ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নারী

গ্রিন লেডি ডিজাইনার এলিজাবেথ এয়াটন

ভিন দেশ

মো: আবদুস সালিম

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সদর দরজা থেকে শুরু করে বাইরের বাগানÑ সবটাতেই কেবল সবুজ আর সবুজ। অর্থাৎ বাড়ির এমন কোনো স্থান নেই যেখানে সবুজ চোখে পড়ে না। মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের পাতাÑ সবই সবুজে ঢাকা। বলা হচ্ছে কোনো গ্রিন লেডি বা সবুজ মানবীর জীবনের এক আশ্চর্যজনক সত্যি ঘটনা। এই গ্রিন লেডির নাম এলিজাবেথ এয়াটন রোজেনথাল। বয়স ৭৫ বছর। বলা যেতে পারে তার জীবনের প্রায় সবটুকু সময় সবুজ রঙকে নিয়ে থাকা।
সব জায়গায় একই রকম সবুজ নয়। কোনোটা হালকা, কোনোটা গাঢ়, কোনোটা আবার এসবের মিশেল। কোনোটা দেখতে কলাপাতার রঙের মতো সবুজ, কোনোটা লেবুর মতো। এমনকি নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ, তোয়ালে, প্রসাধনী ইত্যাদি কিনতে গেলে তার যেন সবুজই চাই। ঘরের আসবাবগুলোও সবুজ।
এক সময়ে তার দুর্বলতা ছিল ফ্যাশন, ডিজাইন ইত্যাদির প্রতি। অথচ আগে কখনো ভাবা হয়নি যে, এক সময় এলিজাবেথ সবুজকে নিয়েই থাকবেন। কম-বেশি হলুদ, নীল, গোলাপি ইত্যাদি রঙয়ের পোশাক পরতেন। তবে ক্রমে পরিবর্তন ঘটতে থাকে এর। শুরু হতে থাকে সবুজপ্রীতি। সবুজ নিয়ে থাকতে তার যেন এতটুকুও একঘেয়েমি নেই। অন্য কোনো রঙের বৈচিত্র্যের কথা চিন্তাও করেন না।
এলিজাবেথ পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো বা ইতিবাচক রঙ মনে করেন সবুজকে। এলিজাবেথ বলেন, ‘যেখানে আমি বড় হয়েছি সেখানে যে দিক তাকাতাম, শুধু সবুজ আর সবুজ। যে কারণে এ রঙ শেষ পর্যন্ত গেঁথে গিয়েছে আমার হৃদয়ে।’ তবে তার বেড়ে ওঠা স্থান কানাডা ছেড়ে নিউ ইয়র্কে আসার পর প্রচণ্ডভাবে অনুভব করতে থাকেন সবুজ রঙকে। যদি মনে করা হয়, কোথাও যেন কিছু একটা নেই, তখনই সেখানে ব্যবহার করেন সবুজ। বলা যেতে পারে, প্রায় ২০ বছর ধরে আছেন সবুজ রঙ নিয়েই। সবুজ রঙ দেখলেই তার আর অন্য রঙের কথা মনে ধরে না। অর্থাৎ তা দেখে রীতিমতো খুশিই হয়ে যান। এমনকি কখনো কোনো কারণে মন খারাপ হলে চলে যান সবুজের কাছে। এলিজাবেথের এই সবুজপ্রীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। অনেকে তাই তাকে বলেন ‘গ্রিন এলিজাবেথ’। তবে যে যা-ই বলুক, ২০ বছর ধরে একটি রঙকে নিয়ে থাকা সহজ কাজ নয়। তার প্রচুর জুতা আছে, তার সবগুলোই সবুজ। কোনো জিনিস সবুজ না থাকলে তা সবুজ ডাই দিয়ে রঙ পাল্টে নেন। তার বাসায় দৈনিক সবুজ রঙ তৈরি হয় এক পাত্র করে। আরো অবাক কথা আছে। হাঁড়িপাতিল, তৈজসপত্র এসবও সবুজ। তাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেন, প্রায় ৭৫ বছর বয়সে শুধু সবুজ নিয়ে পড়ে থাকতে আপনার কেমন লাগে? তখন এলিজাবেথ এয়াটন হেসে বলেন, জেগে থাকা তো দূরে থাক, ঘুমানোর সময় আমার চারপাশে সবুজ দেখা না গেলে ঘুমই হবে না।
অনেকে তাকে চেনেন ‘এলিজাবেথ সুইট হার্ট’ নামেও। কানাডার নোভা স্কটিয়ার ছোট কোল মাইনিং শহরে জন্ম তার। বড় হয়েছেন দাদা-দাদীর আদরে। তার দাদী তাকে প্রায়ই ছবি আঁকতে এবং কাপড় বানানোর পরামর্শ দিতেন। মাউন্ট এলিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ফাইন আর্টসে ডিগ্রি নেন। এভাবে এলিজাবেথ এয়াটন পরিচিতি লাভ করতে থাকেন ফাইন আর্টিস্ট, ফেব্রিক ডিজাইনার ইত্যাদি হিসেবে। এলিজাবেথ নিউ ইয়র্ক শহরে আসেন ১৯৬৪ সালে। সাথে নিয়ে আসেন সামান্য কিছু জিনিস। সোজা চলে যান নিউ ইয়র্ক আন-এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিতে চাকরির পরীক্ষা দিতে। দ্রুত চাকরি পেয়ে যান গার্মেন্ট সেন্টারের আর্ট বিভাগে। ১৯৮৭ সালে তিনি নিজেই গড়ে তোলেন সুইটপি ডিজাইন স্টুডিও নামে একটি ডিজাইন কোম্পানি। এটি তিনি প্রায় ১৫ বছর চালান। ওই সময়ে তিনি স্মল আর্টস ব্যবসা শুরু করেন। নিজস্ব স্বয়ংসম্পন্ন পণ্যের বিক্রি ও প্রসারের দিকে গুরুত্ব বাড়ান। তিনি তৈরি করেন ছোট নিখুঁত পেইন্ট করা ওয়াটার কালার। হাতে তৈরি করা মাইকেল করস, লিজ ক্লেইবর্ন, ক্যালভিন ক্লেইন, আমেরিকান ঈগল আউটফিটারস, রালফ লরেন ইত্যাদি নামক ডিজাইনের দামি পোশাক তৈরি করেন। ওয়াটন রোজেনথাল বিয়ে করেন আরেক আর্টিস্ট রবার্ট রোজেনথাল নামক একজনকে ১৯৫৭ সালে। তারা নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা।
কলেজে অধ্যয়নরত সময়ে তার এক বন্ধু (সহপাঠী) জোটে, যিনি এলেক্স কলভিল্লে কানাডিয়ান পেইন্টার। এলিজাবেথ নিজের তৈরি হ্যাট (টুপি) পরেন। বলা যেতে পারে সবুজ রঙই এলিজাবেথ এয়াটন রোজেন থালকে ব্যাপক চাহিদার এ পেশায় নিয়ে আসে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫