ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

দেশ মহাদেশ

সা ক্ষা ৎ কা র : বিল গেটস

মহামারীর হুমকিতে বিশ^

০৯ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রশ্ন : মিস্টার গেটস, বিশেষজ্ঞরা বারবার মহামারী সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন। ২০০২ সালে শ্বাসযন্ত্র বিকলকারী সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল, ২০০৫ সালে হানা দিয়েছিল বার্ড ফু, ২০০৯ সালে থাবা বসিয়েছিল সোয়াইন ফু। তবে কোনোবারই মহামারীটি বিশ্বজুড়ে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালাতে পারেনি। তবে এখন আপনি বলছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কোনো একটি মহামারী বিস্তৃত হয়ে তিন কোটি লোকের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। আপনি কি মনে করেন, লোকজন এ আশঙ্কা শুনছে?
বিল গেটস : সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কোনো মহামারী না হওয়ার মানে এই নয়, এমনটা আর ঘটবে না। আমরা নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী মহামারীর জন্য প্রস্তুত নই। তবে সেটা প্রাকৃতিক মহামারী হবে নাকি মানবসৃষ্ট পরিকল্পিত জীবাণু অস্ত্র হবে তা বলা কঠিন। তবে কিছু একটা ঘটবেই। আর এ কারণেই আমাদের কিছু করার প্রয়োজন।
প্রশ্ন : ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফু ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মারা গিয়েছিল পাঁচ কোটি মানুষ। তাহলে আপনি এখন প্রায় এক শ’ বছর পর কেন ভাবছেন, বিশ্ব এখনো অপ্রস্তুত?
বিল গেটস : একটি কারণ হলো, মানুষ ওই ঘটনা ভুলে গেছে। আপনি যদি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওই যুদ্ধটির চেয়ে বেশি লোক মারা গেছে মহামারীতে তবে বেশির ভাগ লোক বলবে : তুমি কি গাঁজাখুরি গল্প শোনাচ্ছো? প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কী ছিল, আমি জানি। দুই বিশ্বযুদ্ধের মাঝখানে কী কোনো বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল? প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লোকজন সফরে বের হয়েছিল। এ কারণে সংক্রমণের হার ছিল অনেক বেশি। আর এখন ভ্রমণের হার বেড়ে গেছে।
প্রশ্ন : অন্য কারণ কী কী?
বিল গেটস : বিশ্ব যে দিন দিন আরো ভালো হচ্ছে, সে ব্যাপারে আমার খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে খুব দেরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে খারাপ হতে পারে : পরমাণুযুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মহামারী ঘটতে পারে। বর্তমানে আমরা পরমাণুযুদ্ধের বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিতে তত গুরুত্ব দিচ্ছি না। আর মহামারীকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছি না। বিশ্বের কোনো দেশই, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে ভালোভাবে প্রস্তুত নয়। এমনকি নিজেকে রক্ষার জন্য কোনো একটি দেশকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হলে তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে। মহামারী প্রতিরোধের জন্য আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতার আশ্রয় নিতে হবে। এটা একটা বৈশ্বিক বিষয়। আমরা পরমাণু অস্ত্রপ্রাপ্তি থেকে যেমন লোকজনকে বিরত রাখছি, মহামারী প্রতিরোধের জন্যও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্ন : মহামারী প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে একটি সমস্যা হলোÑ বিজ্ঞানের একটি বড় অংশই দ্বৈত ব্যবহারে সম্পৃক্ত। নতুন নতুন সরঞ্জাম ভাইরাসের বিরুদ্ধে যেমন লড়তে পারে, তেমনি আবার সেগুলো অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
বিল গেটস : রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার ব্যাপারে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ভালো খবর। ১৯৯০ সালে প্রতি ১০টি শিশুর একটি মারা যেত পাঁচ বছরের আগে। এখন সেটা কমে ২০টি শিশুর একটিতে নেমে এসেছে। এটা ১০ শতাংশ থেকে গেলে আরো ১২ কোটি ২০ লাখ শিশু রক্ষা পেত। দুর্ভাগ্যজনক খবর হলো, অরাষ্ট্রীয় উপাদানগুলোর জন্যও কোনো কোনো প্যাথোজেন তৈরি সহজ করে দেয়া হয়েছে। এটাই মহামারীর সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক, সব ধরনের মহামারীর জন্যই তৈরি থাকতে হবে।
প্রশ্ন : সরকারগুলোর প্রস্তুতি একটি বিষয়। কিন্তু সবাই কি টিকা নিতে চায়? মনে হচ্ছে, টিকা নিয়ে সংশয় আবার বাড়ছে। হয়তো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ব্যাপারে জনসাধারণের আস্থা কমে আসছে বলে।
বিল গেটস : কোনো মহামারী হলে অবশ্যই লোকজন টিকার ব্যাপারটি গ্রহণ করে নিত। আমি কোনোভাবেই তা চাই না। তবে লোকজনকে টিকার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে হলে তাদের মহামারীর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। টিকার কারণেই গুটিবসন্ত নির্মূল করা গেছে, পোলিও নির্মূল হওয়ার পথে। এগুলো টিকার অনন্য সাফল্য। অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়েও টিকা বেশি সফল। টিকা চরমভাবে পরীক্ষিত। তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বোধগম্য। টিকার কারণে অটিজম হয়, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে তার পরও কিছু কথাবার্তা লোকজনকে বিভ্রান্ত করে।
প্রশ্ন : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো লোক যখন বলেন, টিকার কারণে অটিজম হয়, তখন লোকজন এ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়। নির্বাচনের সময় তিনি অ্যান্ড্র্রু ওয়েকফিল্ডের মতো বিজ্ঞানীর সাথে দেখা করেছিলেন। এই বিজ্ঞানী বানোয়াট তথ্য দিয়ে তার অটিজম তত্ত্ব দাঁড় করাচ্ছেন। এটা কি টিকা সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থা হ্রাস করছে না? বিজ্ঞান এবং তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে ট্রাম্পের অবস্থান কী?
বিল গেটস : আমি মাত্র একবার ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেছি ডিসেম্বরে তার নির্বাচনের পর। টিকা সম্পর্কে তার মনোভাব জানার সুযোগ আমার হয়েছিল।
প্রশ্ন : মনে হচ্ছে আপনি তেমন সফল হননি। জানুয়ারিতে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ট্রাম্প আবারো অটিজম তত্ত্ব নিয়ে একটি কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছেন। মনে হচ্ছে, টিকার ব্যাপারে প্রচণ্ড বিরোধী রবার্ট এ কেনেডিকে তিনি খুঁজছেন এ নিয়ে নির্দেশ দেয়ার জন্য।
বিল গেটস : প্রশাসন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কিছুই করেনি। তারা এমনটা করবে, আমি ভাবতেই পারছি না। যদি করা হয়, তবে তা হবে খুবই খারাপ বিষয়। বৈজ্ঞানিক কমিশন গঠন করা হলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে বলেই মনে হয়।
প্রশ্ন : আপনি বলছেন, আপনি আশাবাদী। আপনি মনে করেন, পৃথিবী দিন দিন আরো ভালো হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কি এই ভাবনা আপনাকে নিঃসঙ্গ করে দেয়?
বিল গেটস : প্রতিনিয়ত আরো ভালো হচ্ছেÑ এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তারপরও আমি বলছি, এখন খুব বড় সমস্যা নেই। তবে ভালো কিছু ঘটে ধীরে ধীরে। এর প্রচারও হয় না। অথচ সহিংসতা ও দুর্যোগের নিউজ ভ্যালু রয়েছে। এখন যদি আপনি বলেন, অতীতের চেয়ে এখন কম সহিংসতা হচ্ছে, তবে লোকজন তা শুনে অবাক হয়ে যাবে। কিন্তু সিরিয়া বা সুদানে এমন কিছু হতে থাকলেও সত্য ঘটনা হলো, এখন এসব জিনিস কম ঘটছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫