ঢাকা, শুক্রবার,২৩ জুন ২০১৭

অর্থনীতি

৩০০ টাকায় গরুর গোশত খাওয়ানো সম্ভব : ব্যবসায়ী সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শুক্রবার, ২০:৪০


প্রিন্ট

বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানীর গাবতলি পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ এবং ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে বৈধ পথে গরু আনতে পারলে ৩০০ টাকায় গরুর গোশত খাওয়ানো সম্ভব হবে।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি শর্ত ভঙ্গ করার কারণে গাবতলি পশুহাটের ইজারা বাতিল এবং ইজারাদারের সাথে যোগসাজোশ করে অনিয়ম করায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোর্ত্তজা মন্টু, ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল বারেক, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, কাজী আনোয়ার হোসেন, হাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয় দিন ধর্মঘট পালন করছে গোশত ব্যবসায়ী সমিতি। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট আগামীকাল শনিবার শেষ হবে।

রবিউল আলম বলেন, সরকার গোশত ব্যবসায়ীদের জন্য গাবতলী গরুর হাটের খাজনা নির্ধারণ করে দিলেও হাটের ইজারাদার ও ডিএনসিসির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মিলে লুটেপুটে খাচ্ছে। এছাড়া গাবতলী গরুর হাট থেকে ব্যবসার নামে ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। হন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছে গরুর ব্যাপারি ও গোশত ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে আছে। অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছা মত কমিশন আদায় করছে।

ট্যানারি শিল্প মালিকদের কারণেও গোশত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সিন্ডিকেডের কারণে চামড়ার দামে ধস নেমেছে। ৪/৫ হাজার টাকার চামড়া এখন মাত্র ২/৬ শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণেই গোশত ব্যবসায়ীরা গরুর গোশতের দাম বেশি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। যার মাসুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো- গাবতলি পশু হাটের ইজারা বাতিল, হুন্ডি ব্যবসায়ী ‘কালা মইজাকে’ বিচারের আওতায় আনা ও হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে অপসারণ, সফল ট্যানারি শিল্প মালিকদের সহযোগিতা ও ব্যর্থ শিল্প মালিকদের শিল্প বন্ধ করে দেয়া এবং ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে বৈধ পথে পশু আমদানি করা অথবা বৈধ পথে ভারতে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

রবিউল আলম বলেন, শনিবারের পর থেকে আমাদের ধর্মঘট স্থগিত থাকবে, প্রত্যাহার হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিএনসিসির সাথে রোববার মিটিং আছে। সেখানে যদি আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া না হয় তাহলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫