ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

ঢাকা, তুমি কি সুস্থ?

হারুন-আর-রশিদ

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,রবিবার, ১৮:০৬


হারুন-আর-রশিদ

হারুন-আর-রশিদ

প্রিন্ট

ঢাকা এখন পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম জনবহুল নগর। জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৫ হাজার। বিশ্বের স্বল্প আয়তনে সর্বোচ্চ ঘনবসতির প্রথম নগর হলো ঢাকা। ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন নিম্নতম ৩০০ থেকে ৪০০টি মোটরযান নিবন্ধিত হয়। রিকশার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ২৫ শতাংশ। পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য দুই হাজার কিলোমিটারের মতো। আরামদায়ক চলাচলের জন্য প্রয়োজন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রাস্তা, সেখানে ঢাকায় আছে মাত্র ৭ শতাংশ, যার নাম ভিআইপি সড়ক। মোটরযানের ২৫ শতাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন। এই গাড়িগুলোই এক থেকে দুইজন প্যাসেঞ্জার নিয়ে মূল সড়কের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রাস্তা দখল করে রাখে। ৬৫০টি সংযোগ সড়ক কেন্দ্রের জন্য মাত্র ৮০টি ট্রাফিক লাইট। ঢাকার রাস্তায় আট রকম গতির যানবাহন চলাচল করে। রাস্তা সরু বলে ধীরগতির যানবাহনের আলাদা লেন নেই।
যানজটে রাজধানীতে প্রতি বছর বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যার দ্বারা দুটো পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব। একই কারণে প্রতিদিন নগরবাসীর ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ হিসাব (২০১০-১১ অর্থবছরের) তুলে ধরেছেন, বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক।
গত পাঁচ বছরে যানজট যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আর্থিক ক্ষতিও। ঢাকার ৭৫ শতাংশ মানুষ চলাচল করে বাসে। যানজট তীব্রতর হওয়ার মূল কারণ ব্যক্তিগত গাড়ি। আরেকটি বড় কারণ- অপরিকল্পিত উপায়ে রাস্তা নির্মাণ। এ দুটো বড় কারণ লাঘবের প্রচেষ্টা সরকার নেয়নি।
বর্ষা ঋতুতে ঢাকা মহানগরের মানুষ প্রায় সব সময় জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়ে। এ সময় বেশির ভাগ এলাকায় ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়। ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার স্টর্ম সুয়ারেজ (বড় নালা) আছে মাত্র ৩৬০ বর্গকিলোমিটার। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে এগুলোর কার্যকারিতা বহুলাংশে কমে গেছে। ১৯৮৮ সালের ফ্লাড অ্যাকশন প্লান ও ২০১০ সালের ড্যাপ এ দুটো পরিকল্পনাতেই পাঁচ হাজার ৪২৩ একর জায়গা জলাধার হিসেবে রাখার কথা ছিল। খাল-নদী রাখার কথা ২০ হাজার ৯৩ একর, বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল রাখার কথা ৭৪ হাজার ৫৯৮ একর। এগুলোর প্রায় সবই দখল হয়ে গেছে। সুপারিশ ও নীতিমালায় বলা হয়েছিল- যেকোনো উপায়ে দখলকৃত খাল উদ্ধার করতেই হবে। পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারে পৌঁছানোর জন্য মহাপরিকল্পনা নেয়া দরকার। পয়ঃবর্জ্য ও বৃষ্টির পানি কখনো নালার মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। ড্যাপ কার্যকর হলে আজ বিপজ্জনক জলযটের মধ্যে পড়তে হতো না। এই নগরকে বাঁচাতে হলে আন্তরিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার একান্ত প্রয়োজন। জলাশয় আইন ভঙ্গকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। জলাশয় ভরাটের অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। ঢাকার হাজারো অলিগলিতে যে আবাসন ও দোকানপাট নির্মিত হয়েছে তার কোনো নীতিমালা আছে বলে মনে হয় না।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অফিসে নীতিমালা ফাইলবন্দী অবস্থায় আছে। বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। পুরান ঢাকা ঘিঞ্জি এলাকা হিসেবে খ্যাত উত্তর সিটি করপোরেশনও সেই পথে হাঁটছে। মুনাফালোভী বাড়ির মালিকেরা অবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নীতিমালার ধার ধারে না। রাজউকেরও তৎপরতা নেই। বাড়িগুলো একটার সাথে আরেকটা লাগানো। ৪-৫ ফুট জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করা আবাসন নীতিমালায় নির্ধারণ করা থাকলেও সেই আইন বাড়িওয়ালারা মানেন না এবং রাজউকের মুখ বন্ধ থাকে অর্থের কারণে। ফলে দম বন্ধ হওয়া পরিবেশে বসবাস করতে হয়। ছোট শিশুরা আলো-বাতাসহীন বদ্ধঘরে বসে সারাক্ষণ ইন্টারনেট আর টিভি চ্যানেল নির্ভর হয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। নেই খেলার মাঠ।
বৃক্ষনিধন এখন বাড়ি নির্মাতাগোষ্ঠীর মূল টার্গেট। ৫ কাঠা জমিতে ১০ থেকে ১৪ তলা বাড়ি নির্মাণ না করলে শত কোটি টাকার মালিক কিভাবে হবে? এসব বৈষয়িক চিন্তা আমাদের মস্তিষ্কে কাজ করে। ফলে ঢাকা হয়ে গেছে ইট-পাথরের বস্তি। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ঢাকা। উত্তর সিটির উত্তর খান এবং দক্ষিণ খানের সড়কপথগুলো অজপাড়াগাঁয়ের মেঠোপথের চেয়েও নিকৃষ্ট গাড়ি, লেগুনা, রিকশা, এমনকি মানুষেরও ওসব পথ দিয়ে হেঁটে চলা মানেই হলো প্রতি মুহূর্তে বিপদের ঝুঁকি। ঢাকার বিশেষ করে ৮০ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ কখনো নিরাপদ অনুভব করেছে যাত্রাপথে, এ কথা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। কিছু দিন আগে একটি কাজে পূর্ব রাজাবাজার যেতে হয়েছিল। মোহাম্মদপুর থেকে আসতে সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। লাগার কথা ১০ মিনিট। মোহাম্মদপুর টাউন হল থেকে জ্যাম শুরু- গোটা পঞ্চাশেক স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে হাফ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে। দুই লেনের সড়কের দুই পাশে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো সড়ক কমিয়ে দিয়েছে। বিত্তশালী ব্যক্তিদের গাড়িবহর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনও একেবারে চুপ। গায়ে গায়ে মানুষ ধাক্কাধাক্কি করে পথচলাÑ এরপর আছে রিকশা, বেবিট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি। হেঁটে চলাও এখন ঢাকা শহরে অসম্ভব।
এলাকায় আবাসন কোম্পানিও ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করেছে। শিশুদের খেলার মাঠ নেই। আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থাও নেই। বৃক্ষরাজি কেটে ফেলা হয়েছে বহু আগেই। খাল-পুকুর-দীঘি ও মাঠ দখল করে নির্মিত হয়েছে ভবন।
যেন কতগুলো গুদামঘরে রুম বানিয়ে বসবাস করার নামে মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থের সর্বনাশ ঘটানো হচ্ছে। একটি সেন্ট্রাল রোডে গিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। কিভাবে মানুষ বসবাস করে। একজন বললÑ রাতদিন সারাক্ষণ লাইট-ফ্যান চালিয়ে রাখতে হয়। বাড়িগুলোর ডানে-বামে এক ইঞ্চিও ফাঁক নেই। আবর্জনা পরিষ্কার করারও কোনো ব্যবস্থা নেই। বছরের পর বছর ময়লার স্তূপ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভারতের কয়েকটি রাজ্য এবং ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে গিয়ে দেখলাম বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা অদ্ভুত সুন্দরÑ স্বাস্থ্যবান্ধব। শিশুদের খেলার মাঠ থাকতেই হবে বাড়ির সম্মুখে। প্রশস্ত রাস্তা- খোলামেলা বাড়ি এবং বেশির ভাগ বাড়িই তিন থেকে চারতলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। একটি বাড়ি থেকে আরেকটি বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফিট। নিয়মের বাইরে কাজ করলে অর্থদণ্ডই শুধু নয়- জেল খাটতে হয় ভবন নির্মাতাগোষ্ঠীর। আমাদের রাজউকের নীতিমালা কার্যকর হয় না। এ জন্য দোষ রাজউক কর্তৃপক্ষের।
’৭১-এর আগে ডিআইটির চেয়ারম্যান (রাজউক) মাদানি সাহেব যে অবকাঠামো দিয়েছিলেন- সেটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা হতো বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক শহর। ২০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা সদরঘাট থেকে গাজীপুর, সাভার, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত একই রকম প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা ওই পরিকল্পনায় ছিল। সব রাষ্ট্রেই রাজধানী শহরের একটি নান্দনিক বৈশিষ্ট্য থাকে। থাকে স্বাস্থ্যবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব সুব্যবস্থা, যেটা আমাদের শাসকেরা করতে পুরো ব্যর্থ হয়েছেন। অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের কারণেই যানজট। সৃষ্টি হয়েছে- জলজট, মানবজট; পুরো শহরই যেন মানুষের বাজার। কোনো সরকারই রাজধানীকে বিকেন্দ্রীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। ব্যস্ত ছিল না ঢাকার সৌন্দর্য বর্ধনে। প্রতি বছর একাধিকবার ঢাকার রাস্তায় চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ধুলোবালুতে একাকার হয়ে যায় ফ্লাইওভার নির্মাণকালীন সময়ে পুরো এলাকা। ২৭-৯-২০১৬ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বায়ুদূষণজনিত কারণে মারা যায় বছরে ৩৭ হাজার ৪৪৯ জন মানুষ। দৈনিক মৃত্যু হয় ১০৩ জন। প্রতি এক লাখে বায়ুদূষণে শ্বাসকষ্টে ২৪ জন মানুষ মারা যায়। মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা শহরেই বেশি। ৩০ নভেম্বর ২০১৬ একটি পত্রিকার লিড নিউজ ছিল ধুলায় আক্রান্ত ঢাকা শহর। গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন- এত ধুলার মধ্যে কিভাবে মানুষ বাঁচতে পারে। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে প্রচণ্ডভাবে। ঠিকমতো তাকানোও দুষ্কর। আর শ্বাস নেয়া আরো কষ্টকর। এখানেও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। উপায়হীন মানুষ বাধ্য হয়ে ধুলোবালুমাখা খাবারই খাচ্ছে প্রতিদিন। দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
পৃথবীর ১০টি ভালো শহরের কথা উল্লেখ করলে আমরা দেখতে পাবো, সেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের বেশি বাস করে না। ঢাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ বাস করে। যেখানে মানুষ বেশি, সেখানে আবর্জনা বেশি। তিন লাখের জায়গায় গাড়ির সংখ্যা হবে ১১ লাখ। ভবনের সংখ্যাও বেশি। এসব কারণে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি। এই শহরে ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিশুর ফুসফুস বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার ফলে ফুসফুসে ক্যান্সারও হতে পারে। এ ছাড়া বাতাসে ভাসতে থাকা সিসা শিশুদের জন্য বেশি বিপজ্জনক। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে বায়ুদূষণজনিত অসুখে বছরে সাড়ে আট হাজার শিশু মারা যায়। ঢাকার সব এলাকায়ই ধুলায় আছন্ন থাকে। পরিবেশবিদেরা বলেছেন, ঢাকার আশপাশে ইটভাটায় নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার, যানবাহনেও নিম্নমানের জ্বালানি এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ ও সংস্কারকাজের ফলে ধুলায় আছন্ন থাকে পুরো শহর। উত্তরণের উপায় হলো ভালো মানের কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের যেসব বিভাগ রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, তাদের কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। কিন্তু সমন্বয় নেই। এক রাস্তা বছরে কয়েকবার খোঁড়া হয়। ওয়াসা, রাজউক, সিটি করপোরেশন নিজেদের প্রয়োজন মতো রাস্তা খোঁড়ে। এসব কারণে ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের।
আসুন, ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গার দিকে তাকাই। বুড়িগঙ্গা কি বুড়িয়ে গেছে, নাকি আগের মতো আছে- ঢাকার বুড়িগঙ্গা দখল-দূষণে হয়ে উঠেছে বর্জ্যরে ভাগাড়। বহু বছর ধরে চামড়া শিল্পের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি পড়েছে বুড়িগঙ্গায়। বুড়িগঙ্গা এখন ভয়ানক অসুস্থ। শিল্প, গৃহস্থালি, পয়ঃবর্জ্যে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর দূষণ ভয়াবহ হয়ে। একটি নদীও এখন রক্ষিত নয়। দূষণকারীর শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না। দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেই। ঢাকার পাঁচটি নদীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন বের হওয়া ৯০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য বিষ পড়ছে। অবিমৃষ্যকারী মানুষের অভাব নেই, ফলে ঢাকার সার্বিক উন্নয়ন অতি শ্লথ ও অপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে।

লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও কলামিস্ট
harunrashidas@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫