ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

থেরাপি

ধর্মঘট মানে ভাব দেখার দিন

ইব্রাহীম রাসেল

০৯ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পরিবহন ধর্মঘটে কার বা কাদের উসকানি ছিল এ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের সুরাহা আদৌ হবে কি না সন্দেহ। ভোগান্তি যা হওয়ার তা তো হয়ে গেল আমজনতার। কিন্তু এই ধর্মঘটে কিছু মানুষের ভাব হয়ে গেল আকাশচুম্বি। চলুন তাদের ভাব দেখে আসিÑ
অফিস যাবো বলে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি কোনো গাড়ি নেই। দু-একটা রিকশা চোখে পড়ছে, তাও খালি নেই। আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে একটা খালি রিকশা পেলাম। মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি-১৫ যেখানে ৩০ থেকে ৪০ টাকার ঊর্ধ্বে ভাড়া হয় না, সেখানে ১০০ টাকা চাইল। বললাম এত ক্যান ভাই? রিকশাওয়ালা চেইতা উঠল। বললÑ আপনে মনে হয় চান্দের দ্যাশ থাইক্যা আইছেন। ধর্মঘট চলছে আপনে জানেন না? বললামÑ তাতে তোমার কী? রিকশাওয়ালা এবার আরো চেইতা বললÑ অত কতা কইতে পারুম না, গ্যালে ওডেন, নাইলে নাই। এই বলে সে রিকশা টানা শুরু করল। আমার তো উপায় নাই, ১০০ টাকায় শেষে যেতে হলো। রিকশাওয়ালার হাব-ভাব দেখে মনে হলো ধর্মঘট রাজ্যের সেই রাজা। আমি নাদান প্রজা।
অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে সবজি বাজারে ঢুকলাম। রোজকার মতো অত সবজির পশরা চোখে পড়ল না। ছিটেফোঁটা সবজি নিয়ে বসে আছে সব সবজিওয়ালা। এক সবজিওয়ালা কিছু শিম ও লাউ নিয়ে বসে আছে। বললামÑ ভাই লাউ কত? আরো চার-পাঁচজন কাস্টমার ভিড় করে আছে। দুই-তিনবার জিজ্ঞেস করলামÑ লাউ কত? সবজিওয়ালা যেন শুনছেনই না। শেষমেশ এমন একটা ভাব নিয়ে বললেনÑ যেডা লন ১০০। বললামÑ এইটুকু লাউ ১০০!! তিনি উত্তরে বললেনÑ আসমান থাইক্যা পড়ছেন? এইডা যে পাইতাছেন তাই কপাল। সব বন্ধ। লাউ আইবে ক্যামনে। আমার পাশে দাঁড়ানো দুইজন ১০০ টাকা দিয়ে লাউ দুটো কিনে নিলো। আমি হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। সবজিওয়ালা আমাকে টিটকারি করে বললÑ অইহানে খাড়াইয়া থাহেন, লাউ আর কেনোন লাগব না।
রিকশাওয়ালা আর সবজিওয়ালার ভাব দেখে মাছ বাজারে ঢুকবো কি না দ্বিধায় পড়ে গেলাম। হঠাৎ মনে এলো বাসার ফ্রিজেও মাছ নেই। মাছের দরকার। হেঁটে হেঁটে মাছ বাজারে ঢুকলাম। ধর্মঘট তাই মাছের আমদানি কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক ইলিশ মাছওয়ালা ছয়-সাতটি ইলিশ নিয়ে বসে আছে। তাকে ভিড় করে বেশ ক’জনা ক্রেতা। আমি কোনোরকম উঁকি মেরে একটি মাছ দেখিয়ে জানতে চাইলাম দাম কত? ৪০০ গ্রাম-ট্রাম হবে মাছটি। মাছওয়ালা বললÑ ১২০০ টাকা। বললামÑ এইটুকু মাছের দাম এত? তিনি বললেনÑ এইডাই মানুষ পায় না, আমনে কন এইটুকু? আমনে কী মঙ্গলগ্রহে থাহেন। ধর্মঘট চলছে হোনেন নাই? মাছ আইবো কোত্থাইকা! ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে সবাই জ্ঞান দিচ্ছে। ভাবলাম কথা বাড়ালে কথা বাড়বে। তাই কথা না বাড়িয়ে বললাম-মাছটি কী ৬০০ টাকায় দেয়া যায়? মাছওয়ালা আমাকে শোনাল-৬০০ টাকায় আজকে মাছ খাওন লাগবো না, মাছ ধুইয়া পানি লইয়া যান। মাছওয়ালার এমন কথা শুনে ইচ্ছে করছিল ওর মাছ দিয়া ওরে পিটাই। কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক মহোদয়রা সবাই ১২০০ টাকা দিয়ে মাছ কিনে ব্যাগ ভরছেন। মাছওয়ালার এই বেয়াদবির কেউ কোনো প্রতিবাদ করল না। কি আর করার এক হালি ডিম কিনে বাসার পথ ধরলাম। ভাগ্যিস ডিমওয়ালা আজ বেশি দাম চায়নি। তিনি বোধহয় জানেন না আজ ধর্মঘট।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫