ঢাকা, বুধবার,২৬ এপ্রিল ২০১৭

বিবিধ

জয়ে জয়োৎসব হলো না বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৫ মার্চ ২০১৭,রবিবার, ২০:৪৩


প্রিন্ট

বাংলাদেশ ৫-১ ফিজি
(চয়ন (২), জিমি (২), আশরাফুল) (হেক্টর জুনিয়র)

ম্যাচ শেষেই দেখা গেল ভিআইপি গ্যালারি থেকে রাসেল মাহমুদ জিমিকে নিয়ে স্লোগান। সাথে ঢোলের বাদ্যি বাজনা। তারা যতটা উৎসাহে জিমি জিমি বলে চিৎকার করছিল, বর্তমান দেশসেরা হকি আইকন ততটা আনন্দ নিয়ে তাদের জবাব দিতে পারছিলেন না। যেখানে তার নামের পাশে লেখা থাকতে পারত কমপক্ষে অর্ধডজন গোল। সেখানে মাত্র দু’টি। উভয় দলের র‌্যাংকিংয়ে বিস্তর ফারাক। বাংলাদেশ ৩২। ফিজি ৫৬। নিজেদের মাঠে ফিজিকে নাস্তানাবুদই করার কথা। আক্রমণও চলেছিল সেভাবে। কিন্তু সে তুলনায় সফলতা আসেনি। উঠেপড়ে লাগলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তির মিলন ঘটেনি। যে কারণে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম জয়ের মুখ দেখলেও জয়োৎসবটা সেভাবে উদযাপন হয়নি।
হবেই বা কিভাবে। ফিজির বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় বড্ড বেমানান। যেভাবে মুড়িমুড়কির মতো পেনাল্টি কর্নার পেয়েছে বাংলাদেশ, সেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তিন পিসি স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন, খোরশেদুর রহমান ও আশরাফুল। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তারা। ১৩টি পিসি থেকে গোল হয়েছে মাত্র তিনটি। দু’টি চয়নের কল্যাণে অপরটি আশরাফুলের। সাতটি পিসির মাঝে চয়ন দু’টিতে কৃতকার্য। প্রথম গোলটি পেয়েছেন তার নিজের চতুর্থ এবং দলের সপ্তম পিসিতে। আর আশরাফুল চারটি থেকে একটিতে গোল। একটি পিসি মিস করেন খোরশেদ। বাকিটি সারোয়ার স্টপ করতে পারেননি। সাধারণ দর্শকেরা এমন পিসি মিসে চরমভাবে হতাশ। অবশ্য পিসি মিসের এ ধারা শুরু হয়েছে ঘানা বিপক্ষে প্র্যাকটিস ম্যাচ থেকেই। তাদের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে ১৩ পিসি থেকে গোল এসেছে মাত্র তিনটি।
বাংলাদেশ যে খারাপ খেলেছে তা কিন্তু নয়। ২২ বার গোলে শট নেয়া এবং প্রতিপক্ষের ডি সীমানায় ৪৩ বার আক্রমণ চালানো চাট্টিখানি কথা নয়। অতি আত্মবিশ্বাসের ফলেই কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায়নি। প্রথম কোয়ার্টার তো গোলশূন্য। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে অর্থাৎ ২৬ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। সপ্তম পিসি থেকে কৃষ্ণা-সারোয়ার-চয়নের কম্বিনেশনে গোল (১-০)। মাত্র ৬ মিনিট পরই ম্যাচে সমতায় আসে ফিজি। বাংলাদেশের ১৩ পিসির বিপরীতে একটি মাত্র পিসি পায় তারা। সেটিকেই শতভাগ কাজে লাগিয়ে গোল। মার্টিন-আদ্রিয়ান-হেক্টর কম্বিনেশনে সমতা (১-১)। সাতটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে ৩৭ মিনিটে নিজের প্রতি বিশ্বাস ফিরে পান রাসেল মাহমুদ জিমি। মাঝমাঠ থেকে কামরুজ্জামানের সাথে সুন্দর আদান-প্রদানে প্লেসিং পুশে গোল (২-১)। ৪১ মিনিটে আবারো রোমানের কাছ থেকে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফিজির জালে বল জড়ান জিমি (৩-১)। শেষ কোয়ার্টারে উপর্যুপরি আঘাত হানেন ফিজি শিবিরে। দশম পিসি থেকে গোল আদায় করে নেন চয়ন (৪-১)। আরো দু’টি মিসের পর ১৩তম পিসি থেকে গোল করেন আশরাফুল (৫-১)।
সারা ম্যাচে মাত্র চারবারই বাংলাদেশের গোলপোস্টে শট নিতে পেরেছে ফিজি। তবে শেষ কোয়ার্টারে তারা লাল-সবুজদের সীমানায় একবারের জন্যও আসতে পারেনি। বিকেএসপির কোচ কাওসার আলী, শেখ মো: নান্নু ও মওদুদুর রহমান শুভর পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশ ৪৩ বার ঢুকেছে ফিজির বিপদ সীমানায়। বিপরীতে ফিজি মাত্র ছয়বারই আসতে পেরেছে বাংলাদেশের বিপদ সীমানায়। জিমিরা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ২৪ বার বল কেড়ে নিলেও ফিজি নিয়েছে ১৮ বার। তবে ফাউলের বাঁশি বেজেছে প্রায় সমান। বাংলাদেশ ২৮ বার, ফিজি ২২ বার। স্টিক বলে খেলা হয়েছে মোট ৪০ মিনিট। তন্মধ্যে বাংলাদেশ ২৪ মিনিট বল রাখতে পেরেছে আর ফিজি ১৬ মিনিট। জিমিরা একটি গ্রিন কার্ড পেলেও ফিজিকে দেখতে হয়েছে একটি হলুদ ও একটি গ্রিন কার্ড।
এই গ্রুপ থেকে মালয়েশিয়া দু’টি ম্যাচ জিতে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। তাদের শুধু ফিজির বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। আগামীকাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওমান। তারা ফিজিকে ৭ গোল দিলেও গতকাল মালয়েশিয়ার কাছে হেরেছে ৬-১ গোলে। বাংলাদেশ তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে ওমানের বিপক্ষে জয় ছাড়া বিকল্প নেই। অন্য গ্রুপে মিশর শীর্ষস্থানের দিকে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় সারিতে আছে চীন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫