অবৈধ দখলদারদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না : সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। যেভাবে গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাত এক মাস দখলমুক্ত রাখা হয়েছে। অবৈধ খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য দখলদারদেরও উচ্ছেদ করা হবে।

রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাসে আজ বৃহস্পতিবার ‘নাগরিক সাংবাদিক ও নগর প্রধান মতবিনিময় এবং নাগরিক সাংবাদিকতা কর্মশালা’য় মেয়র একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ট্রস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, ভিসি প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সাখাওয়াত আলী খান প্রমুখ।

সাঈদ খোকন বলেন, চাঁদাবাজি-মাস্তানি করে যারা চলছে, তারা যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের ছত্রছায়ায় দাপট দেখায়। তাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত নেই। তারা কোনো সুস্থ মানসিকতার লোক নয়। নাগরিকদের অসুবিধা করে তারা অবৈধভাবে কিছু করবে, আমি যতদিন অফিসে আছি, ততদিন তা হতে দেবো না। অবৈধ দখলদাররা শহরের যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমরা হকারদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছি। বিনা পয়সায় তাদের বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি নানা প্রকল্পে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার ‘ঘরে ফিরো’ কর্মসূচিও হাতে নেয়া হয়েছে।

মেয়র জানান, হকারদের জন্য পাঁচটি হলিডে মার্কেট চালু করা হয়েছে। এরইমধ্যে তিনটি মার্কেট জমে উঠেছে, বাকি দু’টির কাজ চলছে। নাইট মার্কেট চালু করা হয়েছে। এভাবেই সব হকারকে পুনর্বাসন করা হবে।

তিনি বলেন, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকরা কথা বলছেন না। বিরোধিতা করছে চাঁদাবাজ-মাস্তানরা। এদের প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি।

২০১৮ সালের মধ্যে পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সব অনিয়ম, মাস্তানি, চাঁদাবাজি দূর করা হবে বলেও জানান সাঈদ খোকন।

বায়ু দূষণ নিয়ে সিটি করপোরেশন কী ভাবছে? মতবিনিময়ে এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, দিল্লি শহরের তুলনায় বায়ু দূষণে ঢাকা স্বর্গ। ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি, তবে অন্যান্য শহরের তুলনায় কম। মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ ও রাস্তা সংস্কারের জন্য বায়ু দূষিত হচ্ছে। দূষণ রোধের মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। আমরা তাদের সাথে মিলে একটি রোডম্যাপ তৈরি করবো। তবে এখনই সমস্যার সমাধান হবে, এটা বলছি না। এটা সময়সাপেক্ষ। আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও ফাহমিদুল হক।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.