ঢাকা, মঙ্গলবার,৩০ মে ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

পারাবত এক্সপ্রেস : দেখতে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট

সাদেক আহমেদ

০৭ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:৩৩


প্রিন্ট

রেলপথে আমি একজন নিরীহ যাত্রী। চাকচিক্যে ভরা পারাবত ট্রেনে চড়ে মনে হয়েছিল, আমরা বোধ হয় একটু ভালো সেবা পাবো। এর মধ্যে যাত্রীসেবার নামে যা দেখতে পাচ্ছি, তা এখানে প্রকাশ করছি। ব্রিটিশের রেখে যাওয়া রেলকে আমরা আধুনিক উন্নত দেশের সাথে খাপ খাইয়ে জনগণের সেবাদানের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে পারছি না। ব্রিটিশের রেখে যাওয়া চা বাগানগুলো সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। দুঃখ লাগে তখন, যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেই পেশায় চাকরি পেতে হিমশিম খেতে হয়। সবাই রাজনৈতিক লেবাসের মাধ্যমে বড় বড় পদ দখল করে নেয়। তাই রাষ্ট্রের সর্বত্র অব্যবস্থাপনা। আজ চাহিদার তুলনায় চার গুণ লোকবল রেলওয়েতে নিয়োগ দিয়ে জনস্বার্থে কোনো কাজ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তার ওপর আছে রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের বাড়তি চাহিদা ও চাপ, যা জনস্বার্থের বা যাত্রীসেবার সাথে সাংঘর্ষিক। রেলপথে সিলেট অঞ্চলের লোকের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে, যেমন অ্যাটেনডেন্টের জন্যও বাড়তি টাকা টিকিটের সাথে সংযোজন করে নিচ্ছে। তারপরও চলার পথে যাত্রীসেবায় তাদের কোনো অ্যাটেনশন থাকে না। তাদের লক্ষ্য থাকে, কিভাবে অতিরিক্ত লোক ঢুুকিয়ে বেসামাল অবস্থা করা যায়। অনেক সময় ভিক্ষুক, হকার, হিজড়াদের দৌরাত্ম্য এত বৃদ্ধি পায় যে, তাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় যাত্রীরা চুপ থাকেন। প্রতিবাদ করলে ওরা একজোট হয়ে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। তারা সিটের হাতলে বসে যায়, নিষেধ থাকলেও তারা সেখানে বসে পড়ে। অন্যায়ের নেই কোনো প্রতিকার। প্রতিবাদ করার কি নেই কোনো পথ?
এই দেশ ছিল নদীমাতৃক। আজ নৌপথও দূষিত ও সঙ্কুুচিত হয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ৪ মার্চ মৌলভীবাজার থেকে লোক পাঠিয়ে পারাবত ট্রেনের বগির জ-২২ নম্বর টিকিট সংগ্রহ করেছিলাম। তবে দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখানে বর্ণনা করার তাগিদ বোধ করছি। কোনো রকমে সিটে বসতে যেয়ে দেখলাম, হকাররা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এক ছেলে মানিব্যাগ ধরে টান দিয়েছিল। কোনো রকমে সিটে ব্যাগ রাখি। নিচে নেমে একটা পাথর নেয় সে এবং জানালা দিয়ে পাথর ছুড়ে মারে। অনেক যাত্রী মোবাইলে এই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। মহান আল্লাহর রহমতে পাথরটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বগিতে লাগে। তারপরেও এক যাত্রী মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। আমরা সাথে সাথে নেমে রেলওয়ে পুলিশ ও অ্যাটেনডেন্টকে জানানোর পর পাশেই পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সব সদস্য এসে বাঁশি বাজায়। ট্রেনটি অনেকক্ষণ স্টেশনে ছিল, যেহেতু আরেকটি ট্রেনের ক্রসিং হবে। ওই ছেলেটা টোকাইদের দম্ভ করে বলছিল বড় পাথর ছোড়ার কথা। দু’টি ছেলে ৫ মিনিট পর আমাদের কম্পার্টমেন্টে এসে জানায়, নেশাগ্রস্ত টোকাই ছেলেটার নাম কাশেম। যাত্রীদের যে পদে পদে বিপদ, তা আঁচ করতে পেরে আল্লাহর নাম নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হলাম। রেলওয়ে স্টেশনগুলোকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পূর্ণ নিরাপত্তার বলয়ে আনা উচিত। স্টেশনগুলো যেন ফেনসিডিল ও মাদকের অভয়ারণ্য। শ্রীমঙ্গল স্টেশনের দক্ষিণ দিকে ফেনসিডিলসহ মাদকের আখড়া বলে মনে হয়। আমরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কিছুই করতে পারছি না। সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের বদৌলতে আমরা কল্পা শাহর মাজারের পাশ দিয়ে বাইপাস রেলওয়ে লাইন পেয়েছিলাম। তাই তার জন্য আমাদের দোয়া থাকবে। সিলেটবাসীর টাকা বা মালের অভাব নেই। রেলওয়েতে কোটি কোটি টাকা ঢালা হচ্ছে, কিন্তু কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছি না। মৌলভীবাজারবাসীর জন্য আলাদা কোটা নেই বা মৌলভীবাজার থেকে টিকিট কাটার ব্যবস্থাও নেই। তাই শ্রীমঙ্গল এসে টিকিট করতে হয়। সিলেটের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা আমেরিকা প্রবাসী হয়ে থাকা নিরাপদ মনে করছেন। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে সিলেটবাসীর কল্যাণে চলার পথে কিংবা ঢাকায় পৌঁছে কমলাপুর থেকে বিভিন্ন রুটে নিরাপদে পৌঁছে দিতে মাইক্রোবাস কিনে দিতে অনুরোধ করব। সিলেটের সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং বিশেষ করে রেলমন্ত্রীকে বলব, আধ্যাত্মিক রাজধানী তথা হজরত শাহজালাল রহ:-এর পুণ্যভূমি সিলেটের রেলওয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিয়ে ডাবল লাইনে সিলেটকে সংযুক্ত করুন। তা ছাড়া পুলিশকে যাত্রীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫