ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ এপ্রিল ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক

আবদুল বাছের তালুকদার

০৩ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ২০:৩৫


প্রিন্ট

এ শিরোনামে ড. আহমদ আবদুল কাদেরের নিবন্ধটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০১৭ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন করা হয়েছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে তাদের চিন্তাধারার প্রতিফলন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রশাসন এমন হওয়া উচিত, যেন দেশের বেশির ভাগ লোক শিক্ষাদীক্ষাসহ সব দিক দিয়ে উন্নতির সোপানে পৌঁছতে পারে। ভারতবর্ষ বিভাজন হয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারতবর্ষের মুসলিম নেতারা লাহোরে এক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে, ভারতবর্ষ বিভক্ত করে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র করতে হবে। তা ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে খ্যাত। সে প্রস্তাবে ছিল- There will be separate muslim states among the muslim majority areas of INDIA. এ সময় সমগ্র ভারতবর্ষের মুসলমান নেতারা ব্যস্ত ছিলেন তাদের চিন্তাধারা বাস্তবে রূপ দিতে। ইতোমধ্যে নিকলসন (VERDICT OF INDIA গ্রন্থের প্রণেতা) ব্রিটেন থেকে ভারতবর্ষে এসে জিন্নাহর সাথে ভারতবর্ষের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিশাল ভারতের অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশ রক্ষার চাপ কি আসতে পারে না? ১৯৪৬ সালে লাহোর প্রস্তাব পরিবর্তন করা হলো এ মর্মে যে, There will be a State but not States.
সেই পাকিস্তান বিভাজন ঘটেছে দুই অংশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে। এতে যোগ হয়েছিল ভাষা এবং দুই অংশের দূরত্ব। অনিবার্য কারণে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয় এবং পাকিস্তানের নাম রাখা হয় Islamic Republic। পূর্ব পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ, যা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। ভালোটা গ্রহণ করা এবং মন্দটা বর্জন করা বাঞ্ছনীয়। যা হোক, ধর্মহীনতার দিকে ধাবিত হওয়ার কারণেই আমাদের যুবসমাজ জঙ্গি, মাস্তান ও দুর্বৃত্ত হয়ে উঠছে; দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে এবং সমাজ ধ্বংসের পথে চলেছে। নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষাই সমাজকে রক্ষা করতে সক্ষম।
শিক্ষার প্রকৃত অর্থ, চরিত্র গঠন। জে আর লরেনোর বাণী- ‘যে শিক্ষা আত্মাকে বলিষ্ঠ করে না এবং দৃষ্টিশক্তি প্রসারিত করে না, তা আদৌ শিক্ষা নয়।’ বাদশাহ আওরঙ্গজেব তার ছেলেকে তিরস্কার করেছিলেন, ছেলে কেন ওস্তাদের পায়ে পানি ঢালছে, হাত দিয়ে তার পা পরিষ্কার করছে না কেন? এরূপ ভক্তি-শ্রদ্ধা স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয় এ মাটির ধরায়, যা সেকুলার জগতে মিলবে না।
আমরা বাল্যকালে সতীনাথ বসাকের ‘আদর্শলিপি’ বইয়ে পড়েছি, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,/সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি,/ আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,/ আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।’ আর এখন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ‘হাটটি মাটিম টিম, তারা মাঠে পাড়ে ডিম, তাদের খাড়া দুটি শিং’। পাখি ডিম্বে বাচ্চা দেয়, তাদের শিং থাকে নাকি? প্রকৃত শিক্ষা বাদ দিয়ে আমরা কেন অন্য পথে পা বাড়াচ্ছি? আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘যত চতুর, তত ফতুর।’ এটা প্রমাণিত সত্য, প্রকৃত ইসলামি শিক্ষায় জঙ্গি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সৃষ্টি হয় না। কোনো মাদরাসার ছাত্র মাদক খেয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি যায় না। তবু কেন অযথা তাদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে? আমরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বহু দূরে সরে আসছি। আমাদের সময় ম্যাট্রিকের সিলেবাসে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘দুই বিঘা জমি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘খেয়াপারের তরণী’ আরো অনেক কিছু। এতে শিক্ষণীয় ছিল অনেক। যেমন ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় আছে :
আবুবকর, ওসমান, ওমর, আলী হায়দর/
দাড়ি এযে তরণীর, নাই ওরে, নাই ডর/
কাণ্ডারী এ তরণীর, পাকা মাঝি মাল্লা/
দাড়ি মুখে সারিগান লা শরীক আল্লাহ।’
এতে পাই ধর্মীয় অনুভূতি, কবিতার অপার মাধুর্য; সেই সাথে আরবি শব্দ দিয়ে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার দৃষ্টান্ত। বিদেশী অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে; যেমন- চেয়ার, টেবিল, দোয়াত, কলম, বল, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি। এসব শব্দ বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। যেসব শব্দ সহজেই বোধগম্য, সেগুলো বাদ দেয়া মানে বাংলা ভাষার সম্পদকে দূরে ঠেলে দেয়া।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫