ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ওমানকে পথের কাঁটা হতে দেবে না বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৬ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ২১:১১


প্রিন্ট

বাংলাদেশ হকির ইতিহাসে দীর্ঘতম শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত ছিল শ্রীলঙ্কার নাম। কোনো-না-কোনোভাবে যেকোনো টুর্নামেন্টে কিংবা কোয়ালিফাইংয়ে শ্রীলঙ্কাই হতো প্রধান বাধা। গত কয়েক বছর ধরে সে ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দ্বীপরাষ্ট্র্র শ্রীলঙ্কার হকি সেনারা কোনোভাবেই কুলিয়ে উঠছে না টাইগার হকি যোদ্ধাদের সাথে। তবে শ্রীলঙ্কার জায়গাটি অবধারিতভাবে দখল করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচের দেশ ওমান। তারাই এখন হকি টার্ফে বাংলাদেশের পথের কাঁটা। যদিও প্রধান কোচ অলিভার কার্টজ ও অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি একইভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ওমানকে কোনোভাবেই পথের কাঁটা হতে দেবে না বাংলাদেশ।
ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টুয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওমান। র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকা ওমানের (৩১) জয়ের পাল্লাটাও একটু ভারী। সর্বশেষ ৬ সাক্ষাতে ওমান জিতেছে ৩ বার। বাংলাদেশ জিতেছে ২ বার। একটি ড্র। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয় ছাড়া ভিন্ন কিছু চিন্তা করছে না বাংলাদেশ শিবির। বাংলাদেশ জয়ী হলে গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে কোয়ার্টারে খেলতে হতে পারে ঘানার বিপক্ষে। গতকাল প্র্যাকটিসের আগে জিমির ভাষায়, ‘আমরা এখনই ঘানা নিয়ে ভাবছি না। আমাদের চিন্তায় শুধু ওমান। তাদেরকে হারিয়ে পরে ঘানাকে নিয়ে ছক কষব।’
সহজভাবে জিমি ব্যক্ত করলেও অতীত ইতিহাস পর্যালোচনায় দু’টি দিক বেরিয়ে আসে। প্রথমত, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে যখনি কোনো ভাইটাল ম্যাচ থাকে তখনি শত্রু হিসেবে ওমান সামনে এসে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার ইপোতে এশিয়া কাপে স্থান নির্ধারণীতে ওমানের কাছে হেরেই অষ্টম। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন এশিয়ান গেমসেও তাই। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টু-এর দিকে তাকালেই আরো স্পষ্ট। সেবার ৩-৩ গোলে ড্র করার পর শুট আউটে ৪-৩ গোলে বাংলাদেশের হার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয় ওমানের বিপক্ষে অসহায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ত, সুখের বিষয়গুলো হলোÑ ঘরের মাটিতে ওমান কখনোই বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি। এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে বরাবরই হেরেছে ওমান। নিজেদের মাঠে জিমি-চয়নরা বলতে গেলে ওমানকে নিয়ে ছেলেখেলাই খেলে। তা ছাড়া ওমানের বিপক্ষে বেশির ভাগ জয়ই বাংলাদেশের।
এবার সুবিধার আরো একটি দিক হলো ওমানের সাবেক কোচ ছিলেন অলিভার। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের কোচ। বিপক্ষ দলের নাড়ি-নক্ষত্র সবই তার জানা। এ বিষয়ে অলিভার বলেন, ‘আমার সময়ের কয়েকজন দলে নেই। তবে হ্যাঁ, এটা বাংলাদেশের জন্য সুখের বিষয় যে, ওমানের ৯০ ভাগ টেকনিক আমার জানা। বিষয়টি হলো আগামীকাল মাঠে আমরা কতটুকু প্রয়োগ করতে পারছি। তারা পেনাল্টি কর্নারেও ভালো। চেষ্টা থাকবে সেটি হতে না দেয়া।’
ম্যাচ নিয়ে অলিভার আরো বলেন, ‘অনেকেই পেনাল্টি কর্নার নিয়ে কথা বলেন। আমিও একমত। চেষ্টা চলছে। ওভারকাম করবে। তবে শুধু পিসির দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। ফিল্ডের দিকেও মন দিতে হবে। সব দিক থেকেই পারফেক্ট হতে হবে। যাতে দলের কোনো দুর্বলতা না থাকে। পজিশনগুলোতে আরো বেশি অ্যাকটিভ থাকতে হবে।’
ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক জিমি বলেন, ‘পেনাল্টি কর্নার থেকে সাকসেস পেলে সত্তর ভাগ এগিয়ে থাকব। ফিজির বিপক্ষে যে ভুলগুলো হয়েছে সেটির ভিডিও সেশন করে আজ (গতকাল) সেগুলো শুধরানোর চেষ্টা চলবে। আমাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা দেয়া হয়। সেভাবেই আমরা এগোই। ওমান যেভাবে এগিয়েছে, আমরা সেভাবে এগোতে পারিনি। একটা সময়ে দেখা যায়, আমাদের কার্যক্রম থেমে আছে। সেই ফাঁকেই অন্য দেশগুলো এগিয়ে যায়। র‌্যাংকিংয়েও এগোতে পারি না। আগামীতে যাতে ওমানের সাথে খেলতে না হয়, ফেডারেশনকে সেই চেষ্টাই করতে হবে। আমাদেরও ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে। দলের কাছে চাওয়া থাকবে ফিজির সাথে যে মিসিং ছিল সেটি যেন না হয়। পিসি যারা মারেন তারা স্কোরিংয়ে ফিরবেন। আশা করব জুনিয়র-সিনিয়রে যেন সমন্বয় থাকে। একটি সুযোগ পেলেও যেন সেটি কাজে লাগাতে পারি।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫