ঢাকা, শুক্রবার,২১ জুলাই ২০১৭

বিবিধ

চার সন্তানের জননীও বিশ্বকাপে

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২১:৩৮


প্রিন্ট

শুধু বাংলাদেশই নয়। চতুর্থ রোল বল বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা বেশির ভাগ দেশেই পরিচিতির তলানিতে এই খেলাটি। ঢাকায় আসা দুই ইউরোপিয়ান দেশ স্লোভেনিয়া ও লাটভিয়ার খেলোয়াড়দের দেয়া তথ্য তেমনই। উভয় দেশের আইস হকির খেলোয়াড়রাই এখন রোল বলের বিশ্বকাপের সদস্য। শখের বসেই খেলছেন রোল বলে, যা তাদের বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। তেমনই একজন আইজা আপসিতে। লাটভিয়ার এই মহিলার চেহারাই বলে দিচ্ছিল বেশ বয়স হয়েছে তার। বয়সের কথা জিজ্ঞাসা করতেই সতীর্থদের নিয়ে হাসাহাসি। অন্যসব মহিলার বয়স জানতে চাইলেও এমন পরিস্থিতি হয়। পরে দোভাষীর মাধ্যমে আপসিতে জানালেন ৪২ বছর বয়স তার। চার সন্তানের জননী। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে লাটভিয়া আইস হকি জাতীয় দলের সদস্য। এক ছেলে আইস হকি খেললেও এখনো সুযোগ হয়নি জাতীয় দলে।

আইজা আপসিতে নিজেও তুখোড় আইস হকি খেলোয়াড়। সেই ১৯৯৩ সাল থেকে লাটভিয়া জাতীয় দলে খেলছেন। প্রতি বছর খেলাটির দ্বিতীয় বিভাগ বিশ্বকাপে খেলছেন। ২০০৭ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে রানার্সআপ দলের সদস্য। আইস হকির পরও কেন তিনি রোল বল খেলতে আসছেন। আপসিতের সহজ সরল উত্তর বিদেশ ভ্রমণের জন্য। এই ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছি বলেই তো ২০১৫ সালে ভারত সফর করতে পেরেছি। এবার এলাম বাংলাদেশে। রোল বল না খেললে নিশ্চয়ই এ সুযোগ হতো না।

গতকাল বিকেলে হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসে বেশ সাবলীল মনে হলো বয়স্ক এই মহিলাকে। দেশটির পুরুষ দলের সাথে অনুশীলনে বুঝাই যাচ্ছিল না তার যে বয়স হয়েছে। দুই বছর আগে লাটভিয়া রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের অনুরোধে রোল বলে হাতেখড়ি তার। এখন জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। আইস হকি শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। আপসিতের আফসোস এখনো এই অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেনি লাটভিয়া। তাই সুযোগ হয়নি নিজেকে অলিম্পিয়ান বলার। তবে আশায় বুক বেঁধে আছেন সামার অলিম্পিক ঘিরে। ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে ঢুকতে যাচ্ছে রোল বল। তখন লাটভিয়ার হয়ে খেলার স্বপ্ন তার। বয়স কি তখন সে ছাড়পত্র দেবে। এখনই তো ৪২ বছর হয়ে গেছে। এই লাটভিয়ানের জবাব, বয়স তো কোনো সমস্যা নয়। পারব আমি। এরপর যোগ করেন যত দিন শরীরে কুলায় খেলে যাবো। তারপর অবসরের চিন্তা।

আইস হকি খেলে তেমন কোনো অর্থকড়ি পান না। স্রেফই শখ করে এবং ফিটনেস ধরে রাখার জন্য খেলে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আইস হকির ক্লাব পর্যায়ের কোচও তিনি।

তার মতোই দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রোল বল খেলছেন লাটভিয়া মহিলা দলের অধিনায়ক ইনজে ক্রান বার্গা ও স্লোভেনিয়া মহিলা দলের ক্যাপ্টেন নিনা লোনচার। তারাও খেলেন আইস হকি। তাদেরও একই বক্তব্য, আমরা ইউরোপের এক প্রান্তের মানুষ। এই বিশ্বকাপের কল্যাণেই কেনিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে আসতে পেরেছি এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে পরিচয় ঘটছে। নতুন সংস্কৃতি দেখছি। দুই দেশেই এখন তীব্র শীত। বরফে ঢাকা সব এলাকা। তাই বাংলাদেশের বর্তমান আবহাওয়াকে অসাধারণ বললেন তারা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫