ঢাকা, সোমবার,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

উপমহাদেশ

ব্যালট বাক্স রক্ষায় হনুমান!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৩:৫৩


প্রিন্ট
এর আগে মথুরায় বাঁদর প্রতিরোধে হনুমান বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিলো

এর আগে মথুরায় বাঁদর প্রতিরোধে হনুমান বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিলো

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে বিধানসভার ভোট নেওয়া চলছে এখন। ইতিমধ্যেই দুদফা ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে সেখানে। ভোট যন্ত্রগুলি জমা হয়েছে স্ট্রং রুমে, বাইরে রয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদল।

কিন্তু মেরঠ জেলার স্ট্রংরুমগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে আরও এক ‘বিশেষ’ পাহারাদার। তার হাতে অবশ্য কোনও অস্ত্র নেই, কিন্তু প্রশিক্ষণ রয়েছে।

সে উত্তরপ্রদেশ বনবিভাগের প্রশিক্ষিত একটি হনুমান।

বিষয়টা খোলসা করে বলছিলেন মেরঠের প্রধান উন্নয়ন অফিসার ভিশাখ আইয়ার।

‘মেরঠ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটা পরিত্যক্ত কাপড়-মিলে ই ভি এম যন্ত্রগুলো রাখতে হয়েছে। নিরাপত্তার যাবতীয় ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও ওই জায়গাটায় এত বাঁদরের উপদ্রব, যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। আর ভোট বন্দী হয়ে যাওয়া ই ভি এমগুলোর নিরাপত্তা বিষয়টা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাঁদর তাড়াতে আমরা একটা হনুমান রেখেছি সেখানে,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. আইয়ার।

১১ ফেব্রুয়ারি ভোট নেওয়া হয়েছে মেরঠ জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে।

২৪৫১টি ভোট কেন্দ্র থেকে আসা প্রায় ২৫০০ ইভিএম রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কাপড়-মিলে বিশেষভাবে তৈরি স্ট্রং রুমে।

ওই পরিত্যক্ত কাপড়-মিলে কয়েকশো বাঁদরের বসবাস। তারা ভোট যন্ত্রগুলো নষ্ট করে দিতে পারে, এই আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও লাগানো রয়েছে। বাঁদর বাহিনী ক্ষতি করতে পারে সেই ব্যবস্থাতেও।

কিন্তু প্রশিক্ষিত হনুমানরা বাঁদরদের তাড়িয়ে দেয়, তাই এই বিশেষ ব্যবস্থা।

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই বাঁদরের উৎপাত রয়েছে ভয়াবহ রকমের। বিশেষ করে বারানসি বা মথুরা-বৃন্দাবনের মতো হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলিতে হাজার হাজার বাঁদর সেখানকার তীর্থযাত্রী আর নাগরিকদের জীবন একরকম অতিষ্ঠ করে তোলে।

২০১৪ সালে মথুরায় গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। সেখানকার বাঁদরদের আবার বিশেষ নজর মানুষের চশমার ওপরে। প্রথমে নিরাপত্তার বাহিনী ভেবেছিল মি. মুখার্জীকে চশমা না পড়তেই অনুরোধ করা হবে।

পরে অবশ্য রাষ্ট্রপতির ওপরে বাঁদর বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা আটকাতে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রশিক্ষিত হনুমান বাহিনী।

বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে বাঁদর তাড়াতে হনুমান নিয়োগ করার ঘটনায় সাধারণ মানুষ কিছুটা ক্ষুব্ধও।

তাদের কথায়, যদি প্রশাসন তাদের প্রয়োজনে বাঁদর তাড়াতে হনুমান কাজে লাগাতে পারে, তাহলে সেটা বছরভর করা হয় না কেন!

সূত্র: বিবিসি

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫