ঢাকা, রবিবার,২৮ মে ২০১৭

আগডুম বাগডুম

পাখিরা কেন বৈদ্যুতিক শক খায় না

রফিকুল আমীন খান

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পাখিরা কেন তারের ওপর বসলেও বৈদ্যুতিক শক খায় না, চিন্তা করেছে কখনো! পাখিরাও তো রক্ত-মাংসে গড়া একটি প্রাণী। তা সত্ত্বেও বৈদ্যুতিক শক তাদের স্পর্শ করে না? দারুণ ব্যাপার তাই না। হ্যাঁ, ঠিক তাই। তবে তার আগে বৈদ্যুতিক শক কী, না জানলে হবে? বলছি, শোন।
আমাদের হৃৎপিণ্ডে বৈদ্যুতিক সার্কিট বা বর্তনীর মতোই বিদ্যুৎও সক্রিয় থাকে। হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার এই কারেন্ট তৈরি করে। এই কারেন্ট পারকিনেজ নামের তন্তুর সাহায্যে হৃৎপিণ্ডকে স্পন্দিত করে। বাইরে থেকে বিদ্যুৎ দেহে প্রবেশের পর বর্তনী পূর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের পেসমেকারের অন-অফ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে হৃৎপিণ্ডের কাজ শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় না। পরিণতিতে মৃত্যু অবধারিত। পাখিদের ক্ষেত্রে বড়জোর দু’টি উপায়ে এর শরীরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে। প্রথমত, পাখিরা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে কোনো ধরনের সার্কিট বা বর্তনী তৈরি করতে পারে না। তা ছাড়া বিদ্যুৎপ্রবাহ ঠেকাতে উচ্চমাত্রার প্রতিরোধী ক্ষমতাও এদের রয়েছে। ফলে তারা তারের সংস্পর্শে এলেও বিদ্যুৎ তাদের স্পর্শ করতে পারে না।
আরো একটু খোলাসা করে বলি। তুমি কোথাও বেড়াতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে। দু’টি পথে সেখানে যাওয়া যায়। একটি বেশ মসৃণ। অন্যটি বন্ধুর, খানাখন্দকে ভরা। কোনটা পছন্দ করবে তুমি? নিশ্চয়ই প্রথমটা। বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। বিদ্যুতের চলাচলের পথটা রাস্তার মতোই মসৃণ হতে হয়। তাই পাখিরা তারে বসলেও কোনো রকম উল্টো পথে না গিয়ে বিদ্যুৎ সোজা পথেই চলে।
পাখির শরীর বিদ্যুতায়িত না হওয়ার এটি একটি কারণ। এর বাইরে আরো কিছু কারণ রয়েছে, যার ফলে পাখি কারেন্টের শক থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। ভোল্টেজের তারতম্য এর মধ্যে একটি।
বুঝতেই পারছ, বিদ্যুৎপ্রবাহ খালি চোখে দেখা যায় না। এর কণাগুলো যখনই চার্জ হয় তখনই কেবল বিদ্যুৎপ্রবাহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কণাগুলো চার্জ হতে প্রয়োজন শক্তির। এ শক্তির প্রভাবে সৃষ্ট বিদ্যুতায়িত কণাগুলোকে যখনই অর্ডার করা হয় কেবল তখনই বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে।
কারেন্ট শক তখনই খাওয়ার পূর্বশর্ত হলো ধনাত্মক ও ঋণাত্মক লাইন একসাথে স্পর্শ করা বা বর্তনী পূর্ণ করা। কিন্তু পাখি কখনো একসাথে দুই তারে বসে না। এরা হয় শুধু ধনাত্মক নয়, শুধু ঋণাত্মক তারে বসে। ফলে বর্তনী পূর্ণ হয় না, ফলে পাখি মরে না। যখনই দুই তারে বসে তখনই এদের কপালে খারাবি দেখা যায়। এ জন্যই মাঝে মধ্যে রাস্তার ওপর দিয়ে টানা বিদ্যুতের লাইনে মরা পাখি ঝুলতে দেখা যায়। পাখির মতো আপনি এক তার ধরে ঝুলে থাকলে আপনাকেও শক করবে না।
আরেকটি ব্যাপার হলো, পাখির পায়ের তলায় একধরনের অস্থি বা চামড়া থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে অ্যাডহেসিব প্যাড বলে। এই অ্যাডহেসিব প্যাড বিদ্যুৎ পরিবহনে অক্ষম। এ কারণেই বিদ্যুতের তারে বসলেও শক খায় না পাখিরা।
তা ছাড়া পাখিদের পালকও বিদ্যুৎ অপরিবাহী। তবে পালক তুলে ফেললে নির্ঘাত শক খেয়ে মরে যাবে। বাদুরের কপাল মন্দ। কারণ এর গায়ে লোম নেই। পাখাও বড়। তাই প্রায়ই এদের কারেন্টের তারে মরে শুঁটকি হয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫