ঢাকা, শুক্রবার,২৬ মে ২০১৭

কম্পিউটার ও আইটি

ডিজিটাল ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম ফর লেবেল ক্রসিং

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:১৬


প্রিন্ট

আমাদের দেশের ৬ তরুণের উদ্ভাবনীমূলক প্রতিষ্ঠান ‘উইভার ইনোভেশনস’। বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা বের করে সেগুলোর বিস্তারিত গবেষণা এবং বিশ্লেষণ করে উইভার ইনোভেশনস নিজস্ব রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট ল্যাবে সেগুলোর সঠিক যুগোপযোগী সমাধানে অটোমেটেড হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সিস্টেম ডেভেলপ করে। বাংলাদেশের সমস্যাগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব মেধা দিয়ে নিজস্ব সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করে সমাধানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উইভার ইনোভেশনস বর্তমানে ডিজিটাল ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম ফর লেবেল ক্রসিংয়ের কাজ করছে। বিস্তারিত নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

ডিজিটাল ভয়েস এলার্ট সিস্টেম ফর লেভেল ক্রসিং এমন একটি স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক এবং বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী প্রযুক্তি যেখানে ট্রেন লেভেল ক্রসিং হতে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা অবস্থায় এই সিস্টেমের জিপিএসসহ মোট তিনটি স্তরের সেন্সিং সিস্টেম ট্রেনকে শনাক্ত করবে এবং সেই সাথে লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপাররত সব যানবাহন, জনসাধারণ, আশপাশে বসবাসরত জনসাধারণ এবং লেভেল ক্রসিংয়ের কাছাকাছি রেল লাইন ধরে হেঁটে চলা জনসাধারণকে সতর্ক ও সাবধান করতে উদ্ভাবিত পদ্ধতি।
টেকনোলোজিক্যাল অটোমেশন ও ইন্টারনেট অব থিংসের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে যুগোপযোগী, টেকসই ও কার্যকরী সমাধান বের করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছে উইভার ইনোভেশনস এর ৬ তরুণ উদ্যোক্তা। এরা হচ্ছেন এমএ হাসান খান, রেফায়েত চৌধুরী, নাজিবুর রহমান, হুমায়ন কবির, শাহ সুফিয়ান মাহমুদ চৌধুরী ও সারোয়ার রশীদ।
এমএ হাসান খান জানিয়েছেন, রেল ক্রসিংগুলোতে ব্যাপক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি রোধ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের শেষের দিকে ‘উইভার ইনোভেশনস’ শুরু করে ডিজিটাল ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম ফর লেবেল ক্রসিংয়ের কাজ। এর পরে রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোর সমস্যার সমাধানে উইভার ইনোভেশনস তাদের কনসেপ্ট পেপারটি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে। বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘ডিজিটাল ভয়েস এলার্ট সিস্টেম ফর লেভেল ক্রসিং’ প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের লেভেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিরোধে জুতসই মনে হওয়ায় উইভার ইনোভেশনসকে একটি লেভেল ক্রসিংয়ে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নে অনুমতিপত্র প্রদান করে। দীর্ঘ রিসার্চ এবং গবেষণার পরে আমাদের এই সিস্টেম এখন রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত জালালউদ্দীন সরণি লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেফায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশজুড়ে বিস্তৃত রেললাইনের হাজারো লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায়ই যেসব দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপাররত পথচারী, যানবাহন চালক ও গেট ম্যানের অসচেতনতা ও অসতর্কতা। ‘ডিজিটাল ভয়েস এলার্ট সিস্টেম ফর লেভেল ক্রসিং’ প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য এসব লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপাররত অসচেতন ও অসতর্ক পথচারী, যানবাহন চালক ও গেটম্যানদের সচেতন এবং সতর্ক করা। এই প্রযুক্তিতে লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপাররত অসচেতন ও অসতর্ক পথচারী ও যানবাহন চালকদের তিনটি আলাদা আলাদাভাবে দেখানো, শোনানো ও বোঝানো হচ্ছে, ‘ট্রেন আসছে আপনি সাবধান হয়ে যান, নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।’ এলইডি ডিসপ্লের মাধ্যমে তারা ট্রেন আসার সতর্কবার্তা দেখে পড়তে পারছে, লাউড স্পিকারের মাধ্যমে তারা ট্রেন আসার সতর্কবাণী কানে শুনতে পাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে সতর্কতামূলক লাল ফ্ল্যাসিং লাইট দেখার মাধ্যমে তারা জানতে পারছে ট্রেন আসছে, যেগুলো তাদের দৃষ্টি এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তাদের মন এবং মস্তিষ্কে একই সাথে প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে লেভেল ক্রসিংগুলোতে গেট ফেলার সময় অনির্দিষ্ট হওয়ায় জনমনে এই সিস্টেমের ওপর আস্থা কম। আমাদের এলার্টটি সর্বদা সুনির্দিষ্ট সময় পূর্বে শুরু হওয়ায় জনমনে সেই আস্থার সৃষ্টি হবে এবং রেলক্রসিং এ একটি সুনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার সংস্কৃতি মনোভাব গড়ে উঠবে।
২০১০ সাল থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৫০ জন মানুষ রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদের সবাই পথচারী। এই সমস্যার সমাধানে ‘ডিজিটাল ভয়েস এলার্ট সিস্টেম ফর লেভেল ক্রসিং’ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছে উইভার ইনোভেশনস কর্তৃপক্ষ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রেলক্রসিংয়ে পারাপাররত সব জনসাধারণ ও যানবাহন চালকের মধ্যে অচিরেই তৈরি হবে সচেতনতা, কমে আসবে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫