ঢাকা, রবিবার,২৮ মে ২০১৭

ধর্ম-দর্শন

মুসাফাহ মুমিনের শিষ্টাচারের প্রতীক

জব্বার করিম

০৯ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:৪৬


প্রিন্ট

মুসাফাহ বলতে বাংলায় করমর্দন ও ইংরেজিতে হ্যান্ডশ্যাক করাকে বুঝায়। ইসলামে মুমিনের জীবনে মুসাফাহের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। মুসাফাহ’র সাথে মুমিনের আদব, আখলাক, শিষ্টাচার ও ইসলামি মূল্যবোধ সম্পৃক্ত। ইসলামে মুসাফাহ হলো শিষ্টাচার তথা ভদ্রতার প্রতীক। মুসাফাহ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মুসাফাহ করার মাধ্যমে মুমিনের উদারতার প্রকাশ পায়। একজন মুমিন অপর মুমিনের সাথে দেখা সাক্ষাতের সময় মুসাফাহ করলে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। মুসাফাহ দ্বারা পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। ইরশাদ হয়েছে,‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভয় কর আর মুসলমান হওয়া ব্যতীত কখনো মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত:১০২-১০৩)।
দেখা সাক্ষাতের সময় মুসাফাহ করলে পরস্পরের ছোট ছোট গুনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দেন। মুসাফাহ পরস্পরের হিংসা, বিদ্বেষ ও মনোমালিণ্যে দূর করে সৌহার্দ্য বাড়িয়ে দেয়। মুসাফাহকারীর চোখে চোখে দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে আল্লাহ উভয়ের অন্তরে প্রীতি ও ভালোবাসা সঞ্চার করে দেন। দীর্ঘ দিনের লালিত পালিত মনের ক্ষোভ দুশমনি আল্লাহ দূর করে দেন। মুসাফাহ প্রতিশোধ গ্রহণের উত্তম হাতিয়ার। মুসাফাহ করলে কঠিন শত্রুর মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। প্রায়শই দেখা যায়, ব্যক্তি পর্যায়ের সামান্য কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সমাজে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়। অনেক সময় খুনখারাবির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। ইরশাদ হয়েছে,‘ তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কথা মনে করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতঃপর আল্লাহ পাক তোমাদের একের জন্য অপরের মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন, অতঃপর তোমরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের ‘ভাই’ হয়ে গেলে।’ (সূরা আল-ইমরান, আয়াত : ১০৩)।
মুসাফাহ করার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া সম্পর্কে হজরত বারা ইবনে আযেব রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘দু’জন মুসলমান পরস্পর সাক্ষাৎ হওয়ার পর যদি তারা মুসাফাহ অর্থাৎ করমর্দন করে তবে তাদের পৃথক হওয়ার পূর্বেই তাদের গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যায়।’ (আহমদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় রয়েছে, ‘যখন দুজন মুসলমান মিলিত হয়ে পরস্পর করমর্দন করে এবং আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তখন তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেয়া হয়’। এছাড়া মুসাফাহা’র মাধ্যমে হিংসা ও শত্রুতা দূর হওয়া সম্পর্কে হজরত আ’তা খোরাসানী র: হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একে অপরের সাথে করমর্দন কর। এতে তোমাদের মনের হিংসা দূর হয়ে যাবে, আর পরস্পরের মধ্যে তোহফা-উপহার আদান প্রদান কর। তাতে প্রীতি-ভালোবাসা বর্ধিত হবে এবং শত্রুতা দূর হয়ে যাবে।’ (ইবনে মালেক)।
মুসাফাহ করার কিছু নিয়ম পদ্ধতি রয়েছে। কারো সাথে মুসাফাহ করার আগে সালাম দেয়া সুন্নত। মুসাফাহ সব সময় ডান হাতে দিয়ে করতে হয়। সাক্ষাৎ প্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের প্রাক্কালে এবং সাক্ষাৎ পর্ব শেষে বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে মুসাফাহ করে বিদায় সুন্নত। তবে বড় কোনো মজলিসে প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার সময় সবার সাথে মুসাফাহ করার প্রয়োজন নেই। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে মুসাফাহ করে কুশল বিনিময় করলেই চলবে। মুসাফা দাঁড়িয়ে করা উত্তম। সালামের মতো ধনী-গরিব সবার সাথে মুসাফা করা যায়। ইচ্ছাকৃতভাবে মুসাফাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করা ইসলামে শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ। এছাড়া মুসাফাহর সাথে মুমিনের উদারতা প্রকাশের বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত। মুসাফাহর মাধ্যমে মুসলমানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। এক মুমিন অপরজনের সাথে সাক্ষাৎ কালে মুসাফাহ করা হজরত রাসূল সা:-এর সুন্নত। মুসাফাহ মুসলমানের ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। মুসলমানের সাম্য ও উদারতার পরিচয় প্রকাশ করে।

লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫