ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

নির্বাচনের মুখে ফারাক্কা বাঁধ

মিনা ফারাহ

০৪ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ১৯:০৫


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

মহাকাশে অবস্থিত আওয়ামী স্যাটেলাইট থেকে আর কত লাখবার সিগন্যাল পাঠানোর পর সুপার বুদ্ধিজীবীরা বুঝবেন নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করলে অর্থ, সময় ও রক্তক্ষয়ের প্রাপ্তি একটাই। ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত প্রতিবারই ক্ষমতায় যেতে চায় আওয়ামী লীগ। অসহায় বিএনপি না হয় চলন্ত ট্রাকের তলে মাথা দিয়ে মরতে পাগল হয়ে গেছে; কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের সমস্যা কী? জুরিসপ্রুডেন্স বলেন, অন্যায়কারীর চেয়ে বড় অপরাধী যে নাকি অপরাধ ঘটানোয় সমর্থন জোগায়। আবারো রক্তক্ষয় এড়াতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিকতা ও মানসিকতা। এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের চৈতন্য উদয় না হওয়া অভিশপ্ত আইনটির চেয়েও বড় অভিশাপ।
‘মানেন বা না মানেন এই নির্বাচন কমিশনই থাকবে’ আইনমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর নির্বাচনের তল্পি গোটানো উচিত আওয়ামী লীগ ছাড়া সব দলের। হাইকমান্ডের বিয়াই খন্দকার মোশাররফ বলেন, ২০৪১ পর্যন্ত এই নেত্রীকেই ক্ষমতায় আনতে হবে, তাহলে বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র হবে (১১ ফেব্রুয়ারির দৈনিক পত্রিকা)। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- হাছান মাহমুদ (১৭ ফেব্রুয়ারি, নয়া দিগন্ত)। এর পরও নির্বাচন কোথায় দেখা গেল, আমি তো দেখছি না।
প্রথম আলো ১০ ফেব্রুয়ারি, ‘পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিমত নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।’ প্রশ্ন- সংবিধান বলার পরও ইসিকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে বুদ্ধিজীবীরা বলার কে? এ দায়িত্ব সংবিধান দিয়েছে কি না! ঘোষণা করে নিজেকে নিরপেক্ষ ইসি প্রমাণের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? সতীত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই, প্রমাণ শরীরেই। ৫ জানুয়ারিই সেই ‘ছেঁড়া সতীচ্ছেদ’।
উদ্দেশ্য রোগী মারা যাচ্ছে, কিন্তু অপারেশন সাকসেসফুল করেই ছাড়বে বরং সসম্মানে গণতান্ত্রিক অধিকারকে মরতে দেয়াই মর্যাদাপূর্ণ। বুদ্ধিজীবীদেরই বলা উচিত নির্বাহীর অধীনে যতবার নির্বাচন হবে, প্রতিবারই শপথ নেবে আওয়ামী লীগ এবং সেই ব্যবস্থাই ১৫তম সংশোধনীতে।
২.
গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পদ্মার কী সর্বনাশ করা হলো, জানে পদ্মাপাড়ের মানুষ। সংবিধানের মুখে নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের বাঁধ দিয়ে গণতন্ত্রের কী ক্ষতি করা হলো, জানে সারা বিশ্বের মানুষ। আমেরিকার কথা বাদই দিলাম, এমনকি ভারতের ভোটারদের কয়জন ইসির নাম জানে? তাহলে আমাদের বেলায় কার স্বার্থে বারবার রকীবউদ্দিন তামাশা?
মুগাবে, কিম জং, সিসিÑ রুশ-মার্কিন ব্লকের রাজনৈতিক সন্তানদের ক্লাবে যোগ দিয়ে দেশের কী সর্বনাশ করছে, সেটাই গবেষণার বিষয়। পার্থক্য একটাই আফ্রিকানদের দেশে বুদ্ধিজীবীদের উৎপাত নেই। যারাই ক্ষমতা দখল করে, পারলে আইনি লড়াই করে বিদায় করে ছাড়ে না পারলে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়, এটাই বাস্তবতা।
তবে ড. আকবর আলি খানের গণভোটের প্রস্তাবটি শতভাগ সঠিক। সমস্যা এই দেশে একমাত্র ভোট হচ্ছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। নির্বাচন নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে পেট্রোডলার পরাশক্তিগুলো। একমাত্র সমাধান যেকোনো মূল্যে নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের আইনটি বাতিল করা।
জাতিসঙ্ঘের অধীনে অন্যান্য দেশে নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগের বেলায় অলৌকিক। কারণ ৫ জানুয়ারির রাজনৈতিক সন্তানকে ক্ষমতায় রাখা একাধিক পরাশক্তির পকেটে জাতিসঙ্ঘের ভয়ঙ্কর ভেটো পাওয়ার। এ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করলে ৫ জানুয়ারি-কেন্দ্রিক রক্তক্ষয়ের পরও মানবাধিকার ভঙ্গের প্রমাণ কোনো কাজেই লাগাতে পারল না ভিন্নমত!

যে ব্যক্তি দ্রুত বডি ল্যাংগুয়েজ বুঝতে সক্ষম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা এড়াতে সক্ষম। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ঘোষণাকালে ১০ হাজার মাইল দূরে বসে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে সাধারণ বুদ্ধিতে যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। সমস্যা অতি বুদ্ধিজীবীদের, দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে যারা চামচ দিয়েই সমুদ্র সেচছেন। ভুয়া গান্ধীর যন্ত্রণায় পারা গেল না। মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইটের সঙ্কেত অনুযায়ী ২০৫০ পেরিয়ে বংশপরম্পরায় ক্ষমতায় থাকবেন এরাই। অতএব নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন আর বেসিক ডেমোক্র্যাসির তফাত থাকলে বলুক।
৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তর ‘১৪ দলের তালিকায় সিইসিসহ চারজন পরিকল্পিত না কাকতালীয়? ১০ ফেব্রুয়ারি, ব্যর্থ বিএনপি, হতাশায় বেপরোয়া -কাদের।’ ১০ ফেব্রুয়ারি, নয়া দিগন্ত, নুরুল হুদা কমিটেড আওয়ামী লীগার। নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে আসতে হবে বিএনপিকে -ওবায়দুল কাদের। মানবজমিন, ১২ ফেব্র“য়ারি, সর্বশেষ চালেও আওয়ামী লীগের বাজিমাত।’ জুলাই ২০১১ থেকে হারিকেন দিয়ে নির্বাচন খুঁজছি!
শামসুজ্জামান দুদু, ‘নির্বাচনের আগেই হাসিনাকে সরে যেতে হবে।’ অর্থাৎ নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আর নিরস্ত্র অবস্থায় সিংহের খাঁচায় প্রবেশ এক।
বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলেছে, ‘৭২-এর সংবিধানে ফেরা নয়, নির্বাচন দিয়ে প্রতিবারই ক্ষমতায় থাকার আইনি কূটকচাল। ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাহীই ক্ষমতায় এবং কাউকে পাওয়া না যেতেই অগ্রিম ব্যবস্থা অভিশপ্ত আইনটিতে।’ ২০৪১ পর্যন্ত প্রোগ্রাম দেয়ার কারণ বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্টের প্রয়োজন নেই।

২০১১ সালে নিষিক্ত ভ্রুণটি পরিপূর্ণ মানবসন্তান, এখন মাতৃগর্ভে এর শিকড়। পাঁচ বছর পরপরই শিশুটি ভূমিষ্ঠ হবে। হয় জেল, নয় নির্বাচন- আগামী সংসদে এরশাদের পথে খালেদা এবার কি অবৈধতার প্রশ্নটি মুছে ফেলবেন? নেপোলিয়ানের কথাই ঠিক, বুদ্ধিজীবীরা নীরব থাকলে দেশ অন্ধকার হয়ে যায়। নিরপেক্ষ ইসির ম্যারাথনে যোগ দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ডুবিয়ে মারার ব্যবস্থা করলেন ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনরা।
প্রশ্নÑ নির্বাহীর অধীনেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা কেন? তত্ত্বাবধায়ক বাতিল না করলে অর্থনীতির চাকা বন্ধ হতো না, প্রমাণ ৯ বছরের জিডিপি। নিম্ন থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার বছরেই মাথাপিছু আয় কেন এক ডলার কমল, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রশ্ন। তাহলে অর্থনীতির টাকা নিচ্ছে কারা? সর্বত্রই প্রমাণ, অবৈধ ক্ষমতা দখলের সুবিধা নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে কানাডা, ফিন্যান্সিয়াল ক্রিমিনালদের উত্থান। অন্যথায় ৫ জানুয়ারির সরকারের আয়ু হতো ঊর্ধ্বে দুই মাস।
১৬ কোটি মানুষের দেশে দেশ চালানোর মতো যোগ্য বিকল্প সত্যিই নেই? ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না’ বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানেন, বিকল্প অবশ্যই আছে এবং তার অধীনেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিলেই এক মিনিটে প্রমাণ হবে। তাহলে নয় কেন? ফলে ঝলসে যাওয়া নতুন গীতা সরকার কিংবা ৯২ দিনের আন্দোলন ইতিহাস হবে। এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও রোগী মারা সাকসেসফুল অপারেশনের প্রয়োজন শেষ। সমস্যা তখনই যখন ন্যাশনাল ক্রাইসিসের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাই আইনের লোক। তারাই আইন ভঙ্গের প্রমাণ দিয়ে ভরে ফেলেছেন আদালত।
‘জেলের পথে খালেদা’ মিডিয়ার খবর। সংসদকে বৈধ বানাতে যেভাবে খালেদাকে টানাহেঁচড়া, আদালতের মাঠে এসব অগণতান্ত্রিক দৃশ্য পৃথিবীর আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে আছে কি? এমনকি পাশের দেশ ভারতের কাছেও কিছু শিখতে পারত। এমন একটি ঘটনা সেখানে ঘটলে যা হতো, আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি। ইসি দিয়ে নয়, ভোট চুরি করিয়েছিলেন ইন্দিরাই। ’৪৭-পরবর্তী ভারতে সেটাই একমাত্র আওয়ামী লীগের মতো দৃষ্টান্ত। জরুরি অবস্থায় বাধ্য করে সেনাবাহিনীকেও নামাল। কিন্তু ভোট চুরি করলে কিছুই হয় না, এ কেমন গণতন্ত্র বাংলাদেশে!
১৫তম সংশোধনী ধর্মগ্রন্থ কিংবা প্রত্যাহার অযোগ্য (ইরোভেকেবল) ট্রাস্ট, দুটোর একটিও নয়, বরং সংশোধনী করতে লাগে উভয়পক্ষের ভোটাভুটি। ক্ষমতাসীনদের চেয়ে বিরোধী দলের গুরুত্ব বেশি। সংবিধান তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য সরকারের ক্ষমতা সীমিত করা। এমনকি বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন সাধারণ আদালত। আমাদের সংসদে বিরোধী দল থাকলে দেখাক। সুতরাং আর একটিও ৫ জানুয়ারি নয়।
৯ ফেব্রুয়ারি বার্নিকাট-কাদের সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রদূতের অভিমত পরিষ্কার। এমন কিছু জেনেছেন, যা বার্নিকাটের পক্ষে বলা অসম্ভব। নির্বাচনে বিএনপিকে অপ্রাসঙ্গিক করার পরিষ্কার ইঙ্গিত কাদেরের বক্তব্যে।

জেনেশুনে অন্যায়ে সমর্থন দিলে অপরাধের পরিমাণও সমান। জুলাই ২০১০ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে ১৫তম সংশোধনী বিষয়ে ১৫ সদস্যের বিশেষ পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন। ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে বিএনপির বয়কট। আট মাসের নাটক শেষে এপ্রিল ২০১১-তে হাইকমান্ডের মন্তব্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়সীমা সীমিত করা হবে। কিন্তু বাতিলের কথা বলেননি। ২৯ মে ২০১১-তে তত্ত্বাবধায়ক সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন করার প্রস্তাব। এক দিন পরই হাইকমান্ডের ইউটার্ন। প্রস্তাবের বদলে নির্দেশ, তত্ত্বাবধায়ক বাতিল হবে। কারণ মে ২০১১-তে সুপ্রিম কোর্টের রায়। পরবর্তী দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হওয়ার বিষয়টি হারিয়ে গেল। ২০ জুন ২০১১-তে পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করল সুরঞ্জিতদের কমিটি। বিরোধী দলের বয়কটে থাকা অবস্থায় ১৫তম সংশোধনী পাস।
ক্ষমতাসীনদের টার্গেট ২০৪১। বিষয়টি এখন ৯২ বছর বয়স্ক মুগাবের ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকার মতো। সে পারলে এরাও পারবে, কারণ উভয়পক্ষেরই রাজনৈতিক পিতা এক।

ক্রাইসিস এ রকম। অবসরে যাওয়ার পর শপথহীন অবস্থায়ই রায় লিখে ওই সংশোধনীকে অবৈধ বানালেন খায়রুল হক। সেখানেই শেষ নয়, নির্বাহীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা সাহায্য গ্রহণ করা যে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের উদাহরণ, তা বিচারযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। তথ্যগুলো ইন্টারনেটেই। এই দফায় উল্টো ক্ষমতাসীনেরাই পাগল হয়ে গেছে একটি নির্বাচন দিতে। কারণ তারা জানেন কিভাবে খাল কেটে দিয়েছেন খায়রুল হক।
তবে সব প্রশ্নের সমাধান করলেন এস কে সিনহা তার প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে (নিউএজ ২৭ জানুয়ারি ২০১৬)। ১৯ জানুয়ারি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখার কোনো সুযোগ নেই, হলে তা সাংবিধানিক আইনে অবৈধ।’ তার ওই বক্তব্যের পরই বিএনপিকে আইনমন্ত্রী, ‘বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করা যাবে না। এটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র। সুরঞ্জিত সেন : রাজনীতিতে একটি টেনশন সৃষ্টি করলেন এস কে সিনহা, যা অগ্রহণযোগ্য। আরো বলেছেন, প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্য হয়তো খারাপ ছিল এবং তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যদি এটাই সত্য হয় তাহলে তিনিও অবৈধ। আবদুল মতিন খসরু : বিষয়গুলো পাবলিককে বলা উচিত নয়, যা খুশি বলতে পারেন না (নিউএজ ২৭ জানুয়ারি)। আমি বলব, ঘোলা পানি কেন, টলটলে পানিতেও মাছ শিকারে ব্যর্থ বিএনপি। তবে যে প্রশ্নটি প্রধান বিচারপতির, তার সমাধান না করে কিছুতেই ছাড় দেয়া নয় ভিন্নমতের।
এস কে সিনহার বক্তব্য অনুযায়ী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং সংসদ অবৈধ। এটাই সিটিং বিচারপতির ব্যাখ্যা হলে শপথে থাকা অবস্থায় উচিত অ্যাকশনে যাওয়া, কিন্তু যাননি। তবে ১৬তম সংশোধনী বাতিল করার মাধ্যমে মুজিবের দেয়া ক্ষমতার উপহারটি এখন পর্যন্ত আদালতের হাতে। ওই ক্ষমতাবলে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করলে বিচারপতিদের চাকরি হারানোর ভয় নেই। মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালত। ন্যাশনাল ক্রাইসিস নিরসনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। না করলে আবারো ভয়াবহ সঙ্কটের আশঙ্কা।

আলাউদ্দিনের চেরাগটি কোথায়? সেটা হলো আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের পথে বাংলাদেশও। ন্যাশনাল ক্রাইসিসের মূলে, সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে অগাধ খনিজ সম্পদ আবিষ্কার। যে দেশেই এ ধরনের সুযোগ হামলে পড়ে পরাশক্তিরা। তৈরি করে স্বৈরাচার অথবা গণতন্ত্রের পৈতা পরিয়ে দেয়। বঙ্গোপসাগরটি যেন চতুর্মুখী ক্রাইসিস। ব্রিটিশের সিল্করুটের মতো চীনের তৈরি নতুন সিল্করুটের ফোকাস, বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত। আওয়ামী লীগের হাত-পায়ে যেন শিকল।
ওয়েস্টার্ন ডেমোক্র্যাসির ফিলোসফি হিউম্যান রাইটস আর ভোটিং রাইটস; ভোটিং রাইটস আর হিউম্যান রাইটস। নির্বাহীর অধীনে বাধ্যবাধকতায় সেই অধিকারটি শতভাগ খর্ব হয়েছে। কলুষিত নির্বাচন ঠেকানোর দায়িত্ব আওয়ামী লীগসহ সবার। কারণ দিন শেষে দেশটি শুধু বাংলাদেশীদেরই।

সুতরাং জরুরি ভিত্তিতে ২০১৯-এর ‘নির্বাচন বুদ্ধিজীবী’দের মানবিক দায়িত্ব, জেনেশুনে জ্বলন্ত আগুনে ঘি না ঢালা। কারণ ৫ জানুয়ারি-কেন্দ্রিক প্রাণহানির ঘটনা তারা জানেন। গীতা সরকারের ঐতিহাসিক বক্তব্য এবং জ্বালাও-পোড়াও রোগীতে ঠাসা বার্ন ইউনিটের দৃশ্যও ভুলে যাননি। ভুলে যাননি ৫ জানুয়ারি-কেন্দ্রিক পেট্রল বোতল ছুড়ে মারার পর ঝলসে যাওয়া মুখগুলো।
১৪ কিংবা ২০ দল বুঝি না, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। ৫ জানুয়ারির মৃতদেরকে আর কখনোই ফেরানো যাবে না, যার ক্ষতি সেই পরিবারই বোঝে। রাজনীতিবিদেরা ভুলে গেলেও ওই ক্ষতি চিরস্থায়ী। মৃত্যুঞ্জয়ী কেউই নয়। পারলৌকিক জগৎকে মনে রেখে এ মুহূর্তে নির্বাহীসহ প্রত্যেককেই মানবিক হতে হবে। কারণ জেনেশুনে ফের প্রাণহানির ঘটনা আর ঘটতে দেয়া উচিত নয়।
এখনো বুঝতে না পারলে বুদ্ধিজীবীদের উচিত ন্যূনতম ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করা। কারণ ওই পর্যন্ত যত নির্বাচন হবে রক্তক্ষয় করেই ক্ষমতায় যাওয়া হবে। সেটা এড়াতে হলে অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকার বিকল্প নেই। জাতির সামনে দু’টি পথ- হয় নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের অভিশপ্ত আইনটি বাতিলের ব্যবস্থা নতুবা লীগ যা চাইছে রক্তক্ষয় এড়াতে সেটাই মেনে নেয়া।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫