ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পুতিনের শাস্তি বনাম অমীমাংসিত ৫ জানুয়ারি

মিনা ফারাহ

৩১ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:৩০


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

একটি সত্য ঘটনা। মারা যাওয়ার এক বছর আগে আমার এক আত্মীয়কে বমি আর পেটের ব্যথার চিকিৎসা দেয়া শুরু হলো স্থানীয় হাসপাতালে। ব্যথা ক্রমেই বাড়ল, কিন্তু বিলের আকার বড় করার লোভে তারা বড় হাসপাতালে যেতে দিলো না। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, চিকিৎসা দিয়ে আবারো বড় অঙ্কের বিল। কিছু দিন পর সে মারা গেল। রোগীর হয়েছিল ক্যান্সার। শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা সব কিছুই ক্যান্সারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এক বছর আগে অপারেশন করা হলে হয়তো বেঁচে যেত। আসল রোগের চিকিৎসা না করে ভোগান্তিই বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু জীবন রক্ষা হয়নি।

৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কত বেশি অসহিষ্ণু... পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এসব। আসল রোগ ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন। শ্বাসকষ্টের ডাক্তারেরা যত দিন গোড়ার চিকিৎসা না করে টকশো-সেমিনারের বাকযুদ্ধে কে জঙ্গি, কে ঘোষক খুঁজতে থাকবেন, সমাধান তো হবেই না; বরং রোগী মারা যাবে। লেখার প্রতিটি বক্তব্যই কোনো না কোনোভাবে শিরোনামের সাথে যুক্ত।
পুতিনের প্রশ্ন তুলে ক্ষমতা হস্তান্তরকে থামিয়ে দিতে পারতেন বারাক ওবামা। কিন্তু ৫ জানুয়ারির মতো দুর্ঘটনা না ঘটায়, ক্ষমতা বুঝে পেলেন ট্রাম্প। ভোট চুরি হলে ক্ষমতা হস্তান্তর হতো না। ফলে বিশ্বব্যাপী এর ফলাফল কত ভয়ানক হতো, প্রমাণ ২০০৮-এর গ্লোবাল ধস।

চুরি নয়, হিলারিকে হারাতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিলেন পুতিন। অপর দিকে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল সরাসরি ভোটের বাক্সে দেশী-বিদেশী শক্তিশালী চক্রের হস্তক্ষেপ। উদ্দেশ্য, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ কায়েম। এটা করতে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী। অর্থাৎ পাঁচ ভাগ ভোটের সংসদ। ফলে ওরা যেটাই করে, সাথে সাথে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আর জোরজবরদস্তি চাপিয়ে দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ এই সংসদ।

তিন বছর ধরেই সংবিধানের প্রতিটি আইনের গ্যাঁড়াকলে ঝুলে আছে ৫ জানুয়ারি। জোর খাটিয়ে খারিজ করলেই বৈধ নয়, কারণ বাংলাদেশ কিউবা নয়। অনির্বাচিত সরকারের বিষয়টি সামাল দিতেই ঘটা করে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ পালন। সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বারবার মনে করিয়ে দেয়া, যা ডাহা মিথ্যা। কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতির বিলবোর্ড দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে ঢেকে ফেলা। মানুষ এত বোকা নয়। বৈধতার প্রশ্নটি কোথাও যাচ্ছে না।


৯২ দিনের ধারাবাহিকতায়, তৃতীয় বর্ষপূর্তিতেও গণতন্ত্র হত্যা প্রমাণের চেষ্টা করলে খালেদাকে যমের মতো ভয়। সে কারণেই পল্টনের গেটে পুলিশ, সোহরাওয়ার্দীর গেটে তালা।
ক্ষমতা দখল করতে যত অঘটন। ২০০৮-এর গোমর ফাঁস করে দিয়েছিলেন হিলারি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ফাঁস করল হ্যাকাররা। হস্তক্ষেপকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ দলকে বেছে নেয়া হয়েছিল। কারণ তারা মনে করে, বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলে জঙ্গিতে ভরে যাবে উপমহাদেশ। সেটা প্রমাণেরও সর্বোচ্চ চেষ্টা তাদের। দুঃখজনক কিন্তু সত্য, প্রতিবেশী দেশটির পছন্দ ছাড়া, নির্বাচন হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। লঘু পাপে পুতিনের গুরুদণ্ড; কিন্তু তিন বছর পরও ৫ জানুয়ারির অপরাধীদের বিচার দূরে থাক, বরং আরো বেশি শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। দেশদ্রোহিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তির বিধান রয়েছে সংবিধানেই। সে মোতাবেক হস্তক্ষেপকারী দেশটির সাথে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করা স্বাভাবিক, কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা ১৫তম সংশোধনী। ওই অভিশাপ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জনগণের সরকারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
ভোটের বাক্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে যা করেছিল, ওয়াশিংটনের মতো কষ্ট করে গোয়েন্দা তদন্তের প্রয়োজন নেই। ৫ জানুয়ারির ভূরি ভূরি প্রমাণ দুই দলেরই হাতে। বাস্তবে সেদিন কোনো নির্বাচনই হয়নি। ৫ শতাংশ ভোটে জাতীয় সংসদ হয় না। এ ছাড়াও আজ অবধি ১৫৪ জন অনির্বাচিত এবং সরকারের মধ্যেই ‘বিরোধী দল’। ৩০০ সিটের সংসদে একটি সিটেও তিনবার ক্ষমতায় যাওয়া দলটির প্রতিনিধিত্ব নেই। হস্তক্ষেপকারী দেশটির স্বীকারোক্তি, নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছিল তারা। দেশটির প্রভাবশালী নেতারা ঢাকায় এলে বিএনপিকে আর আমলেই নেয় না। এই সংসদকে বৈধ প্রমাণের মতো আদালত, বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ঐকমত্যের ভিত্তিতে পুতিনের শাস্তি হওয়ায় রেফারেন্সটি ৫ জানুয়ারির জবাবদিহিতার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিরুদ্ধেও নতুন সঙ্কট।
প্রভাবশালী বর্ষীয়ান কলামিস্ট কুলদীপ নায়ারের পিলে চমকানো লেখাটির প্রতিবাদ না করে ক্ষমতাসীনেরাও স্বীকার করলেন নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপ। সুজাতা সিংয়ের ভূমিকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে জাতীয় পার্টিকে বাধ্য করারও প্রমাণ। এরশাদকে জেলে ঢোকানোর হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনে না এলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসবে। ওরা সব জঙ্গি, সেটাই কি চান? সুযোগ লুফে নিলেন আরেক মহিলা রওশন। ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মাত্র কয়েক দিন আগে আমেরিকা থেকে বের করে দেয় হলো। কিন্তু তিন বছর পরও সুজাতা সিং ও পঙ্কজ শরনসহ কংগ্রেসের কারোই শাস্তি না হওয়া আমাদের সার্বভৌমত্বে সরাসরি আঘাত। পুতিনের দৃষ্টান্তের পর বল এবার বিরোধীশিবিরের কোর্টে, কিন্তু পল্টনের কর্মকাণ্ড ভীতিকর।
বিরোধীশিবিরে যে শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর, দায়ী ওরাই। পছন্দের দলকে ক্ষমতায় রাখতে অপছন্দের দলের ওপর জঙ্গিবাদের এমন সব দায় চাপানো হলো, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই নেই। প্রমাণ ছাড়াই জঙ্গি বানিয়ে দিচ্ছে। জঙ্গিবাদ হচ্ছে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই এটাকে পুঁজি করে জিততে চায়। এই গেম থিওরিতেই তৃতীয় বর্ষপূরণ। বৈধ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে যখন উত্তপ্ত আমেরিকার রাজপথ, তখন আমাদের অবৈধ নির্বাচনকে বৈধ দেখাতে শান্ত রাজপথ। সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে না দেয়া এর অন্যতম নজির। ৯২ দিনের পর আবারো প্রমাণ করা হলো, বৈধতার প্রশ্নে কত বেশি অস্বস্তিতে এবং খালেদাকে কত বেশি ভয় পায়। তবে ৯২ দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ক্ষমতাসীনেরাও দাবি করেন না, ৫ জানুয়ারিতে বৈধ নির্বাচন হয়েছে। বরং বলে থাকেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় ফলাফল মানতে বাধ্য। কিন্তু যেসব পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিরোধীশিবিরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হলো, সেটা বৈধ না হলে সরকারও বৈধ নয়। এ কারণেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী পশ্চিমা দেশগুলো সফর বাতিল করলে মাঠে রইল একমাত্র ভারত-ভুটান। যে নির্বাচনে চুরি হবে, সেটা পর্যবেক্ষণ করে কী হবে? ফলে সরকারের সাথে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও ভারত-ভুটান ছাড়া আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশই বলেনি, এ সরকার বৈধভাবে নির্বাচিত। মাঝে মাঝেই স্বচ্ছ নির্বাচনের আওয়াজ, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি’, ভয়ানক একটি ইল্যুশন। এই ইল্যুশনটি চোখের সামনে রেখে এমন এক ধোঁয়ার কুণ্ডলী বানিয়েছে, যার বাইরে কিছুই দেখতে দিচ্ছে না। অর্থনীতির ছাত্রী না হলেও বুঝি, ‘জিডিপির আকার অনুযায়ী গণতন্ত্র হলে চীন হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। আর ‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি’ সঠিক হলে রাশিয়া হচ্ছে ১ নম্বর গণতান্ত্রিক দেশ।’ পাতানো নির্বাচনে গেলেই ধরা খেতেন বেগম খালেদা জিয়া। বরং না গিয়ে গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। ভবিষ্যতেও নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়। কারণ দফায় দফায় সংবিধান সংশোধন করে, বিরোধীশিবিরের জন্য সব দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ১৫তম সংশোধনীর আগে সব ভিন্নমতকে অগ্রাহ্য করেছে। ফলে একতরফা সংশোধনীর বৈধতা সঙ্কটে, ওই নির্বাচনের ফলাফলও অবৈধ। বিএনপি জোটকে ফাঁদে ফেলার এমন কোনো চেষ্টা নেই, যা করা হচ্ছে না। সংলাপ এবং ভূরিভোজ এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত। আর সেই বুলডোজারের তলেই কিভাবে মাথা পেতে দিতে পারে বিরোধীশিবির?


কংগ্রেস যেমন-তেমন, বিজেপি বাধিয়েছে লঙ্কাকাণ্ড। খালেদার নাম শুনলেই তাদের গায়ে জ্বালা। পল্টন কিভাবে দেখছে বিষয়টিকে জানি না, কিন্তু অন্যদের চোখে স্পষ্ট। বিরোধীশিবিরকে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন আনন্দবাজারিরা। এই লক্ষ্যে পশ্চিমা লবি দুর্দান্ত। এ জন্যই ২০২১-৪১এর প্রোগ্রাম দেয়ার আগে ভোটের কথা ভাবতে হয় না। তারা জানেন, নির্বাচন হবে, কিন্তু ক্ষমতাও তাদের। ২০১৯-এর নির্বাচন হ্যাকাররা আরো বেশি আটঘাট বেঁধে মাঠে। যে যতই বলুক, বৈধ নির্বাচনের সম্ভাবনা শেষ বলেই ধরে নিতে হয়।
নির্বাচন কমিশন উপগ্রহটি অচল। ইঞ্জিন মেরামত নয়, ফেলে দিতে হবে। কারণ নির্বাহীর অধীনে নির্বাচনের যুদ্ধে জেতার ক্ষমতা একমাত্র অলৌকিক শক্তি ছাড়া আর কারোই নেই। গেলেই বেকায়দায় ফেলবে বিএনপিকে। আর সেই আয়োজনেই বিভিন্ন ফর্মুলা নিয়ে হাজির আওয়ামী লীগ, যার অন্যতম- ‘সংলাপ’ নামের বুলডোজার।
১৮ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদের সাফ বলে দিলেন, সংবিধান মেনেই নির্বাচন। তার মনের কথাটি আসলেই কার মনের কথা! ১৫তম সংশোধনী অনুযায়ী নির্বাহীর অধীনেই নির্বাচনটি পাঠ্যপুস্তকের অংশ নয়, বরং সংবিধানের আইন। আর এটাকেই মানতে হলে, নির্বাহীর অধীনে নির্বাচন করে বিরোধী দলকে ক্ষমতায় যেতে হবে। একটি ফোনকলের অজুহাত দিয়ে যারা তিন বছর পার করে দেয়ার মতো শক্তিশালী, বাকিটুকু বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য বার্তাটুকু পল্টন না বুঝলে রাজনীতিও তাদের জন্য নয়।


আরেকটি ৫ জানুয়ারি এলো, চলেও গেল। একপক্ষের দাবি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’, অন্যপক্ষের দাবি ‘গণতন্ত্র রক্ষা’। গণতন্ত্র রক্ষার দাবিদারেরা বারবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করলেও গণতন্ত্র হত্যা প্রমাণে অপরপক্ষকে কিছুতেই সোহরাওয়ার্দীতে ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রশ্ন, ‘সংবিধানের কোথায় লেখা, একমাত্র ৫ জানুয়ারির সরকারই সোহরাওয়ার্দীতে ঢুুকতে পারবে? থাকলে সেটা পাবলিককে দেখানো উচিত।’
তবে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে না পেরে গণতন্ত্র হত্যার ‘জিরো সাম গেম থিওরি’তে জিতে গেল বিরোধীশিবির। ৯২ দিনের আন্দোলন যা পারেনি, সেদিন মাত্র এক মিনিটেই সন্দেহাতীতভাবে তা প্রমাণ করে ছাড়লেন খালেদা। অর্থাৎ ৫ জানুয়ারিতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। আর সোহরাওয়ার্দীতে ঢুকতে না দিয়ে, এই কাজে সহায়তা করার জন্য আওয়ামী লীগকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এরপর, সমালোচক এবং অ্যাকটিভিস্টদের কাজটাও অনেক কমে গেল।
যে গণতন্ত্র আনল ৫ জানুয়ারি, এমনকি আইন প্রণেতারাও পর্যন্ত ‘গানম্যান’ চাচ্ছেন। তাহলে সাধারণ মানুষও কি গানম্যান চাইবে? এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো কখন এবং কেন? এমন পরিস্থিতি ৪৫ বছরে এটাই প্রথম। সংসদে দাঁড়িয়ে হাইকমান্ডের ঘোষণা, লিটন হত্যার বিচার হবে। কিন্তু সাগর-রুনিদের বিচার কবে হবে, সেই কথা কখনোই বলেন না। মাত্র পাঁচ শতাংশ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রমাণ এসব।
নিজেদের অস্থিরতা আর অস্বস্তিকে সামাল দিতেই বারবার সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার উন্নতির রেফারেন্স। এই ইল্যুশনটি এখন একটি জাতীয় ক্রাইসিস। লি কুয়ান কিংবা মাহাথির কখনোই গণতন্ত্রের কথা বলেননি, বরং সব বিরোধী মতামতকে দীর্ঘমেয়াদে অচল রেখে দেশ দু’টির আধুনিকায়ন হয়েছে, যা ’৭১-এর ভ্যালুজের বিপরীত। দ্বিমত হলে ওদের উন্নয়নের ইতিহাস ঝালিয়ে নিতে পারে। সুন্দরবনের মতো সম্পদ পুড়িয়ে, জিডিপি বাড়ানোর দৃষ্টান্ত ওদের বেলায় নেই। অন্য দিকে, ‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নতি,’ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এ জন্যই জিডিপি বাড়লেও মাথাপিছু আয় কমেছে এক ডলার। উন্নতির ইল্যুশন ক্রাইসিসে আক্রান্ত বুদ্ধিজীবীরাও!
ভারত হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। অর্থনীতির বেলায় থাকলেও গণতন্ত্রের বেলায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশ্ব বলে কিছু নেই। হলে, ভারত আর আমেরিকার ক্ষমতা হস্তান্তর দুই রকমের হতো। কিন্তু জন্মের পর থেকেই দুই মেরুর দুই দেশের গণতন্ত্র চর্চায় হেরফের নেই। তবে ১৯৭২-এর নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেলে আদালত তাকেও জওয়াহেরলালের কন্যা বলে ক্ষমা করেননি, বরং জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়লেন। এসব বলার কারণ, তৃতীয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশটির প্রতিবেশী বাংলাদেশ, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অসুস্থ দৃষ্টান্ত দেশের মানুষ আশা করে না।

সারমর্ম : ভোটের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলার অপরাধে, ওয়াশিংটনের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই পুতিনের শাস্তি হয়েছে। সেই মাফিক আমাদের নির্বাচনেও সরাসরি হস্তক্ষেপের অপরাধে, অপরাধীদের যথাযোগ্য বিচার ও শাস্তির অজুহাতও শেষ হয়েছে আওয়ামী লীগের।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫