ঢাকা, সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

রঙপেন্সিল

শামীম খান যুবরাজ

০৪ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

শায়ান, মাহি আর নুসরাত মিলে চড়–ইভাতি খেলছিল পুকুরের দক্ষিণপাড়ে। প্রতিদিন তারা এভাবে খেলে। নারিকেলের মালায় হাঁড়ি, বালু দিয়ে ভাত আর সবুজ ঘাসে হয় তাদের তরিতরকারি। তারা মিছেমিছি রান্না করে আর সবাই মিলে মিছেমিছি খায়। রান্না শেষে একজন ভাত বেড়ে দেয় ‘বল্লা’ পাতার থালায়। সবাই সারি বেঁধে বসে খায়। বড়দের কেউ আশেপাশে থাকলে তাদের খেতে বলে। তারা বাচ্চাদের মন রাখতে মালার কাছাকাছি মুখ নামিয়ে ‘কয়অ’ ‘কয়অ’ শব্দ তুলে মিছেমিছি খাবার খেয়ে বলেন, বেশ মজাদার রান্না হয়েছে, আরো একটু দাও। প্রশংসা পেয়ে তারা খুশি হয়।
তারা পুকুরের যে পাড়ে খেলে তার একটু নিচেই লাউয়ের মাচা। শীতের পরশ পেয়ে লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে লতাগুলো। ছোটো ছোটো কচি লাউয়ের সঙ্গে অনেকগুলো সাদা ফুল ফুটে আছে পুরো লতাজুড়ে।
একদিন তারা খাবারের তালিকায় যোগ করল কচি লাউ আর লাউয়ের শাক। শিমের ফুল আর কচি শিম। কোথা থেকে যেন একটি ব্লেড খুঁজে পেল তারা। ব্লেড দিয়ে কচি লাউ আর কচি শিমগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করতে লাগল। তাদের চড়–ইভাতি খেলা যখন জমে উঠল, ঠিক এমন সময় মাহির হাতে ব্লেড আর কচি লাউ-শিমের বেহাল অবস্থা দেখে ফেললেন বড়দের কেউ একজন। তার কাছ থেকে খবরটা সবার কানে গেল। সবাই এসে দেখে অবাক। এতটুকুন ছেলের হাতে ব্লেড! তা ছাড়া প্রায় সবগুলো লাউয়ের কচি ওরা ছিঁড়ে ফেলেছে। অনেকগুলো কচি শিম নষ্ট করেছে।
মাহির হাত থেকে ব্লেডটি নেয়া হলো। আর বড়মামার ভয় দেখিয়ে বড়রা চলে গেলেন শায়ান আর মাহিদের কাছ থেকে।
ওরা তো ভয়ে অস্থির। বড়মামা এসে যদি দেখেন এতগুলো লাউ আর শিমের কচি ওরা নষ্ট করেছে তাহলে তো আজ শাস্তি দিয়েই ছাড়বেন।
বিকেলে বড়মামা এলেন। সব শুনলেন। শায়ান, মাহি আর নুসরাতকে ডাকা হলো। তারা বড়মামার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। বিচার দেখতে বড়দের কেউ কেউ এলেন।
একজন বললেনÑ থাক, ছোটো মানুষ ওরা। না বুঝেই এসব করেছে। ওদের এবারের মতো মাফ করে দাও।
বড়মামা তাদের সবার মুখের দিকে একবার করে তাকালেন। সবাই ভয়ে জড়োসড়ো।
তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে বড়মামা পকেট থেকে তিন প্যাকেট রঙপেন্সিল বের করলেন। তিনজনের হাতে প্যাকেটগুলো ধরিয়ে দিয়ে বড়দের উদ্দেশে বললেন, আসলে দোষটা ওদের নয়। দোষ আমাদের। আমরা ওদের উপযুক্ত খেলা শেখাতে পারিনি। তাই ওরা ধুলোবালি দিয়ে খেলা করে জামা আর শরীরে ময়লা করছে।
তারপর ছোটদের বললেন, দেখো বাছারা, কচি লাউ আর শিমগুলো অনেক বড়ো হবে। তারপর সেগুলো রান্না হবে। সবাই খাবে, তাই না? কিন্তু তোমরা যদি অতটুকুন শিম আর লাউ ছিঁড়ে নাও তাহলে ওরা বাড়বে কী করে? তোমাদের যে পেন্সিলগুলো দিলাম, ওখানে প্রতিটি প্যাকেটে বিভিন্ন রঙের পেন্সিল আছে। তোমরা আর ধুলোবালি দিয়ে খেলবে না। এখন থেকে খাতায় ছবি আঁকবে। ইচ্ছে করলে মাঠে-পুকুরপাড়ে বসেও আঁকতে পারো।
তারপর বড়মামা একটি খাতায় কিছু ছবি এঁকে দেখালেন। বড়মামার দেখাদেখি তারাও ছবি আঁকতে শুরু করল। পাহাড় আঁকছে, সাগর আঁকছে, আকাশ আঁকছে, আকাশে সাদা সাদা মেঘের সারি আবার মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ছে লাল, নীল ঘুড়ি। কারো কারো খাতায় মেঘের ওপর ডানা মেলে দিয়েছে বিশাল সাইজের উড়োজাহাজ। রঙপেন্সিল তাদের সব কিছু বদলে দিয়েছে। নতুন নতুন ফুল,পাখি ও রঙিন প্রজাপতিতে ভরে যাচ্ছে তাদের ছবি আঁকার খাতা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫