটুকু বস্তুগত যতটুকু অবস্তুগত-স্রষ্টা যে ভাবে ধারণ করেন, একজন কবিও তার স্মৃতিসত্ত্বার মধ্য দিয়ে একটি নিরিখে তা আত্মস্থ করার প্রয়াস পান। কবি নূরুল হকও সে প্রয়াসের নিরন্তর প্রয়াসি। কবির প্রকৃতি অখণ্ড মানব প্রকৃতির একটি দৃশ্যরূপ মাত্র। সমাজের প্রতিটি স্তরে যে ঐক্য সাম্য যে বৈষম্য বৈপরীত্য বিদ্যমান, কবি তার দিব্য দৃষ্টিতে তা অবলোকন করেন। কবি নূরুল হক সমাজের ও পৃথিবীর দৃশ্যপটের আধারেও নক্ষত্রবনে আলোকের চাষ করতে চান- 
‘যদি পারো দুঃখগুলো এ আঁধারে করে নিও পাঠ
খোদাই করেছি তার কিছু কিছু তোমার গভীরে
আমি আর বলবো না ছাইভস্ম। সমুদ্র সমীরে
উড়ুক তোমার চুল, শস্যফলা সবুজাভ মাঠ
আমাকে বুঝনি কেন ! কেন ভাঙ্গো বাসনার কুল
এখন নক্ষত্র বনে চাষ করি আলোকের ফুল’
(এক মুঠো ছায়া)
নিসর্গ প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মে চলে। নিয়ন্তা নিয়ন্ত্রণ করেন সবকিছু। কবিও প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির সমস্ত উপাচার কবিরা উপভোগ করে চলেন। আমি রত্ন ধারণ করি না কবিতায়-

‘আমি অরণ্যের কথা বলি
অরণ্যের নিসর্গতা পান করে
চিরহরিৎ পত্রভূষণে আচ্ছাদিত হই
আমি বেড়ে উঠি সবুজের সমারোহে
পাতার উদাসীন মর্মরে, বিকশিত হই ক্লোরোফিলে’
(ছিন্ন ভিন্ন পঙ্ক্তিমালা)

নূরুল হক কবি ফজল শাহাবুদ্দীনের অন্তরঙ্গ সান্নিধ্য পেয়েছেন। কবি ফজল শাহাবুদ্দীন পঞ্চাশের প্রস্বর কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের মূলধারার কবিদের প্রধান সারিতেই মুদ্রিত তার নাম। মায়াবী সংসার ও পৃথিবীর দীপ্র প্রখর রৌদ্রকরোজ্জ্বল উঠান থেকে চলে গিয়েছেন অন্য কোথাও। অন্যলোকে আর এক কল্যাণ মঙ্গলালোকে। অনন্তের অন্ধকার অন্তরালে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন তিনি। তার অন্তিম যাত্রার প্রাক্কালে নূরুল হক লিখেছেন
‘যাবে যদি যাও
সাথে নিয়ে যাও
তোমার কবিতার খাতা
ডিমের হলুদমাখা ভোরের মুগ্ধতা
এবং আমার এক মুঠো ছায়া...
এটি তার এলিজি-বিম্বিত একটি কবিতার দৃশ্যপট। কবি ফজল শাহাবুদ্দীন অনন্তের মৃত্তিকায় শয্যা পেতেছেন। সেই অনশ্বর অবস্থানে তিনি শান্তিতে থাকুন। কবির জন্য এ কবির প্রার্থনা। আমার এ ক্ষুদ্র লেখাটি একটি এক্সটেমপর প্রয়াস।
কাব্যের স্বদেশ ভূমে নূরুল হক আরো সত্যসারিত ও সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি ৮ই মার্চ তার জন্মদিন। এই বসন্তের সুবাতাস যেন বয়ে যায় তার কবিতার বিষুবরেখা স্পর্শ করে॥

 

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫