ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

ভ্রমণ

গোলাপের রাজ্য শ্যামপুর

মো.জাভেদ হাকিম

০৪ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ১৮:৩৪


প্রিন্ট

তারিখটি ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলীয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামের পথে দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের বন্ধুরা গাড়ি হাঁকাই। চালকের আসনে আমি নিজেই। সরু গলি পেড়িয়ে মহাসড়কে দূর পাল্লার যানবাহনকে ছাড়িয়ে আমি যাই এগিয়ে। মনে শুধু ভয় একটাই, চাকা না হয় পাঙচার। এ বিষয়টাকে আমি মহা ভয় পাই। গাড়ি চলছে সাভার বাজার পেছনে ফেলে, মহাসড়ক থেকে ডানে মোড় নিয়ে সিএনবি সড়কে ছুটছি। এবার সরু পথে ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকেও মহাভয়ঙ্কর অটোরিকশার জ্বালায় কিছুটা ভীতু আমি। ভাঙা সড়কে দোল খেতে খেতে কিছুটা পথ এগুতেই নৈসর্গিক সব দৃশ্যে চোখ আটকাল। সত্যিই অসাধারণ, ঢাকার পাশেই এমন মায়াবী প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। সোদা মাটির গন্ধ নাকে পেতে পেতেই চোখে ধরা পড়ল লাল গোলাপের বিশাল বাগান। গাড়ি পার্ক করেই ছুটি বাগানের ভেতর। ইয়া খোদা! এ দেখি বিশাল লাল গোলাপের সমুদ্র, তার মাঝে আমরা অতিকায় এক ক্ষুদ্র প্রাণী। যতই এগিয়ে যাই, ততই যেন অপার্থীব ভালোলাগা ভর করে মনে। বাগানের পর বাগান। মাথায় নেশা চেপে বসে, কিসের গাড়ি আর কিসের বাড়ি। সবই আজ ঠুনকো। গাড়ির চিন্তা বাদ দিয়েই ভেতর থেকে ভেতরে ঢুকতে থাকি। যতই আগাতে থাকি, ততই যেন গোলাপ বাগানের লোকগুলো আপন হতে থাকে। প্রথম বাগানে যে আটির দাম ছিল ৪০০ টাকা এখন তা পারলে এমনিতেই দিয়ে দেয়। আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিলাম বিরুলীয়া এলাকার লোকজন একটু উগ্র, যার কারণে সাভারবাসীরাই তাদেরকে টুঙ্গুইরা বলে থাকেন। কিন্তু আমরা পেয়েছি তার উল্টো।

কথায় আছে না- নিজে ভালো তো জগৎ ভালো। হাঁটতে হাঁটতে এবার পেয়ে যাই এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সব গাছকে ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে থাকা তাল গাছের সারি। জসিমের চোখে ধরা পড়ে রসের হাড়ি। হানিফ বলে রস খাবে। আবার জিগায়! চল যাই গাছের তলায়। দুঃখের বিষয়, তালের রসের স্বাদ পেতে হলে আবারো আসতে হবে সাত সকালে। কি আর করা, এক সফরে তো আর সব মিলে না। ওরকম আশা করাটাও ঠিক না। গাছির সেল নাম্বার নিয়ে আবারো আগাই। এবার চোখ পরে ঝাকায় ঝুলে থাকা লাউ আর মাটিতে শুয়ে থাকা মিষ্টি কুমড়ার প্রতি। দেখা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ আবদুল খালেকের সাথে। তিনি জানালেন, এই টেঙ্গর শ্যামপুর গ্রাম থেকেই ২০ বছর পূর্বে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু করেন গোলাম রসুল। তার বাগান করা দেখেই ধীরে ধীরে গ্রামের অন্যরাও অনুপ্রাণীত হয়ে ফুল চাষে এগিয়ে আসেন। শ্যামপুর গ্রামের প্রায় ৬০ পাখি (১৫,৬০ শতাংশ) জমির ওপর বর্তমানে গোলাপ চাষ হয়ে আসছে। গোলাপ ফুল চাষ এখন শুধু এ গ্রামের মধ্যেই সিমাবদ্ধ নেই, বিরুলীয়া ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামেও প্রসারিত হয়েছে। বছরের বারো মাসই গোলাপ চাষ হয়ে থাকে। ভর সন্ধ্যায় ফুল বিক্রির বাজার মিলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসেন গোলাপ কিনতে। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের জন্য ফুলচাষিরা গড়ে তুলেছেন নিরাপত্তা বলয়। ইচ্ছে হলে একটা বিকেল কাটিয়ে আসতে পারেন পুরো পরিবার কিংবা বন্ধুদের সাথে নিয়ে।

যোগাযোগ : ঢাকা থেকে উত্তরা থার্ড ফেস, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও গাবতলী হয়ে সাভার উপজেলার বিরুলীয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামে সরাসরি নিজস্ব অথবা ভাড়া গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে। এ ছাড়া সাভার বাজার স্ট্যান্ড থেকে বাসে বা লেগুনাতে যাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে কয়েকবার যানবাহন বদল করতে হবে। আর উত্তরা বা বেড়িবাঁধ দিয়েও নিজস্ব গাড়ি ছাড়া যেতে চাইলে কয়েক দফা গাড়ি বদল করে বিরুলীয়া ব্রিজ দিয়ে চলে যেতে পারেন।

খাবেন কোথায় : আক্রাইন বা দোসাইদ বাজারে মোটামুটি মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন, আর বিকেলের নাশতার জন্য দোসাইদ বাজারে রাবিয়া খালার বানানো হরেক পদের ভর্তা দিয়ে চিতই, ভাপা আর মালপোয়া পিঠা খাবেন তার ডেরার দোকানে। সাথে থাকবে গরুর দুধের চা।

ছবি : দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫