ঢাকা, সোমবার,২৪ জুলাই ২০১৭

আগডুম বাগডুম

সবচেয়ে বিষাক্ত ব্যাঙ গোল্ডেন পয়জন ডার্ট ফ্রগ

মো: আবদুস সালিম

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তোমাদের অনেকেই শুনে থাকবে ব্যাঙের লালা বিষাক্ত। তবে বিষাক্ত ব্যাঙ যে এ পৃথিবীতে আছে তা মানতে হবে। শুধু তা-ই নয়, কঠিন বিষের ব্যাঙও আছে। এ বিষ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য খুবই ক্ষতিকর বা মারাত্মক। এ ধরনের ব্যাঙকে বলা হয়ে থাকে ‘ঘাতক ব্যাঙ।’ এ বিষ কোনোভাবে কারো পেটে গেলে তার আর রক্ষা নেই, নির্ঘাত মৃত্যু। এ ব্যাঙের নাম দেয়া হয়েছে সোনালি বাণ। ইংরেজিতে বলা হয় গোল্ডেন পয়জন ডার্ট ফ্রগ (এড়ষফবহ চড়রংড়হ উধৎঃ ঋৎড়ম)। তবে এরা দেখতে সুন্দর; যে কারণে অনেকে এ ব্যাঙকে সাধারণ ব্যাঙের মতোই বিষমুক্ত প্রাণী মনে করে থাকে। সোনালি বাণ নাকি উভচর প্রাণী। এরা ডেনড্রোবাটিডা গোত্রের ব্যাঙ বলে জানা গেছে। এদের বেশি দেখা যায় কলম্বিয়া বৃষ্টিবহুল বন বা অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাণদের বিষ এতই মারাত্মক যে, মাত্র এক মিলিগ্রাম বিষে দু’টি হাতির মতো বড় প্রাণীর দ্রুত মৃত্যু ঘটতে পারে। এ পরিমাণ বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ১০-১২ হাজার ইঁদুর নিধন করা যায় অতি সহজেই। যাদের এ ব্যাঙ সম্পর্কে কম বেশি ধারণা আছে, তারা এ ব্যাঙের ধারেকাছে যায় না। এখন বুঝতে হবে কেমন মারাত্মক বিষাক্ত সোনালি বাণ।
জানা গেছে, কৌশলে বাণ ধরে এর বিষ সংগ্রহ করে শিকারিরা। তা সংগ্রহ করে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। তারা তা তীরের ফলায় লাগায়। আর এ কারণেই নাকি এ ব্যাঙের নামকরণ করা হয়েছে সোনালি বাণ।
তবে অবাক করা বিষয়ও আছে বিষ বা পয়জনের ব্যাপারে। তা হলো, এ প্রজাতির ব্যাঙ তার নিজ শরীরে কোনো বিষ তৈরি করতে পারে না নিজের যোগ্যতায়। এ বিষ তাদের শরীরে আসে বাইরে থেকে। যেমনÑ এদের বিষ সঞ্চিত থাকে তাদের ত্বকে; যা হয়ে থাকে বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড় ধরে খাওয়ার কারণে। এদের একটি স্বভাব বা গুণ যা-ই বলা হোক না কেন, এরা পোকামাকড় সহজেই ধরতে পারে। তা খেয়ে হজমও করে সহজে। আর খাওয়ার পর বিষ চলে যায় বাণের শরীরের ত্বকে। আর এসবই তাদের স্বাভাবিক খাবার-দাবার। তারা তা না খেলে শরীরে বিষও জমে না। তখন ওরা অন্যান্য সাধারণ প্রাণীর জন্য নিরাপদই থাকে। অনেক সময় শিকারিরা এসব ব্যাঙ ধরে বিষাক্ত পোকামাকড় খাওয়ায় তাদের নিজেদের স্বার্থেই। অর্থাৎ তা করা হয় বিষ সংগ্রহের জন্য। এ বিষ মাখিয়ে তীরে দিয়ে ক্যাঙারু, হরিণ প্রভৃতি প্রাণী বধ বা হত্যা করে। সম্ভবত তা খাওয়ার জন্যই হত্যা করা হয়। অন্যান্য প্রাণী তাদের কাছ থেকে আত্মরক্ষার জন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তেমনি ওরা নিজেদের শত্রু থেকে বাঁচাতে এ বিষ ব্যবহার করে। অকারণে কখনোই বিষ ছাড়ে বা প্রয়োগ করে না সোনালি বাণ ব্যাঙ। এদেরকে সামাজিক ব্যাঙ বলা হয়ে থাকে। কারণ এরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। এ ব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নাম ফিলোব্যাটস টেরিবিলিস (চযুষষড়নধঃবং ঞবৎৎরনরষরং)।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫