ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

কম্পিউটার ও আইটি

তথ্যপ্রযুক্তি সেবার অন্যতম আয়োজন

বেসিস সফটএক্সপো

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:১২


প্রিন্ট

সফটওয়্যার ও টেকনোলজি আমাদের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর এজন্যই আইসিটিবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সফটওয়্যার খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এখন সময় এসেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সাথে সফটওয়্যার খাতকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। এই প্রেক্ষাপটে ‘ফিউচার ইন মোশন’ স্লোগান নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে বেসিস সফটএক্সপো। বিস্তারিত নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ১১তম সফটএক্সপোর মেলার আয়োজন করেছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, উদ্ভাবন, গবেষণা, সফল প্রয়োগ, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা তুলে ধরার প্রয়াসে ২০০২ সাল থেকে বেসিস নিয়মিতভাবে দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় মেলা ‘বেসিস সফটএক্সপো’ আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা, সাফল্য দেখানোর পাশাপাশি আইসিটি খাতের উন্নয়নে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেমিনার ও কর্মশালাসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বিগত যেকোনো সফটএক্সপোর তুলনায় বর্ধিত পরিসরে ও নানা আয়োজনে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইটি সংগঠন, স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার প্রদর্শন করছে। এবারের বেসিস সফটএক্সপোতে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি নীতিনির্ধারক, শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ দর্শনার্থী পদচারণা তুলনামূলক কম। যদিও প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার রফতানি বাড়াতে এবারের বেসিস সফটএক্সপোতে আন্তর্জাতিক বিজনেস টু বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর প্রথম দিন বিকেল ৩টা থেকে এ বিটুবি ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হয়। নেদারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০টি কোম্পানি বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির সাথে আলাদা বৈঠকে মিলিত হয়। এর মাধ্যমে তারা একে অন্যের সাথে আগামীতে ব্যবসায় উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
আয়োজনের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের চাকরির সুযোগ দিতে আছে ‘এন্টারপ্রেওনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ শীর্ষক আয়োজন। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের যথোপযুক্ত জনবল খুঁজে নিতে অংশগ্রহণ করছে। প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিংসহ বিভিন্ন পদের জন্য আগ্রহীরা সিভি জমা দিতে পারবেন। প্রদর্শনীর প্রথম দিন থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে থাকা নির্ধারিত বক্সে সিভি জমা দেয়া যাচ্ছে। আজ সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত ‘এন্টারপ্রেওনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও চাকরিজীবীদের উন্নত ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেয়া হবে।
এ বছর প্রদর্শনী এলাকাকে বিজনেস সফটওয়্যার জোন, আইটিইএস এবং বিপিও জোন, মোবাইল ইনোভেশন জোন ও ই-কমার্স জোন এ চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় প্রসারে রয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন। সেমিনার
এবারের সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্তত ২০টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠান স্থলের মিডিয়া বাজার ও উইন্ডি টাউন হলে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সেমিনারের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় কোম্পানির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ডিজিটাল এডুকেশন ও ই-লার্নিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট অব থিংকস, অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, রফতানি বাজার উন্নয়ন, ডেভেলপিং ইনোভেশন ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি, আইটি মার্কেট রিসার্চ ও কোয়ালিটি সার্টিফিকেশনসহ নানা বিষয়।
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারীকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে একটি সেমিনারে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। গত বুধবার শুরু হওয়া সফটএক্সপোর প্রথম দিনের বৈকালিক অধিবেশনে ‘টেক উইমেন কনফারেন্স ২০১৭’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
দেশে সাইবার সিকিউরিটি সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়। বৃহস্পতিবার বেসিস সফটএক্সপোর দ্বিতীয় দিনে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বক্তারা এমন অভিমত জানান। ‘অ্যাড্রেসিং সাইবার সিকিউরিটি ফ্রম গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক এ সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বেসিস পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির।

টেকনিক্যাল সেশন
এবারের সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ১০টির অধিক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলের গ্রিন ভিউ হলে এসব সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনের মধ্যে রয়েছে- এপিআই এক্সচেঞ্জ, ক্রস প্লাটফর্ম গেইম ডেভেলপমেন্ট, এনক্রিপশন অন ক্লাউড ডেটা, মোবাইল ও গেইমিং অ্যাপ্লিকেশনে ইউআই/ইউএক্সের গুরুত্ব, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড সার্ভার ব্যবস্থাপনার সহজ কৌশল, অনলাইন পেমেন্ট সহজীকরণের মাধ্যমে ব্যবসায় উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবা বাড়ানো, ব্যবসায় উন্নয়নে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাকাউন্টিং বিপিও : সুপ্ত সম্ভাবনা শীর্ষক বিষয়গুলো।

শিশুদের কোডিং প্রোগ্রাম
দেশের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো ‘কোডিং ফর কিডস’ শীর্ষক ২ ঘণ্টাব্যাপী এক কোডিং কর্মশালার আয়োজন করেছে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের কোডিং কর্মশালা বিষয়ে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, আমরা বিভিন্ন স্কুলের ৪০০ স্কুল শিক্ষার্থী নিয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ২০২০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ করবে। শিশুদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জন কিছুটা কঠিন। কিন্তু প্রযুক্তির অপার সম্ভাবনার সুযোগ গ্রহণ করতে অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব গড়তে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কোডিংয়ের ওপর শিশুদের প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫