ঢাকা, মঙ্গলবার,২৮ মার্চ ২০১৭

প্রকৃতি ও পরিবেশ

বসন্ত রাঙানো পলাশ-শিমুলের দেখা মেলা ভার

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১২:০৮


প্রিন্ট

বাংলার প্রকৃতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বড় স্থান দখল করে থাকা বসন্তের স্মারক শিমুল, পলাশ দিন দিন কমে যাচ্ছে । আবহমান বাংলার ঋতু বৈচিত্রের উল্লেখযোগ্য ঋতু বসন্ত। আর বসন্তের মাতাল সমীরণের টকটকে লাল বর্ণচ্ছটায় মন রাঙ্গানো শিমুল-পলাশ প্রকৃতিতে এনে দেয় নতুন মাত্রা। এ ফুলের সৌন্দর্য্যে চারিপাশে যেন সুখকর উৎসবের রোমাঞ্চ বয়ে যায়।

‘ও পলাশ .. ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে / জানি না জানি না আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে . . . লতা মুঙ্গেশকারের কালজয়ী এ গান শিমুল-পলাশকে ভীষণ মনে করিয়ে দেয় বাঙালী হৃদয়ে। এমন অজস্র গানের কথায় কিংবা কবিদের কবিতার ছন্দে উঠে এসেছে বসন্তের এই স্মারক ফুলে।

পলাশ-শিমুল আমাদের বাঙ্গালীর ফুল। ফাগুনের ফুল-বসন্তের ফুল-ভালোবাসার ফুল। বাঙ্গালীর সংস্কৃতির আবাহনে হৃদয়কে সাজায় পলাশ-শিমুলের বর্ণচ্ছটার আভা। প্রেম-ভালোবাসার মধুরিমায় শিমুল পলাশেরা ছন্দায়িত করে তোলে মন, সে কথা অজানা নয় কারোই।

তবে সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি বাংলার দৃশ্যপট আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেকটা হারিয়ে যাওয়ার পথে এই প্রকৃতি সমৃদ্ধ করা গাছগুলো। এক সময় মানিকগঞ্জের প্রায় সব গ্রামেই এই ফুলের দেখা মিলতো। এখন ফাগুনের আগুণ রাঙা এই ফুলের দেখা পাওয়া খুবই দুস্কর।

 

কারণ হিসেবে অনেকের মনে করেন, এটি ফলজ বৃক্ষ নয়, শুধু ফুলের সৌন্দর্য্য। এছাড়াও এই গাছের কাঠ জ্বালানি ছাড়া কোন কাজে আসে না বলে এই গাছ লাগাতে মানুষের এত অনীহা।

জানা গেছে, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে শিমুল এসেছে এই বাংলায়। ইংরেজি নাম সিল্ক কটন। বৈজ্ঞানিক নাম বোমবাক্স সিইবা। মালভেসি গোত্রভূক্ত শিমুল ১৮ রকম হারবাল ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

আর প্রকৃতি তার আপন লীলায় মত্ত হয়ে পত্রহীন গাছের নগ্ন ডালে উজ্জ্বল লাল বা গাড় কমলা রঙের পলাশ ফুটিয়ে মানুষের আদর ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলে। বাংলার হাজার হাজার বৃক্ষরাজির মধ্যে পলাশ অন্যতম। রঙেভরা বসন্তে এই ফুলের বিশাল দখলদারিত্ব। যার বৈজ্ঞানিক নাম- ইঁঃবধ সড়হড়ংঢ়বৎসধ।

দ্বিজেন শর্মা তার বইয়ে লিখেছেন- পলাশ মাঝারি আকারের পত্রমোচী দেশীগাছ। তিনটি পত্র নিয়ে যৌগিকপত্র। ফুল ফোঁটে বসন্তে। ৭.৫ থেকে ১০ সে.মি. আয়তনের শিম ফুলের মতো। বাংলা সাহিত্যে পলাশের প্রভাব অতিশয়।

বাংলার প্রকৃতি, আমাদের ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বড় স্থান দখল করে আছে বসন্ত। জীবন রসায়নে যেন কী এক পরিবর্তন আসে। হৃদয়ে সৃষ্টি হয় প্রণোদনা, নাড়া দেয় এক অব্যক্ত আবহ। কেবল মানব- মানবীর মনেই নয় বৃক্ষরাজি, পক্ষী ও প্রাণিকূলেও এ হাওয়া দোলা দেয়।

শিল্প, সাহিত্য ও মননের কাগজ “মানুষ” পত্রিকার সম্পাদক কবি শফিক সেলিম বলেন, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব আর পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। তিনি আক্ষেপের সুরে জানালেন, দিন দিন শিমুল-পলাশ গাছ উজাড় হওয়ায় প্রকৃতির রুপ খোয়া যাচ্ছে।

মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গায়ের মেঠো পথের ধারে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা শিমুল-পলাশের কোল জুড়ে হেসে ওঠেছে রক্তিম ফুল। তবে সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি বাংলার দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এক দশক আগেও গ্রামগঞ্জের সবখানে এই ফুলের দেখা মিললেও এখন দেখা পাওয়া খুবই দুস্কর। আবহমান বাংলার প্রকৃতির রুপ ও দীর্ঘদিনের পালিত সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে পলাশ-শিমুল গাছ টিকে থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত দেয়া অতীব জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫