ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

প্রশাসন

রিজার্ভের টাকায় ‘সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৭:০৭


প্রিন্ট
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ থেকে পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। এই তহবিল গঠিত হলে সরকার জনস্বার্থে রাষ্ট্রীয় জরুরি যেকোনো কাজে বা বড় প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে।

আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হযেছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে এ তহবিল শুরু হবে। আগামী পাঁচ বছরে তহবিলের মোট পরিমাণ হবে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের রিজার্ভ যদি ৩০-৩২ বিলিয়ন ডলারের হয়, ওখান থেকে আমরা দুই বিলিয়ন ডলার নিলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে না। কারণ গত পাঁচ বছর ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণে ক্রমেই বাড়ছে। এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে নানা সময় নানা চিন্তা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা কখনও ছিল না।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে। এটা আমাদের বড় প্রয়োজন হয় যখন বিদেশীদের সাথে ম্যাচিং ফান্ড করি, আমাদের ডলার দিতে হয়। দেখা গেল যে, কোনো বিদেশি ব্যাংক আমাদের লোন দিল এবং বলা হলো যে, সরকার এত পারসেন্ট সমপরিমাণ ডলার দেবে, তখন এটা সাপোর্ট দেয়ার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এটা যদি হয় তাহলে আমাদের জন্য একটা ভালো সুবিধা হবে। আমরা এখান থেকে ওই টাকাটা পুনর্ভরণ করতে পারব।’

এই তহবিলের বহুমুখী ব্যবহার হতে পারে জানিয়ে সচিব বলেন, সরকার ‘জনস্বার্থে’ যেকোনো বিনিয়োগে এর অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তা কাজে লাগানো যাবে।

আইন ও কাঠামো তৈরি হলে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের এই প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, বর্তমানে বাইরের ব্যাংক থেকে ইনফরমালি লোন নেয়া হয়। এখন একটা সিস্টেমের মধ্যে আসবে। আইন হলে বিস্তারিত জানা যাবে। এর আইন ও কাঠামো তৈরির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তখন এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়ার অনুমোদন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, বৈঠকে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালের এই আইনে শিরোনামে ‘কৃষিকাজ’ শব্দটি উল্লেখ ছিল না। এই আইন লঙ্ঘন করলে ১০ ধারায় শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল দুই হাজার টাকা জরিমানা। নতুন আইনে দুই হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি সাত দিনের কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষিকাজে নলকূপের লাইসেন্স প্রদানে স্থানীয় কমিটির অনুমোদনসহ বিভিন্ন নিয়মকানুন বহাল রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সচিব বলেন, আগের আইনে বলা ছিল, উপজেলা চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ ছাড়া এ আইনের অপরাধ আমলে নেয়া যাবে না। তবে নতুন আইনে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের মিউচুয়াল ইভেলুয়েশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা উন্নত অনেক দেশের সমান। এ থেকে বলা যায় যে বাংলাদেশে সেই অর্থে মানি লন্ডারিং নেই।

বাণিজ্য সংগঠন ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আইন খসড়ার অনুমোদন
মন্ত্রীসভায় বৈঠকে বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশ দিয়ে চলতো। অধ্যাদেশটি ছিল ইংরেজিতে। এটিকে নতুনভাবে বাংলায় আইন আকারে করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আইন-২০১৭ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটিও ইংরেজি থেকে বাংলায় করা হয়েছে। তবে জাল সনদ ও ভুয়া সনদের জন্য জরিমানা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই আইনে সাজাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ সাজা ছিল ছয় মাসের কারাদন্ড। সেটিকে তিন বছর করা হয়েছে।

জাহাজে সমুদ্রের পানি ঢুকানোর ঘটনায় দূষণ রোধে নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগে সমর্থনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সমুদ্রে জাহাজ চলার সময় মালামাল কম থাকলে জাহাজে ভারসাম্য থাকে না। সেজন্য জাহাজে পানি ঢুকানো হয়। অনেক সময় ওই পানির সাথে সামুদ্রিক প্রাণীও জাহাজে ঢুকে পড়ে। এসব প্রাণী আটকে থেকে পানি দূষিত করে ফেলে। যখন এসব জাহাজ বন্দরে নোঙর ফেলে যখন ওই দূষিত পানি ফেলে দেয়। এসব দূষণ রোধে ৫৩টি দেশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এসব দেশ বিশেষ উদ্যোগে অনুসমর্থনও দিয়েছে। সেই জোটভুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশও। এজন্য আইএমও কর্তৃক প্রবর্তিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফল দি কনট্রোল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব শিফস ব্যালেস্ট ওয়াটার অ্যান্ড সেডিমেন্ট (বিডব্লিউএম) -২০০৪ এর খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সমুদ্রে জাহাজ পরিচালনার সময় জাহাজের তলদেশে এক ধরনের রঙ ব্যবহার করা হয় যাতে সামুদ্রিক কোনো প্রাণী জাহাজের সাথে কামড়ে না থাকতে পারে। কারণ কামড়ে থাকলে জাহাজের গতি কমে যায়। এজন্য ওই বিশেষ রঙ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ওই রঙও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এসব বন্ধে বিশ্বের ৭৭টি দেশ বিশেষ উদ্যোগে অনুসমর্থন করেছে। সেটিতেও যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য আইএমও কর্তৃক প্রবর্তিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফল দ্য কনট্রোল অব হার্মফুল অ্যান্টি ফৌলিং সিস্টেমস অন শিফস (এএফএস)- ২০০১ এর খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও জাতীয় চার নেতার একজন কামারুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা জামানের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫