ঢাকা, মঙ্গলবার,৩০ মে ২০১৭

রাজনীতি

আশেপাশে ভূমিকম্প হচ্ছে, আমরা এখন ভয়ে ভয়ে থাকি : আনিসুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১০


প্রিন্ট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, আমরা এখন ভয়ে ভয়ে থাকি। আশেপাশের দেশে বড় ভূমিকম্প হচ্ছে। রিখটার স্কেলে ৭, ৭.৫ এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এখন কল্পনা নয়, বাস্তব। ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৬টি ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে। ৭৫ হাজার ভবন পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৯৬ হাজার ভবন নিশ্চিহ্নের পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা যাবে।

রাজধানীর বারিধারার একটি হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির ‘আরবান ডিজাস্টার রেসিলেন্স ইনডেক্স (ইউডিআরআই)’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর কমিউনিটি বেইজড ডিআরআর ইন আরবান এরিয়াস অব বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিস্থিতি নিয়ে ইউডিআরআই নিরূপণ করা হয়।
জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় এ ইউডিআরআই নিরূপনের কাজটি করেছে। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, জাইকার প্রতিনিধি তাকাতোশি নিশিকাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের ডিন ড. এ এস এম মাকসুদ, সিড এশিয়ার বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রাজিব শুক্লা প্রমুখ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডিএনসিসি এলাকার ২০১৬ সালের ইউডিআরআই এর গড় মান ২ দশমিক ৫২ যা ২০১০ সালে ছিল ২ দশমিক ৩৫। ইউডিআরআই এর সর্বোচ্চ মান ৫, তবে এর মান ৪ এর উপরে হলে তা উচ্চমান সম্পন্ন বলে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, অবকাঠামোগত (মান ৩ দশমিক ৩৭) এবং সামাজিক (মান ২ দশমিক ৫৩) সক্ষমতা বৃদ্ধির সামর্থ ডিএনসিসির রয়েছে। অর্থনৈতিক (মান ২ দশমিক ২৩) এবং প্রাকৃতিক (মান ২ দশমিক ৩৭) সক্ষমতার ক্ষেত্রেও ডিএনসিসির অবস্থান অনেকটা আশাব্যঞ্জক। তবে প্রাতিষ্ঠানিক (মান ২ দশমিক ১১) সক্ষমতা অর্জনে এখনও অনেক কাজ করতে হবে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা কি কোনো প্রস্তুতি নিয়েছি? এমন প্রশ্ন রেখে মেয়র বলেন, এক রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ সরাতে তিন থেকে চার মাস লেগে গেছে। আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন করলেও, অভাব সুশাসনের। যেকোনো মুহূর্তে দুর্যোগ হতে পারে- এজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য স্কুল, কলেজের পাশাপাশি এলাকাবাসী সবাইকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে এসব পাবলিক প্লেস নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

আনিসুল হক বলেন, অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন পাঁচ বছর পর ঢাকাকে কেমন দেখতে চান। আমি সবসময় চিন্তা করি, মেয়র হিসেবে সম্মানের সাথে যেন চলে যেতে পারি। আর এমন কাজ করে যাবো, যেন ঢাকাবাসী আমাকে মিস করে। আমি ঢাকাকে গ্রিন সিটি, নিরাপদ ও লাইটিং সিটি করে যেতে চাই।

মেয়র বলেন, দেড় বছরের মধ্যে ঢাকা সিটিকে সুন্দর লাইটিং করে দেবো। এজন্য ইউরোপ থেকে কম খরচে ভালো মানের লাইট নিয়ে আসবো। আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ ঢাকা উত্তরের কোনো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকবে না।

তিনি বলেন, উত্তর সিটিতে নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে ৮শ’ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এ ধরনের মোট পাঁচ হাজার ক্যামেরা লাগানো হবে। এছাড়া ফুটপাত আট ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৫ ফুট করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫