ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

কম্পিউটার ও আইটি

কোন পথে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত?

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:১৫


প্রিন্ট

ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিস ও উইপ্রোর মতো ভারতের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছেন প্রচুর আইটি বিশেষজ্ঞ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেই প্রতি বছর ছয় হাজার কোটি ডলার তুলে নিচ্ছে ভারতের আইটি খাত। আর এ জন্যই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতিমালার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে নজর দিতে পারে ভারত। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের আইটি খাত বেশ বড় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে দক্ষ জনশক্তি ও টিসিএসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সাবকন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কর্মবণ্টনের কৌশল দেশটির আইটি খাতের সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে ভারতীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমলে এ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। কারণ এ দুই রাষ্ট্রপ্রধান একে অপরকে নিজ নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানালেও ভিসা ইস্যুতে তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করতে ট্রাম্প সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে সই করেন। এতে অভিবাসী টেক কর্মীরা সঙ্কটে পড়েছেন। বিষয়টি সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিপণ্য ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ক্ষতিকর। কারণ সেখানকার বেশির ভাগ কোম্পানিই অভিবাসী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে এসব কোম্পানি। মার্কিনিদের তুলনায় সাধারণত কম মজুরিতে কাজ করানোর সুবিধা থাকায় আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে প্রতিষ্ঠানগুলোর। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানোর শঙ্কায় ভীত হয়ে উঠেছেন ভারতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এইচ১-বি ভিসার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এইচ১-বি ভিসার মাধ্যমে প্রতি বছর আইটি খাতে প্রচুর দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় ভারত। এ ক্ষেত্রে এইচ১-বি ভিসার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে প্রচুর ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাসকম প্রেসিডেন্ট আর চন্দ্রশেখর। তিনি বলেন, এ সীমাবদ্ধতা আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি ব্যবসা খাতে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর সংখ্যাও অনেক কমে যাবে।
মার্কিন কংগ্রেসে এরই মধ্যে এইচ১-বি ভিসা প্রোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রয়াস হিসেবে তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী পাঠানোর খরচ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে সিলিকন ভ্যালিতে ভারতীয়দের প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়টি আরো কঠিন হয়েছে। ভারতীয় আইটি খাতের অনেক শিক্ষার্থী এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। এইচ১-বি ভিসার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয়দের পাশাপাশি আরো অনেকের কাজের সুযোগ কমে গেল।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজের (নাসকম) প্রেসিডেন্ট আর চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্মীর কারণে মার্কিনিরা চাকরির সুযোগ হারাচ্ছেন এটা ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবতা হলো, সেখানে এ ধরনের কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্টসংখ্যক দক্ষ কর্মী নেই। সে ক্ষেত্রে এসব কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে হয় পদ খালি রাখতে হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশে কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দুটোর কোনোটাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ফল নিয়ে আসবে না। এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি হতাশ করছে ভারতের আইটি খাতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের। ভারতের আইটি আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রির মোট ভ্যালু ১০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। দেশটিতে এ খাতে কর্মরতের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

অন্ধকারে আশার আলো
গুগলের শীর্ষ নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় সাফল্যের সিঁড়িতে পা রাখার স্বপ্ন দেখছেন বেশির ভাগ ভারতীয়। বর্তমান সময়ে ভারতের সবচেয়ে উদীয়মান আর্থিক খাত দেশটির প্রযুক্তি শিল্প। ভারতীয় প্রযুক্তিপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাগ্রহণের পর রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতির পথে এগোচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে মনোযোগ বাড়ানো উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বদলে এখানেই নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের পর এ তালিকায় ভারতীয়রা প্রথমেই রাখছেন চীনকে। চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য উন্নয়নে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে চীনের নানজিয়াং প্রাদেশিক সরকারের সাথে যৌথভাবে একটি বাণিজ্য সম্মেলন করেছে ভারতের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজ (নাসকম)।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর খোলা বাজারে এত দিন বেশ ভালোই ব্যবসা করে যাচ্ছিল ভারতীয় সফটওয়্যার নির্মাতারা। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপের অর্থনীতিও রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে। আর এতেই বদলাতে শুরু করেছে সমীকরণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫