ঢাকা, বৃহস্পতিবার,৩০ মার্চ ২০১৭

কম্পিউটার ও আইটি

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাতে পারে ভারতীয়রা

আহমেদ ইফতেখার

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৬:২৫


প্রিন্ট

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আইটি খাত বেশ বড় হয়ে উঠেছে। দক্ষ জনশক্তি ও টিসিএসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কর্মবণ্টনের কৌশল ভারতের আইটি খাতের সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেই প্রতি বছর ছয় হাজার কোটি ডলার তুলে নিচ্ছে ভারতের আইটি খাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এইচ১-বি ভিসার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানোর শঙ্কায় আছেন ভারতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এইচ১-বি ভিসার মাধ্যমে প্রতি বছর আইটি খাতে প্রচুর দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় ভারত। সে ক্ষেত্রে এইচ১-বি ভিসার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে প্রচুর ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাতে পারেন।
ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিস (টিসিএস) বা উইপ্রোর মতো ভারতের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছেন প্রচুর আইটি বিশেষজ্ঞ। গুগলের শীর্ষ নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের ক্যারিয়ারেরও শুরু এভাবেই হয়েছিল। এখনো এভাবে সাফল্যের সিঁড়িতে পা রাখার স্বপ্ন দেখছেন অনেক ভারতীয়। যদিও এই খাতে মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সবচেয়ে বেশি হতাশ করছে ভারতের আইটি খাতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের। মার্কিন কংগ্রেসে এরই মধ্যে এইচ১-বি ভিসা প্রোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রয়াস হিসেবে তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন-সংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী পাঠানোর খরচ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে সিলিকন ভ্যালিতে ভারতীয়দের প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে এসেছে।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজের (নাসকম) হিসাব অনুযায়ী, ভারতের আইটি আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রির মোট ভ্যালু ১০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। দেশটিতে এ খাতে কর্মরতের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাসকম প্রেসিডেন্ট আর চন্দ্রশেখর। তিনি বলেন, এ সীমাবদ্ধতা আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি ব্যবসা খাতে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর সংখ্যাও অনেক কমে যাবে। এসব কর্মীর কারণে মার্কিনিরা চাকরির সুযোগ হারাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্টসংখ্যক দক্ষ কর্মী নেই। সব কিছু মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতিমালার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে নজর দিতে হবে ভারতকে। আর সেটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ফলপ্রসূ হবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫