ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বাংলাদেশীদেরকে লজ্জা দিলেন প্রবাসী আফ্রিকান সুলায়মান

মিনা ফারাহ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:২৬


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

স্বৈরাচার পতন থেকে কারাগারে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত অদ্বিতীয় ভূমিকা যে প্রবাসীর, সুলায়মান গুয়েনগুয়েন মানবাধিকারের জগতে একজন হিরো। শাদের স্বৈরশাসক হিসনে হেব্রের শাসনামলে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা থেকে ব্রাশফায়ারে গণহত্যা... সব করেছে। অকারণেই তিন বছর জেলে রেখে অমানবিক শাস্তি দিয়েছে সুলায়মানকেও, পতনের উৎপত্তি সেখানেই।
আফ্রিকা... যেখানে গৃহযুদ্ধ আর গণহত্যা ছাড়া দৃশ্য নেই। ইদিআমিন, চার্লস টেলর, বশির, মুগাবে, কুনো ... স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচাতেই, শান্তিমিশনে (আসলেই যা অশান্তিমিশন) সর্বোচ্চসংখ্যক মার্সেনারি পাঠিয়ে হিরো হওয়ার প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশের কিন্তু প্রদীপের তলে কেন এত অন্ধকার?
আফ্রিকান স্বৈরাচারদের অভিনব হাতিয়ার ‘শিশুযোদ্ধা’। নাবালকদের গুম করে খুনি বানাতে ব্যবহার করে মদ, ড্রাগ ও নারী। লাইবেরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ স্বৈরাচারের পূর্ণদলিল। পুরো ছবিটিই ইউটিউবে। গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ঘরে ঘরে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি... দায়ী কারা? সমস্যা একটাই, সব দেশেই গডফাদারদেরই সমর্থক বেশি। আফ্রিকার সাথে তাল মিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বেও এদের সরব উপস্থিতি প্রায় মহামারী পর্যায়ে। পার্থক্য একটাই, আফ্রিকান স্বৈরাচারদের শরীরে গণতন্ত্রের পৈতা নেই।
কয়লার মতো কালো গায়ের রঙ। ভাবলেশহীন মুখ, লাখ লাখ আফ্রিকানদের ভিড়ে, সবার মতোই একজন। না ছিল হাইস্কুল সার্টিফিকেট কিংবা স্টকমার্কেট ওঠানামা করানোর মতো রাজনৈতিক পেশি। অথচ তার পেছনেই ছুটছে এলিট শ্রেণী। এমনকি তাকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। বাংলাদেশকে বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন গুয়েনগুয়েন।
হিসনে হেব্রেকে কাঠগড়ায় তুলতে যা প্রয়োজন, জীবন্মৃতপ্রায় ২২ হাজার ভিকটিমের জবানবন্দী সংগ্রহের সব কৃতিত্ব তার একার। জেল থেকে বের হয়েই, ১০ বছর ধরে জীবন বাজি রেখে অতি গোপনে ভিকটিমদের তথ্যসংগ্রহ। পুরস্কার কিংবা মন্ত্রিত্ব লক্ষ্য নয়, বরং স্বৈরাচারের শাস্তি। রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর, অনেকের মতোই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে, ছেলেটি উবার চালায়। ‘এখন আমি স্বর্গে আছি’- বলেছেন সুলায়মান।
ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহের আগ পর্যন্ত, একটি আদালতকেও রাজি করানো যায়নি। অবশেষে সেনেগালের কোর্টে বিচার শুরু কিন্তু সেখানেও স্বৈরসমর্থকদের হইচই। জেলে বসেই গুয়েনের সিদ্ধান্ত, বের হলেই হেব্রেকে তার জায়গায় পৌঁছে দেবেন এবং দিয়েছেনও।
গত ১১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমস, ‘...গুয়েনগুয়েন একজন হিরো’। তার সাহায্য ছাড়া হেব্রেকে কাঠগড়ায় তোলা অসম্ভব। সাধারণ মানুষের ভিড়ে অসাধারণ এই মানুষটি এখন ব্যস্ত পুরস্কার, সেমিনার, মানবাধিকার রক্ষার কাজে। শাদিয়ানদের তদন্তকারী টিমের সাথে কাজ করার সময় চোখের রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ, জেলের অত্যাচার। মানবাধিকার আইনজীবী তাকে চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে এনে নিজের বাড়িতে রাখেন। ফিরে গেলে জীবন বিপন্ন তাই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা। নেই কাজ, নেই যোগ্যতা, ভাতার ওপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তাকর্মীর কাজ পেলেও, হঠাৎ পা ভেঙে গেল, একটি মুদির দোকান দিলে সেটাও ব্যর্থ। এর মধ্যেই মারা গেল একমাত্র উপার্জনকারী কন্যা। বাধ্য হয়ে ভাঙা পায়েই ট্যাক্সিচালক। বসবাসের অযোগ্য সিটি শেল্টারে বসেই ওয়্যারক্রিমিনালের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাওয়া। ফের আফ্রিকায় আরেক কন্যার মৃত্যু। বাড়িভাড়া করলেও, ভাড়া দিতে না পারায় উৎখাত। আবারো শেল্টার থেকে শেল্টারে।
এত দুর্ভাগ্য যার, বিচার চাওয়া থেকে কিছুই দমাতে পারেনি। যেভাবে অসাধ্য সাধন।
হেব্রের বিরুদ্ধে তখন পশ্চিমের মিডিয়া, হলিউডের একাধিক অভিনেতা, লেখক, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট... নিকোলাস ক্রিস্টভ এবং জর্জ ক্লুনি অন্যতম... সরব।
ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অফিসের একটি তদন্ত টিম তখন স্বৈরাচারের ওপর কাজ করতে শাদে থাকা অবস্থায় সুলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ। আফ্রিকান স্বৈরশাসকদের বিচারে বরাবরই ভূমিকা রাখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কিন্তু শান্তিমিশনের নামে বরং স্বৈরাচারদের জন্যই সুবিধার সৃষ্টি করছে জাতিসঙ্ঘ। অন্যথায়, অন্যায়ের শাস্তি দিতে গণ-অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই। আর এখানেই মার খেয়েছে বাংলাদেশ। বলছি, শান্তিমিশনে সৈন্য পাঠিয়ে বিখ্যাত ভাবার কারণ সঠিক নয়। কঠিন সত্য আলোচনায় নেই বলেই ভেঙেচুরে পড়ছে আমাদেরও মানবাধিকার পরিস্থিতি।

যে কারণে সুলায়মান প্রাসঙ্গিক। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতাদখলকারীরা পশ্চিমা মিডিয়াকে পুরোপুরি বাইরে রাখতে সাকসেসফুল। উদ্দেশ্য, স্বৈরাচারের খবর যেন পশ্চিমের কোথাও প্রচার না হয়। হলেই অ্যাক্টিভিস্টরা জেগে উঠবে। এর মধ্যেও যতটুকুই হয়, ভিন্নমতের মিডিয়ার জীবন তছনছ করার কাহিনী কে না জানে!
উদাহরণস্বরূপ, রানা প্লাজার ঘটনায় পশ্চিমা মিডিয়ার একজনকেও ভিসা দেয়নি। দলের এমপি মুরাদ জংয়ের সাথে খুনি সোহেল রানার রাজনৈতিক সম্পর্ক তত দিনে প্রচার হয়ে গেছে। মুরাদের আশকারায় ভিত্তির অতিরিক্ত আরো চারতলা নির্মাণ করলে, ভবন ভেঙে মরার পাহাড়। একই ধরনের পলিটিক্যাল করাপশনের খবরগুলো পশ্চিমের মিডিয়ায় পৌঁছালে হয়তো গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে চলে যেত মুভমেন্টবাদীরা। তাজরীনের আগুন কি থেমেছে? গুহায় থাকা সাংবাদিকদের প্রকাশিত খবরের পরেই আদালতে টানাহেঁচড়া। শাপলা চত্বরের ঘটনায় ভিন্ন মতের মিডিয়ার পরিণতি কী? হোলে আর্টিজানের ঘটনা দৈবক্রমে লাইভ প্রচার হলে, কারো ঝালঝাড়া কি গ্রহণযোগ্য? উদ্দেশ্য, একটি খবরও দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধ। এরা জানে, মানবাধিকার প্রশ্নে চার্লস টেলর, হেব্রের পরিণতি। ‘শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান... আমাদের নিকোলাস ক্রিস্টভ, কিন্তু কারামুক্ত হয়েই কোথায় লুকান তারা? এখানেই সব প্রশ্নের জবাব।’
সেনেগালে নির্বাসিত ক্রিমিনালের বিচার শুরু হলে, ব্রোডির সাথে মূল্যবান সাক্ষী সুলায়মানকে বারবার যেতে হয়েছে আদালতে। ২০/৭/১৫তে গার্ডিয়ান, ‘হেব্রে নিজেকে ঈশ্বরের মতো ভাবত। সব কিছুতেই হুমকি মনে করত। কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে, সিংহের মতো ছিঁড়ে ফেলত। হেব্রের ছিল ডিডিএস নামের সিক্রেট পুলিশ নেটওয়ার্ক যাদের দিয়ে হাজার হাজার ব্রাশফায়ার, ক্রসফায়ার...’ বলেছেন সুলায়মান।
টাইমসকে মানবাধিকার জগতের সুপারস্টার সুলায়মান, ‘আমি যদি এই অবস্থা চলতে দিয়ে স্বাভাবিক জীবন পালন করতাম, নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করতাম, যেমন অর্ধেক মানুষ। হেব্রে হয়তো বলছে, সে এখন তার জায়গায়, আর আমি কারাগারে... এখন অন্যদের সাহায্য করতে চাই।’
‘পৃথিবী যতই ডিজিটাল হচ্ছে, স্বৈরাচারেরাও পাল্লা দিয়ে সুপার ডিজিটাল হচ্ছে। কেউ গণতন্ত্রের পৈতা পরে, কেউ পৈতা ছাড়া।’ তৃতীয় বিশ্বের যাদের গণতান্ত্রিক বলি, বেশির ভাগই ভুয়া। ক্ষমতা নিয়েই নিজেকে হেব্রের মতো ঈশ্বর বানিয়ে ভিন্নমতের জীবনের ওপর ত্রাস চালায়। কাশ্মিরে কী করছেন মোদি আর শ্রীলঙ্কায় কী করল রাজাপাকসে? অতএব, পৈতা অথবা পৈতা ছাড়া, সব স্বৈরশাসকের চরিত্র এক।

’৮০তে যখন দেশ ছাড়ি, স্বৈরাচার তখনো থাকলেও সুলায়মানদের দেশেই মরতে হতো। কারণ রেগানের ইমিগ্রেশন রিফর্মের আগ পর্যন্ত, বিশেষ কারণ ছাড়া আমেরিকার ভিসা বন্ধ, মুসলমানরা তো নয়ই। উদাহরণস্বরূপ, ওবামার বাবাকে ভিসা দিলো তার বুদ্ধিবৃত্তির কারণে। অবৈধদের চাকরি, রাজনৈতিক আশ্রয়, সেকেন্ড হোম... প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ইমিগ্রেশন রিফর্মের পরেই সব বদলে গেছে।
স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ার হিড়িক, বাংলাদেশ সম্ভবত শীর্ষে। দেশ স্বাধীন করার পরেও যে যেভাবে পারছে, কেন দেশ ছাড়ছে? পশ্চিমের প্রবাসী বাংলাদেশী সমাজে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনজীবীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ‘দিগন্ত টিভি’, ‘আমার দেশের’ মতো ঘটনার পেছনের ঘটনা, এখন পর্যন্ত জায়গামতো পৌঁছায়নি। রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পশ্চিমের নিরাপত্তাই কি সব? ‘আমাদের দেশে সুলায়মান সৃষ্টি না হওয়ার প্রধান বাধা এটাই।’
গণতন্ত্রের পৈতা পরা স্বৈরশাসকেরা যতই লুকাক, সরব বঙ্গোপসাগর থেকে ভেনিসের তীর এবং মেক্সিকো-আমেরিকার বর্ডার। গেল ৯ বছর ধরেই বিশেষ করে ভিন্নমতের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মীদের দেশ ত্যাগের হিড়িক। বাংলাদেশ যেন আরেক আফ্রিকা, ঘটনাগুলো ঘটছে গণতন্ত্রের পৈতার তলে এবং ভিকটিমদের নিষ্ক্রিয়তায়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও নিষ্ক্রিয়। তবে মানবাধিকারের রিপোর্টগুলো নিয়মিতই প্রকাশ করছে। বিদেশে বেগমগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সেকেন্ড হোমের সংখ্যা বাড়ার কারণ পরিষ্কার।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে হিতে বিপরীত। ইমিগ্রেশনের ব্যবহার, অপব্যবহার দুটোই চরমে। ভিকটিমদের নিরবতা (বিশেষ করে সাংবাদিক), স্বৈরাচারদের জন্য আশীর্বাদ। ‘রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা বৈধ হচ্ছে কিন্তু যে কারণে দেশত্যাগ, হারিয়ে যাচ্ছে সেটা। ব্যতিক্রম সুলায়মান, রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েও হারাননি দায়িত্ববোধ।’
‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের’ নাম শোনেনি, সচেতন একজন বাংলাদেশীও কি আছে? ৯ বছর ধরেই কর্মকাণ্ডের সাথে দ্বিমত পোষণকারী সংস্থাগুলো যত লিখেছে, এত গভীর এবং বিশাল পরিসরের পরিসংখ্যান, আফ্রিকার বেলায়ও করে কি না সন্দেহ। গুগল সার্চেই প্রমাণ। ‘সরেজমিন তদন্ত হয় কিন্তু প্রতিবারই মিথ্যাবাদী বানানো হয়।’
বিডিআর থেকে ট্রাইব্যুনাল, সাত মার্ডার থেকে সংখ্যালঘু ইস্যু, প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা, একমাত্র পাগলের প্রলাপ। নিশ্চয়ই মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাঁজাখোরি গল্প লেখে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করে সেটাই। অর্থাৎ তারাই শতভাগ সত্য, হেব্রেও সেটাই ভাবত।
বাংলাদেশে অবস্থিত স্যাটেলাইট সংগঠনগুলোর সংখ্যা কত? টিআইবি, অধিকার... যা লিখছে সারা বছর, সবই গাঁজাখোরি? সমীক্ষা চ্যালেঞ্জের বদলে মিথ্যাবাদী বানানোর গেইমথিওরি। আদালতের কাঠগড়া শেষে ‘অধিকার’ এবং ‘এলেন’-এর মতো বহু মানবাধিকারকর্মীর ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। হেনস্তার অন্যতম... নিবন্ধন বাতিল, গুপ্তচর লাগিয়ে রাখা, ভিসা ক্যানসেল, দেশত্যাগে বাধ্য করা... গণতন্ত্রের পৈতার তলে এ যেন নীরব আফ্রিকা। পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের ক্যামেরা দূরে রাখতে পারাটাই আওয়ামী লীগের এক নম্বর সাফল্য। সাত মার্ডারের সাথে র‌্যাবের সম্পর্ক, বিডিআর মার্ডারের মূল হোতা... আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এলে, বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা অন্য রকম হতো।
হয়নি বলেই হেব্রোর ‘ডিডিএস’ বাহিনীর মতো বাংলাদেশেও চালিয়ে যেতে পারছে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড। আমাদের দুর্ভাগ্য, জায়গামতো কড়া নাড়তে ব্যর্থতা এবং পরিবার নিয়ে ভিকটিমদের সুখে থাকার প্রবণতা। এ জন্যই কাঠগড়ায় তোলার বদলে, ক্রসফায়ার-ব্রাশফায়ার খ্যাতদের বন্ধু হিসেবে দাঁড় করাতে সাকসেসফুল। শেষ পর্যন্ত যা পারেনি ডিডিএস।

যেভাবে চলছে, কিচ্ছু হবে না। দেশী অ্যাক্টিভিজম রীতিমতো হাস্যকর। জগৎশেঠদের বিস্তার সর্বত্রই। এদের প্রতিহত করার একমাত্র অস্ত্র, আইনি লড়াই। এ জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চসংখ্যক ভিকটিমের নির্ভুল তথ্যপ্রমাণগুলো জায়গামতো পৌঁছানো। সুলায়মান যা করেছেন লুকিয়ে, আমাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা। যথেষ্ট ফুটেজ মিডিয়া এবং ভিন্ন মতের পাবলিকের সংগ্রহে। শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবকে কেন্দ্র করে গণহত্যা... তথ্যপ্রমাণগুলো মূল্যবান সাক্ষী।
যা সবচেয়ে অস্বস্তিকর, শাদের জনসংখ্যা মাত্র ১২ মিলিয়ন বনাম আমাদের ১৭০-এর ওপরে। আফ্রিকা হচ্ছে বুদ্ধিহীন আর শিক্ষাহীনদের দেশ। সে তুলনায় বাংলাদেশীরা অনেক উন্নত। কিন্তু তার পরেও গণতন্ত্রের পৈতা পরা স্বৈরশাসন একটি দেশে কিভাবে চলতে পারে, মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন এটাই।

পশ্চিমে বাংলাদেশী দুই পক্ষেরই ব্যারিস্টারের সংখ্যা কত? গুগল সার্চ দিলেই চোখ উল্টে যায়। লন্ডনে বরং বিরোধীদলীয় ধারার ব্যারিস্টারদের সংখ্যাই বেশি। দেশেও তাই। কিন্তু আজ অবধি কেন তারা সুলায়মানের মতো একটি উপায়ও খুঁজে পেল না? বিষয়টি বিস্ময়কর- অগ্রহণযোগ্যও। ব্যারিস্টারদের কাজ কি শুধুই বক্তৃতা, টকশো আর পশ্চিমে নেত্রীরা গেলেই জুতা ছোড়াছুড়ি? এই অভিযোগ আমি বারবারই করেছি। একাধিক ব্যারিস্টার, হেগের ওয়্যারক্রাইম-বিষয়ক আদালতের সাথে যুক্ত। ব্যারিস্টার কামাল হোসেনদের মতো পণ্ডিতদের কর্মকাণ্ডে দারুণ হতাশ। ‘অথচ সুলায়মান কোনো ব্যারিস্টার না হয়েই, স্বৈরাচারকে কারাগারে পাঠিয়ে ছাড়ল। ব্যারিস্টারদের বড়ই লজ্জায় ফেলে দিলেন সুলায়মান।’
বিচারপ্রার্থীকে ১০ বছর ধরে আইনি সহায়তা এবং হেব্রেকে কারাগারে পাঠাতে যার অশেষ অবদান, রায়ের পরেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রোডি লিখেছেন, ‘টায়রনরা যদি নিজের দেশের মানুষদের ওপর ব্র“টাল নির্যাতন চালিয়ে যেতেই থাকে, নির্বাসনে গিয়েও যদি জাঁকজমক জীবনযাপন করে, সেই যুগের অবসান হলো। আজকের দিনটি ইতিহাসের এমন একটি ক্ষণ, যখন ভিকটিমরা তাদের অত্যাচারীকে বিচারের কাঠগড়ায় আনবেই।’
পৈতা কিংবা পৈতা ছাড়া, প্রতিটি স্বৈরশাসকেরই বিচার হওয়া উচিত। শনির দশা থেকে মুক্তি চাইলে, সুলায়মানের অ্যাক্টিভিজম ফলো করা উচিত। ওরা চাইবে যেকোনো মূল্যে বিচার অসম্ভব করা। আর ভিকটিমদের কাজ, যেকোনো মূল্যে তা ব্যর্থ করা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভিকটিম বিরোধী দলগুলো। সুতরাং তাদের উচিত- সার্চ কমিটির ফাঁদে পা না দেয়া। টকশো, সভাসমাবেশ, পল্টন, প্রেস ব্রিফিং... সব বন্ধ। বরং নির্বাহীর অধীনে আবারো ক্ষমতা দখলের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে ধূলিসাৎ করাই একমাত্র লক্ষ্য। ধূলিসাৎ করে বরং যার যার জায়গামতো পৌঁছে দেয়া, যে লক্ষ্য ধরেই এগিয়ে গেছেন দেশপ্রেমী- সুলায়মান।
ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫