ঢাকা, সোমবার,২৪ জুলাই ২০১৭

নারী

প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন থাকে তার কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার : নাসরীন জাহান নজরুলসঙ্গীত শিল্পী

০৬ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সঙ্গীতজীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পার করেছেন নজরুলসঙ্গীত শিল্পী নাসরীন জাহান। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের আধুনিক গান ও নজরুলসঙ্গীতের ‘এ’ গ্রেডের নিয়মিত শিল্পী তিনি। ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব গানপাগল নাসরীন জাহান। সঙ্গীতচর্চা শুরু পাঁচ বছর বয়স থেকেই। বাবা-মা দু’জনই সঙ্গীতের অনুরাগী ছিলেন। বাবা নাজমুল হক তৎকালের রেডিও বাংলাদেশ ঢাকা কেন্দ্রের উপপ্রধান প্রকৌশলী আর মা ছিলেন নজরুলসঙ্গীত শিল্পী মনোয়ারা বেগম। সঙ্গীতের মধ্যে বেড়ে ওঠা নাসরীন জাহানের হাতেখড়ি মায়ের কাছে হলেও সঙ্গীতে বিশেষভাবে তালিম নেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, নারায়ণ চন্দ্র বসাক, তপন কান্তি বৈদ্য, সুধীন দাস, সোহরাব হোসেন, অঞ্জলি রায় ও আজাদ রহমানের কাছ থেকে। নতুন কুঁড়ি, আধুনিক গান, নজরুলসঙ্গীতের প্রতিযোগিতাগুলোতে শৈশব থেকেই অংশ নেন এবং পুরস্কৃতও হন। মা মনোয়ারা বেগম রেডিও পাকিস্তানের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। পরে রেডিও বাংলাদেশেও তিনি গাইতেন। বাড়িতে বিভিন্ন শিল্পীর আসা-যাওয়া, গানের জলসা হওয়া, মায়ের সাথে রেডিও বাংলাদেশে যাওয়া, রেকর্ডিং দেখা সব কিছুই নাসরীন জাহানকে আরো বেশি গানের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। পড়াশোনা, খেলাধুলার পাশাপাশি চলতে থাকে গানের তালিম। মা-বাবার অনুপ্রেরণা ও তত্ত্বাবধানে আজকের একজন সফল নজরুলসঙ্গীত শিল্পী হতে পেরেছেন তিনি। বৈবাহিক জীবনেও স্বামী আমিনুল ইসলাম সব সময় গানের বিষয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন। একমাত্র মেয়ে ফাইজাকে পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাও করিয়ে যাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও তিনি সঙ্গীতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ছায়ানট থেকে নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমি থেকে উচ্চতর বৃত্তিমূলক শিক্ষা নেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে কৃতিত্বের সাথে এমএসএস পাস করেন। দীর্ঘ দিন স্কুলশিক্ষিকা হিসেবে নিয়োজিত থেকেও তিনি সুরের সাধনায় নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী হিসেবে নজরুল ইনস্টিটিউট ও নজরুল পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচালনা কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ২০০৪ সালে ‘উদাসী বেণু বাজে’ নামে একটি সিডি বের হয়েছে। বর্তমানে দুটো নজরুলের ও একটি আধুনিক গানের সিডির কাজ চলছে। আর ওস্তাদ অসীদ দের কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম নিচ্ছেন। শিল্পী বলেন, ‘উচ্চাঙ্গসঙ্গীত না শিখলে প্রকৃত সঙ্গীত শুদ্ধভাবে গাওয়া হয় না। নজরুলসঙ্গীতের বৈচিত্র্যময় শ্যামাসঙ্গীত, ঠুমরি প্রভৃতি শুদ্ধভাবে শিখতে হবে। সঙ্গীতের প্রতি দরদ ও আন্তরিকতা থাকতে হবে। শুধু গাওয়ার জন্য গাইলেই হয় না, গানটাকে উপস্থাপন করতে শ্রোতার মধ্যে গানের মর্ম ও আবেদন পৌঁছে দিতে হবে। নজরুল অনুরাগী হিসেবে নাসরীন জাহান বলেন, নজরুলকে মনে ধারণ করতে হবে, তার সুরের ভুবনে বিচরণ করতে হবে। সঙ্গীত সাধনার বিষয়, প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন থাকে তার কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার। গানের অনুষ্ঠানের মধ্যে নজরুলসঙ্গীত খুব কম প্রচার হয়। এত টিভি চ্যানেলে এত রকম সঙ্গীতবিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচার হয়; কিন্তু সেখানে নজরুলসঙ্গীত বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু জাতীয় কবি নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে কিছু অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। অন্য সময় নিয়মিত কোনো অনুষ্ঠানই প্রচার হয় না। যার জন্য প্রকৃত শিল্পীরা আড়ালেই থেকে যায়। আর নতুন শিল্পীরা কাজ পাচ্ছে না, তাই তারা নজরুলসঙ্গীতের সাধনা ছেড়ে আধুনিক গানের দিকে ঝুঁকছে। নজরুলের আবিষ্কার, অবদান, ত্যাগ সব বঞ্চিত হচ্ছে। নজরুলসঙ্গীত আমাদের সম্পদ, এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। নজরুলসঙ্গীত প্রচার হলেই হবে না, এর প্রসারও হতে হবে। সরকারি উদ্যোগে নজরুলের ওপর গবেষণা, নজরুলসঙ্গীতের চর্চা, সিডি বের করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। বেসরকারি উদ্যোগে, গণমাধ্যমগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে নজরুলের সুরের ধারা। পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে নজরুলের গানের বীণা। আমি আমার সঙ্গীতশিক্ষার্থীদের এই সঙ্কল্পই করছে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আমি সঙ্গীতের ভুবনেই বিচরণ করে সবার ভালোবাসা পেতে ও নজরুলসঙ্গীতের সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
সাক্ষাৎকার : বদরুন নিসা নিপা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫