ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিবিধ

অভিযোগ পরিবেশবাদীদের

উন্নয়নের নামে মুমূর্ষূ বুড়িগঙ্গার সর্বনাশই করতে যাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:৫৫


প্রিন্ট

পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, উন্নয়নের নামে মুমূর্ষু বুড়িগঙ্গার সর্বনাশই করতে যাচ্ছে সরকার। তারা বলেন, যে উন্নয়ন পরিবেশ ধ্বংস করে তা উন্নয়ন নয়।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবাদিরা এ অভিযোগ করেন।

বুড়িগঙ্গা নদীর যথাযথ সীমানা নির্ধারন ও দখল উচ্ছেদের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনে বুড়িগঙ্গা নদীকে উদ্ধার ও উন্নয়নের নামে হাতিরঝিলে পরিনত করার সরকারি পরিকল্পনার সমালোচনা করেন পরিবেশবাদীরা।

তারা অভিযোগ করেন, নাগরিকদের সাথে পরামর্শ না করেই গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিফিইয়েল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) আর্থিক সহায়তায় সিঙ্গাপুরের কালং ও সিঙ্গাপুর নদী এবং বাংলাদেশের হাতিরঝিলের আদলে বুড়িগঙ্গার দুই তীর সাজানোর ঘোষণা দেয়। ইতোমধ্যে ‘ঢাকা ইনটিগ্রেটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্মার্ট সিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাজারীবাগ থেকে পাগলা পর্যন্ত আধুনিকায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নদী উদ্ধারের নামে নদীকে ঝিলে রূপান্তরের এই পরিকল্পনা নদীকে হত্যার নামান্তর।

বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোয়াজ্জম হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম-সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার চলমান দখল অব্যাহত রাখার সুযোগ দিয়ে, আদালতের রায় যথাযথভাবে মেনে নদীর সীমানা চিহ্নিত না করে এবং দখলবাজদের অবৈধ দখলকে উচ্ছেদ না করে প্রকল্প নকশা প্রস্তুত করায় মুমূর্ষূ আদি-বুড়িগঙ্গার শেষকৃত্য সম্পন্নের আশংকা করছি।

এতে বাপার সহ-সভাপতি স্থপতি মোবাশশের হোসেন বলেন, নদ-নদীগুলোকে হত্যার মাধ্যমে দেশের ভয়াবহ ক্ষতি করা হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তিলে তিলে উপলব্ধি করবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোয়াজ্জম হোসেন বলেন, যে উন্নয়ন পরিবেশ ধ্বংস করে তা উন্নয়ন নয়। সুতরাং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়কারী নদীবিনাশী যেকোনো প্রকল্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল মতিন বলেন, বারবার দখলের চিত্র সরকারের সামনে তুলে ধরার পরও দখল বন্ধ ও উচ্ছেদে কার্যকর ব্যাবস্থা না নিয়ে নদীকে সৌন্দর্য্যবর্ধনের নামে হাতিরঝিল বা অন্য যেকোনো কিছু করা অগ্রহণযোগ্য। নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। না হলে সারা দেশে দখলদাররা নদী দখলে উৎসাহ পাবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবেশবাদীরা নদী সংশ্লিষ্ট সব নকশা ও পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।

তারা বলেন, অবিলম্বে তলদেশ, ঢাল ও পাড়ের সব ধরনের দখল, ভরাট ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী যথাযথভাবে নদীর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা। নদীকে উদ্ধার ও উন্নয়নের নামে লেকে বা ঝিলে পরিণত করার পরিকল্পনা বন্ধের পরামর্শ দেন তারা।

তারা বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

এতে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপার যুগ্ম-সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেণু, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের আব্দুল করিম কিম।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫