ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

শেষের পাতা

রাবিতে দলীয় কর্মীকে মারধরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে উত্তেজনা, গুলি

রাবি সংবাদদাতা

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ কারণে নিজ দলীয় কর্মীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মারধরের প্রতিবাদে হল গেটে তালা দিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ এবং দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে পাশাপাশি অবস্থিত চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাবির মাদার বখশ হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি এবং রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা।
মারধরের শিকার আবদুস সালাম (লোকপ্রশাসন, চতুর্থ বর্ষ) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী। আর মারধরকারী সাদ্দাম হোসাইন (অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ) রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি কিবরিয়ার অনুসারী সাদ্দাম হোসেন, হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাসহ ১২-১৫ জন নেতাকর্মী রাত ১১টার দিকে মাদার বখশ হলে ‘পলিটিক্যাল ব্লক’ করার বিষয়ে অতিথি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এ সময় তারা ২১১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী আবদুস সালামকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। রাবি শাখার সভাপতি ও সম্পাদকের মোবাইল নম্বর না থাকায় সভাপতির অনুসারী সাদ্দাম, একপর্যায়ে বাকির অনুসারী সালামকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে ১১৯ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বিরকে ডেকে, তাকেও হুমকি-ধমকি দেয় সভাপতির অনুসারীরা। সাব্বিরও কেন্দ্রীয় নেতা বাকির অনুসারী।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হল গেটে তালা ঝুলিয়ে ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি। সেখানে বহিরাগত কয়েকজনকেও দেখা যায়। ফলে সভাপতি কিবরিয়ার অনুসারীরা হলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্য আবাসিক হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বাকি বিষয়টি মানতে নারাজ হন। একপর্যায়ে বাকি মোবাইলে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের আশ্বাসে শান্ত হয়। কিছুক্ষণ পর তৃতীয় ব্লক থেকে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মী হলে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫