ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

ভ্রমণ

বইমেলা শেষে লেখকদের ঘরে ফেরা

০৪ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ১৮:৩৭


প্রিন্ট

মাসব্যাপী অমর একুশের গ্রন্থমেলা ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বই বিক্রিও বেশি হয়েছে। পাঠক লেখকদের আগামী বইমেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে পুরো একটি বছর। বইমেলার শেষ হওয়ার পর যে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে তা হচ্ছে একজন লেখকের প্রাপ্য সম্মানী যা রয়্যালিটি। নবীন-প্রবীণ অনেকেই আগ্রহ সহকারে বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, কিন্তু দেখা যায়, বই বিক্রির পর লেখকদের সাথে প্রকাশকদের বিক্রিত বইয়ের একটি দিনিষ্ট হারে প্রাপ্য সম্মানী বা রয়্যালিটি না দেয়ায় প্রকাশকদের সাথে লেখকদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে লেখক বই প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন। এ ব্যাপারটি নিয়ে বইমেলায় লেখকদের সাথে খোলামেলা কথার ওপর ভিত্তি করেই দু’জন প্রতিশ্রুতিশীল লেখকের অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন শওকত আলী রতন

আহমেদ রিয়াজ
আহমেদ রিয়াজ মূলত একজন শিশুসাহিত্যিক। এ ছাড়াও গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ছড়াসহ সাহিত্যের প্রত্যেকটি শাখায় তার বিচরণ। লিখছেন প্রায় তিরিশ বছর ধরে। এ পর্যন্ত তার বইয়ের সংখ্যা আশিটির ওপরে। এ বছরও অমর একুশের গ্রন্থমেলায় তার মোট বইয়ের সংখ্যা আটটি। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘এক যে আছে’, ‘টুঙ্গিপাড়ার খোকা’, ‘একাত্তরের বুদ্ধিমতী’, ‘সাত গোয়েন্দা’, ‘নাচুনে মেঘ’, ‘আট রহস্য’, ‘জাদুর বালিশ’, ‘মেঘের হাতি’ ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত সহায়ক দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে রয়েছে তার চারটি গল্প। লেখকের প্রাপ্য সম্মানীর ব্যাপারে শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ তার ভাষায় বলেন, সব লেখকই চান তার বই ভালো বিক্রি হোক। কারণ একজন লেখকের প্রত্যাশাই থাকে সর্বোচ্চ পাঠকের কাছে যাওয়ার। আর পাঠকের কাছে যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে বই। এ কারণে অনেক লেখক নিজের টাকা খরচ করে হলেও বই প্রকাশ করেন। আর এতে লাভবান হন প্রকাশক। ক্ষতির সম্মুখীন হন লেখক ও পাঠক। লেখা মানসম্মত এবং সুন্দর হলে প্রকাশক নিজেই বই প্রকাশ করবেন। কিন্তু লেখা যদি মানসম্মত না হয়, সে ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশকই বই প্রকাশ করবেন না। তাহলে কথা হলো, নিজের লেখা মানসম্মত কি না কিভাবে বুঝব? সেটা বোঝার সুন্দর উপায় হচ্ছে- বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা প্রকাশ করা। তবে ইদানিং পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হয় সম্পাদকের খাতিরে। লেখার জোরে নয়। এটা অবশ্য ঢালাওভাবে সব পত্রিকার বেলায় প্রযোজ্য নয়। আরো একটা বিষয় আছে। দেশে পত্রিকার সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওসব পত্রিকার পাতা ভরাট করার জন্যও লেখার দরকার হয়। অনেক সময় লেখার মানের ওপর নির্ভর না করে পাতা ভরাট করার জন্য যেনতেন লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে পাঠকের রুচিগত মানও নষ্ট হচ্ছে। পাঠকরা ওসব লেখা পড়ে পড়ে তাদের রুচির মান নষ্ট করে ফেলছেন। সে প্রভাবটা বইমেলার উপর কিছুটা হলেও পড়ে। আর এ প্রভাবের কারণেই টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করতে হয় কিছু লেখককে। এসব লেখক বই প্রকাশ করাটাকে সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখেন, সাহিত্যসেবক হিসেবে নয়। কিংবা লেখক হিসেবেও নয় এবং চেনা পরিচিতদের বলতে পছন্দ করেন আমিও লেখক। পত্রিকায় টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপনও দেন। জোর করে বই কেনান। এর ক্ষতিকর প্রভাব বইমেলার উপর পড়ে। সত্যিকারের লেখকদের ওপর পড়ে।
রয়্যালটির ব্যাপারে আমার অভিযোগ আছে আবার নেই। কিছু টাউট টাইপের প্রকাশক আছেন। তারা লেখককেই ঠকান। ঠিকমতো লেখকদের রয়্যালটি বুঝিয়ে দেন না। আর এটা থাকবেই। এ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন প্রকাশকের সাথে কাজ করেছি। বলা যায়, এত জন প্রকাশকের সাথে কাজ করাই হয়েছে প্রকাশকের মানসিকতা চেনার জন্য। কিন্তু থিতু হয়েছি গুটিকয়েক প্রকাশকের কাছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। আমার জানা মতে, কোনো লেখকের রয়্যালটি তারা আটকে রাখেন না। আমি আমার প্রথম প্রকাশিত বই থেকে নিয়মিত রয়্যালটি পাচ্ছি। তাহলে বলাই বাহুল্য অনেক প্রকাশক দায়িত্ববোধ থেকে লেখকদের সম্মানী বুঝিয়ে দেন, আবার কিছু প্রকাশনী আছে বই বিক্রির পরও লেখকের সম্মানী নিয়ে গড়িমসি করেন, আর এটাই বাস্তবতা।

ইকবাল খন্দকার
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি টিভি উপস্থাপক হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে ইকবাল খন্দকারের। ইকবাল খন্দকার একজন মৌলিক লেখক। তিনি গল্প, উপন্যাস, প্রবদ্ধ, নিবব্ধ ও শিশুসাহিত্য নিয়ে দীর্ঘ দিন লেখালেখি করছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৩টি। এ বছর একুশের গ্রন্থমেলায় তার ১০টি বই প্রকাশ পেয়েছে। মেলায় তার বইয়ের বিক্রিও সন্তোষজনক। লেখকের প্রাপ্য রয়্যালিটির বিষয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, যেকোনে লেখকই প্রথম বই প্রকাশ করতে গিয়ে হয়রানিতে পড়েন। বেশির ভাগ লেখককেই নিজের টাকা খরচ করে বই প্রকাশ করতে হয়। এর মধ্য থেকেই যারা ভালো লেখেন, যাদের বই পাঠকরা গ্রহণ করে তারা বের হয়ে আসেন। এরপর যে সমস্যাটা হয় বা হতে পারে, সেটা রয়্যালিটি সংক্রান্ত সমস্যা। অনেক প্রকাশকই লেখকের প্রাপ্য সম্মানী বুঝিয়ে দিতে চান না। আবার অনেকে দিয়ে দেন। অর্থাৎ এখানে ভালো প্রকাশকেরাও আছেন, আবার মন্দ প্রকাশকেরাও আছেন। তবে ভালো প্রকাশকদের সাথেই লেখকেরা পথ চলেন এবং সামনে এগিয়ে যান। কিছু কিছু প্রকাশক রয়েছেন, বছর শেষ হলেও লেখকের প্রাপ্য সম্মানী বুঝিয়ে দিতে তাদের কষ্ট হয়। যদি লেখক বেঁচে থাকেন তাহলে প্রকাশকও বেঁচে থাকবেন। লেখক যদি তার প্রাপ্য সম্মানী থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে ভবিষ্যতে প্রকাশকদের সহজ শর্তে লেখা দিতে এক ধরনের অনীহা চলে আসবে। তিনি বলেন, এবারের বইমেলা আমার জন্য খুব ভালো একটি মেলা ছিল। কারণ, এ বছর আমার দু’টি বইয়ের প্রথম সংস্করণ শেষ হয়েছে। আরেকটি বইয়ের প্রথম সংস্করণ প্রায় শেষের দিকে ছিল। আর আমার ‘বিদায় মা’ বইটির সংস্করণ শেষ না হলেও মেলার অন্যতম আলোচিত বই ছিল। রয়্যালিটি দেন, আবার দেন-ও না। তবে আমার অভিজ্ঞতা ভালো। আমি রয়্যালিটি ঠিকমতো পাই। আমার প্রকাশিত মোট বইয়ের সংখ্যা ৫৩টি। এরমধ্যে বেশ কিছু বই বেস্ট সেলার হয়েছিল। যেমন- গলাকাটা ভূত, ভুতুড়ে লাশঘর, তরুণী তখন ঘরে একা, অভিশপ্ত স্টেশন ইত্যাদি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫