ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারের উত্থানে একটি বার্তা

হারুন-আর-রশিদ

২৬ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:১৫


হারুন-আর-রশিদ

হারুন-আর-রশিদ

প্রিন্ট

বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটে উত্থান ও পতন (দুই পর্ব) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ঘটেছিল। ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯-২০১৪, এই দুই টার্মে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে বিশেষ করে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল তাকে এক কথায় বলা যায়- দুর্নীতির উন্নয়নে পুঁজিবাজার ছিল সবার শীর্ষে। দুইজন প্রবীণ অর্থমন্ত্রী এ এস এম কিবরিয়া এবং আবুল মাল আবদুল মুহিত- এ সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারের উত্থান যেভাবে ঘটেছিল- একই প্রক্রিয়ায় জুয়াড়িরা ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে কৃত্রিম চাঙ্গা ভাব ঘটিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিল। এই লুটপাট শুরুর আগেও পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটায়। ১৯৯৬ সালে বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারে উত্থানপর্বের মূল নায়ক ছিলেন। ২০১০ সালেও একই প্রক্রিয়ায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী করা হয়েছিল। গোটা দশেক কোম্পানির ভিলেনের সাথে আরো দুই হাজার শীর্ষস্থানীয় ‘বিনিয়োগকারী’ পুঁজিবাজারে লুণ্ঠনে ব্যস্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে কার্ব মার্কেটে শেয়ার সার্টিফিকেটের কাগজের ওপর সই দিয়ে এই রমরমা ব্যবসা হোটেলে বসে প্রভাবশালী শেয়ার-জুয়াড়িরা ছাত্রদের মাধ্যমে চালায়। তখন পত্রিকায় লেখা হয়েছিল ভারত থেকে কয়েকজন ব্যবসায়ী এসে বাংলাদেশে সস্তা বিনিয়োগে শত কোটি টাকা আয়ের জন্য যোগ দিয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরিভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন। তিনি দোষীদের নাম-পরিচয়সহ একটি দালিলিক রিপোর্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইন নিজস্ব গতিতে চলতে বাধাগ্রস্ত হয়।
মনে আছে ২০১০ সালের কথা- মতিঝিলের ইউনুছ টাওয়ারের টপফ্লোরে একুশে টিভিতে আমার একটি লাইভ সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। তখন একটি কথাই বলেছিলাম- পুঁজিবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী গতি ধস নামার পূর্বলক্ষণ। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা লাভের আশায় যে কাজটি করছে, সেটা সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনবে। বলেছিলাম টিভি চ্যানেল সাক্ষাৎকারে, দীর্ঘমেয়াদি ধসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। হঠাৎ করে পাঁচ হাজার ৫০০ সূচক বৃদ্ধি পাওয়া এবং ১০ হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রাত্যহিক লেনদেন- এটা কখনো পুঁজিবাজারের জন্য শুভ লক্ষণ হতে পারে না। ওই দিন আইসিসি ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা চলছিল। লাইভ প্রোগ্রামটিও ওই দিন ছিল। ২০১১ সালে আমার ওই বক্তব্যটি সত্যে পরিণত হলো। টিভি চ্যানেল থেকে একটি টেলিফোন পেলাম, বললেন আপনার ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য হতে চলেছে। উপস্থাপককে বললাম- ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে আমি আশির দশক থেকে কাজ করছি। এ পর্যন্ত ৫০-৬০টি প্রবন্ধ পুঁজিবাজার নিয়ে লিখেছি। জাতীয় দৈনিকে তা প্রকাশ হয়েছে।
বাজারের যে শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে, এখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। জুয়াড়িরা প্রস্তুত এবং তারা নিজ নিজ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মালিকপক্ষ। পুঁজিবাজারটা এখন পুরোপুরি সিন্ডিকেটের আওতায়। এই সিন্ডিকেটই পুঁজিবাজার থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিয়ে যায়। বাজারটার ঊর্ধ্বগতি তারা নিজেরাই করে যাতে সরল বিনিয়োগকারীরা ব্রোকার হাউজে এসে শেয়ার কেনাবেচা শুরু করে। এটা একটা নেশাও বটে। অনেকটা জুয়া খেলার মতো। পুঁজিবাজার হতে হবে স্থিতিশীল এবং বাজার ওঠানামার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য থাকবে। এক লাফে প্রতি শেয়ারের মূল্য এক সপ্তাহে ১০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া, তাও আবার নি¤œমান বা ‘জেড’ গ্রুপ কোম্পানির শেয়ার। সন্দেহটা শুরু হয় এখান থেকেই।
শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে লক্ষ করেছি, স্বল্পপুঁজির বা হুজুগে মেতে জমিজমা, গরু, ছাগল, ভিটামাটি বিক্রি করে পুঁজিবাজারে ব্রোকার হাউজে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। তারা আসলে বোকা। এসব লোকের আসল টাকা পেতেও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের ধাক্কা ২০১৭তে এসেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ৩৪ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এই বাজারে এসে লোকসান গুনেছেন। আত্মহত্যা করেছে দেড় ডজন মানুষ। পুলিশের গুলি ও বেয়োনেটের খোঁচায় নিহত পর্যন্ত হয়েছে।
পুঁজিবাজারে সেকেন্ডারি ব্যবসা করতে চাইলে নিজ বুদ্ধিতে ঠাণ্ডামাথায় কোম্পানির প্রোফাইল নি¤œতম দশ বছর দেখে- তারপর ভালো-মন্দ বিচার করে, পাঁচটি কোম্পানিকে সিলেক্ট করে শেয়ার কেনাবেচা করলে লাভের অঙ্ক কম হলেও লোকসানের খাতায় নাম লিখাতে হবে না। আজকাল অনলাইন পদ্ধতিতে সব কোম্পানির এজিএমের পুরো চিত্রটা দেখা খুবই সহজ। ধরুন একটি কোম্পানি ১০ বছর ধরে ভালো মুনাফা করছে। প্রতি শেয়ার আর্নিং প্রোফিটও ভালো। বছর শেষে ক্যাশ ও বোনাস শেয়ারে লভ্যাংশ হারও ভালো। দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে এসব কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। ব্যাংকে আমানতের সুদ চার-পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমছে। সেই হিসাবে ভালো কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করলে বছরান্তে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের চেয়ে দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব। দালালদের খপ্পরে না পড়ে, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতি শনিবার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটে (বিআইসিএম) কোর্স করে বিষয়গুলো হাতে-কলমে শিখতে ও জানতে চেষ্টা করুন। আমি এ ধরনের ক্লাস বা কোর্সে অ্যাটেন্ড করে মোটামুটি একটি ধারণা অর্জন করেছি। বেকারত্বের এই দেশে টাকা যাতে নষ্ট না হয় সে লক্ষ্যে প্রথমে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথম শ্রেণীর কোম্পানির প্রোফাইল ঘেঁটে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করুন। লাভ নিশ্চয়ই হবে। বড় বড় কোম্পানির কিছু ব্যক্তি পুঁজিবাজারটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে নিজেদের স্বার্থে। অনেক ক্ষেত্রে আর শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হয় না। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কথা বলার স্থানটিও যেন রহিত হয়ে গেল। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা, ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বিএসইসি কর্তৃপক্ষ পুঁজিবাজার নিয়ে পাঁচ দিনের সর্ববৃহৎ মেলার আয়োজন করেছিল বিগত বছরের শেষ দিকে। বর্তমানে কিছু ব্রোকার হাউজও লোকসানের মধ্যে আছে। তারাও উৎসাহী হয়ে এসব আয়োজনের বড় উদ্যোক্তা সেজেছে। কিন্তু একটি কথা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্মরণ রাখতে হবে- না জেনে, আবেগের বশবর্তী হয়ে অন্যের কথা শুনে পুঁজিবাজারে আর বিনিয়োগ করবেন না। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ নেবেন। আগে নিজে জানব তারপর বিনিয়োগ করব। তাহলে এই বাজার থেকে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সহজ। বাজারে যখন তেজি ভাব থাকে তখন হঠাৎ করে বিনিয়োগ করবেন না। ২০১০ সালে উত্থান পর্বটা ছিল মাত্র ছয়-সাত মাস। তারপর পতনের ধারা শুরু হয়। এই সময়েই ৩৪ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে যায়।
১৯ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের লিড নিউজ শেয়ারবাজারের ওপর। সেটা দেখেও যে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে আরেকটি ভূমিকম্প পুঁজিবাজারকে আক্রান্ত করতে পারে। এ জন্য একটি হুঁশিয়ারি বার্তাও দিয়েছেন শেয়ারবাজারের পুঁজিদস্যুদের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার একেবারেই তলানিতে। সঞ্চয়পত্রের অবস্থা বেগতিক। তাই কিছু মানুষ আবার বাড়তি মুনাফার প্রত্যাশায় শেয়ারবাজারে ঝুঁকছেন। পুরনো খেলোয়াড়েরা আগের স্টাইলেই সেটিকে কাজে লাগিয়ে আবার খেলবেন। এই জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে আবার কত মানুষ যে নিস্ব হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
ডিএসই সূচকের চার বছরের অবস্থানটির দিকে লক্ষ্য করুন। তাহলেই বুঝবেন- কিভাবে কলকাঠি নাড়ছে জুয়াড়িরা। ১৯ জানুয়ারি ২০১৪ ডিএসই সূচক ছিল- ৪, ৫৬৫; ১৮ জানুয়ারি ২০১৫ সূচক দাঁড়ায় ৪৯১৭, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬-সূচক হলো ৪৬৮৭, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ সূচক দাঁড়ায় ৫৫৩৩। ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর অর্থাৎ ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক ছিল ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ সালে। ওই দিন ধারাবাহিক উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে এবং টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৬৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০১১ সালের শুরু থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে শেয়ারবাজার চরমভাবে ধসে আক্রান্ত ছিল। ২০১৫ সালের শুরু থেকে বাড়তে থাকে সূচক ও লেনদেন। কিন্তু ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে সূচক ও লেনদেনের অঙ্ক বেড়ে যায় অস্বাভাবিক গতিতে। পুঁজিবাজারে সূচক ও মূলধন বাড়বে; কিন্তু তা যদি হয় অস্বাভাবিক গতিতে তখনই সন্দেহের মাত্রা বেড়ে যায়। এ টাকে কোনোভাবেই সুস্থ ধারার পুঁজিবাজার হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।
৮ জানুয়ারি বিএসইসির দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষাকার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, আর ভুল করবেন না- আপনারা বহু ভুল করেছেন, নিজেরা ভুল করবেন মানুষের কানকথা শুনে। গুজবে কোনো কাজ করলে তার দায় বিনিয়োগকারীকেই নিতে হবে। তিনি বলেছেন, যেখানে সেখানে একটা বিনিয়োগ করে সব হারিয়ে শেষে বলে, সব দোষ সরকারের, সব দোষ অর্থমন্ত্রীর- এ রকম অবস্থা যেন আর না হয়। তবে আমরা সব সময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীকে বলতে শুনেছি, পুঁজিবাজারে অলস টাকা বিনিয়োগ করে স্বল্পসময়ে শিল্পপতি হন। ব্যাংকে অলস পুঁজি আপনাকে কখনো বড় লোক বানাতে পারবে না। দীর্ঘ ১০ বছর পুঁজিবাজারকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী, শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজ মালিক, বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাজার নিয়ে বহু আশার বাণী শুনিয়েছেন। এখনো শোনাচ্ছেন। প্রতিদিনের পেপার খুললেই তাদের বাণীগুলো দেখতে পাই। কিন্তু পুঁজিবাজার এই ভালো এই খারাপ এর কারণ কী, তা জেনেও তারা বলেন না। নিশ্চয়ই কোথাও ‘গোলমাল’ আছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দায়িত্বে যারা থাকেন- বাজার নষ্ট হওয়ার দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা দমনে ব্যর্থ হলে আমরা যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করি, ঠিক তেমনি যার যে দায়িত্ব সেটা যথানিয়মে পালনে ব্যর্থ হলে সে দায়িত্ব নিতে হবে। ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১৫ মামলার মধ্যে বেক্সিমকো ও শাইনপুকুরসহ হোতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাদ্বয়ের মধ্যে একটি মাত্র মামলার রায় হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে থাকায় শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। বাকি মামলাগুলোর ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য কারসাজির তথ্য তুলে ধরা হয়। কিন্তু এ মামলার বিচারকাজ উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বিচার হলে পুঁজিবাজার অস্থিরতায় আজ ভুগত না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তথ্যবিবরণী দেখে হতাশায় ভুগতে হয়। কারণ ২০১৪-১৫ এবং ২০১৬ সালে ঢাকার বাজারে প্রতিদিন গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৯৯, ৪২১ ও ৪৯৪ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালে জানুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০ কোটি টাকায়। হঠাৎ করে ১৪ দিনে আগের ৪ বছরের তুলনায় গড় মূল্য প্রতিদিন তিন গুণ বাড়ার নেপথ্য কারণ জানা দরকার। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলব, সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের সময় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা জরুরি। বাজারে চলমান ঊর্ধ্বগতিতে আমরা লক্ষ করছি- দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ ধরনের বাজে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও একপর্যায়ে দরপতন ঘটবে। ঋণ করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করাই উত্তম। হাতে অর্থ থাকলে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করলে লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে না। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল কারচুপি থেকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।
লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও কলামিস্ট
Em. harunrahidan@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫