ঢাকা, মঙ্গলবার,২৮ মার্চ ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

সংবাদে আসে না হকারদের কথা

হাসান সাইদুল

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৯:৩৭


প্রিন্ট

খবরের কাগজের মালিক ও পাঠক উভয়ে উন্মুখ হয়ে থাকেন। আর দুই পক্ষের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দেন এমন একজন যাকে কেউ মনে রাখে না। তাকে এক নামে সবাই চেনেন, তার নাম হলো ‘হকার’। তাকে অনেক সময় ডাকা হয়, ‘এই পেপার’, ‘ওই পত্রিকা’ ইত্যাদি ইত্যাদি নামে। একজন হকার অবশ্যই নিরীহ মানুষ। যার অঢেল টাকা কামানোর পথ নেই। তিনি জীবনের তগিদে পত্রিকা বিক্রির কাজে নামেন!
কী দিন কী রাত কী বৃষ্টি কী রৌদ্র, কী গরম কী শীত আকাশ, পরিবেশের আবহাওয়া যেমনই থাক হকার তার আরামের ঘুম হারাম করে মোরগ ডাকার আগেই নেমে পড়েন সমিতি কিংবা এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করার জন্য। ছুটে চলেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।
সেই গভীর রাত থেকে নেমে সারা দিনের পরিশ্রমের ফল আসে একজন হকারের জন্য সর্বসাকুল্যে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। যে দিন ভালো চলে সে দিন ৩০০ টাকা হয়। পরিবার, পরিজন ও সন্তান লালন-পালন, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আবাসন ব্যয় দিয়ে ঢাকার মতো শহরে তাদের টিকে থাকা কঠিন। কাগজ বিক্রির উল্লেখযোগ্য বাজার রাস্তায় চলমান গাড়ি। সে জন্য দিতে হয় দৌড়ঝাঁপ। জীবনবাজি রেখে খবরের কাগজ পৌঁছায় ঠিকই কিন্তু দুর্ঘটনায় তাদের পাশে কেউ থাকার নেই। রোগব্যাধি তো থাকেই।
ঢাকার হিসাব অনুযায়ী একজন হকারের মাসিক আয় সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার টাকা। সংবাদপত্র বিক্রি করে হকাররা লাভ পান কমিশন অনুযায়ী। প্রকাশকের কাছ থেকে হকার্স সমিতি পত্রিকা পায় ৩৫ শতাংশ কমিশনে। এর মধ্য থেকে হকাররা পত্রিকা পান ৩২ শতাংশ কমিশনে। মাঠপর্যায়ের হকাররা অনেক পত্রিকার ক্ষেত্রেই নির্ধারিত কমিশন পান না। মধ্যস্বত্বভোগীরা তাতে ভাগ বসায়। ১৯৭৪ সাল থেকে এই একই রেটে চলছে পত্রিকা বিপণন। অনেক সময় গড়িয়েছে। দুই টাকার পত্রিকা ১২ টাকা হয়েছে, সবার লাভ বেড়েছে। কিন্তু হকারদের আয় বাড়েনি। অনেকে পত্রিকার সংখ্যার কথা বলেন, কিন্তু হকাররা বলছেন, তাতে কাজ হচ্ছে না।
কোনো কোনো পত্রিকার ক্ষেত্রে অবিক্রীত পত্রিকা ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকে না বা সীমিত থাকে। যেমন, শাহাজাদপুর সুবাস্তু নজরভ্যালির পত্রিকা হকার জহির মিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন আর প্রথম আলো ফেরত নেয় না। একটা পত্রিকা অবিক্রীত থেকে গেলে বিরাট ক্ষতি। পাঁচটা পত্রিকা বেচলে ১০ টাকা লাভ। একটা থেকে গেলে তার পুরোটাই ক্ষতি। বড় পত্রিকাগুলো ফেরত দিতে ঝামেলা হয়। দু-চারটা ফেরত নেয়, বাকিগুলো নিজের পকেট থেকে গচ্চা দেয়া লাগে। এরকম কয়েকটা হলে আর কুলায়া ওঠা যায় না।’ বৃষ্টির মওসুম এলে নিয়মিত পত্রিকা ভিজে যায় আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় পত্রিকা বিক্রি করতে রাস্তায় নামাই যায় না।
ঢাকার বাইরে গ্রামপর্যায়ে যারা পত্রিকা বিক্রি করেন তারা তো তালিকায়ই আসেন না। চাঁদপুরে কচুয়া থানা পত্রিকার হকার পিয়েলাল সরকার বলেন, গ্রামে পত্রিকা এখন খুব কম বিক্রি হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবাই খবর পড়ে থাকে। আগের মতো এখন পত্রিকা চলে না। তবুও পত্রিকা বিক্রি করছি। অল্পস্বল্প নিজেদের খরচ বাড়লেও পত্রিকার দাম ও আমাদের পাওনা তো বাড়ে না।
সাংবাদিক সম্পাদক প্রকাশকেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের নিচে বসে সংবাদ লিখেন ছাপান কিন্তু এই সংবাদ ও সংবাদপত্র যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এলাকা পাড়া মহল্লা এমনকি শোবার ঘরে নিয়ে পৌঁছায় তাদের দুর্দশা জীবন ও কষ্টময় জীবিকার কথা বৈচিত্র্যময় সংবাদপত্রে আসে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫