ঢাকা, সোমবার,২১ আগস্ট ২০১৭

নাটক

জন্মদিনে লাভলু

আলমগীর কবির

২৩ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৭:৪৫


প্রিন্ট

কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের ‘জুগিয়া’ দর্শকনন্দিত অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক সালাহ উদ্দিন লাভলুর জন্ম। জুগিয়া গ্রামের মাটির গন্ধ আজো তার গায়ে লেগে আছে- এমনটিই মনে করেন লাভলু। যে কারণে লাভলুর নাটকে বা চলচ্চিত্রে গ্রাম বাংলার চিরায়ত কাহিনীর উপস্থাপন দেখা যায় সব সময়ই। অগণিত দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত এই গুণী পরিচালকের জন্মদিন ২৪ জানুয়ারি। তবে জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে না বিশেষ কোনো আয়োজন। পাশাপাশি কোনো চ্যানেলেও কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছেন না তিনি। অফিসের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি।

জন্মদিন প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘সবার দোয়ায় বেশ ভালো আছি। পরিবারের সবাইকে নিয়েই আজ বিশেষ সময় কাটবে।’

সালাহ উদ্দিন লাভলু যখন আরণ্যক নাট্যদলে ছিলেন, তখন ওরা কদম আলী, ইবলিশ, সাত পুরুষের ঋণ, গিনিপিক নাটকে অভিনয় করেছেন। শুরুতেই তিনি ডিরেক্টরিয়াল টিমের তিনজন সদস্যের একজন ছিলেন। পরে পথনাটকেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। মঞ্চই তাকে আজকের লাভলুতে পরিণত করেছে। তাই মঞ্চের প্রতি তার এখনো প্রচণ্ড দুর্বলতা রয়েছে। টিভি নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম পরিচালিত ‘দিন রাত্রির খেলা’ নাটকে। টিভিতে আমার তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল খ ম হারুনের পরিচালনায় ‘শঙ্কিত পদযাত্রা’ নাটকটি। তবে সেই সময় তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘কোন কাননের ফুল’-এ তার বলা ‘বুড্ডা আমার ইড্ডা করবে’ সংলাপটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এরপর তো বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। মাসুম রেজার রচনায় লাভলু পরিচালিত প্রথম টিভি নাটক ছিল ‘কৈতব’ ।

১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল। একুশে টিভির তিনি প্রথম ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করেন হাফিজ রেদুর লেখায় ‘গহরগাছি’। নাটকটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। এরপর তার পরিচালিত ‘রঙের মানুষ’, ‘ভবের হাট’, ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘ঘরকুটুম’, ‘কবুলীয়তনামা’ ‘দি ভিলেজ ইঞ্জিনিয়ার’, ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিক নাটকগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে চ্যানেল আইতে তার নির্দেশিত ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ প্রতি শনি ও রোববার রাত ৮টায় নিয়মিতভাবে প্রচার হচ্ছে।

প্রশ্ন রাখি , বিজ্ঞাপন নির্মাণেও আপনি একসময় ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। এখন সেখানে আপনাকে একেবারেই দেখা যায় না কেন? ‘দেখুন সত্যি বলতে কী সব সময়ই আমার একটা স্বপ্ন ছিল যে আমি যা করব আমি যা নির্মাণ করব তার সাথে দর্শকের একটা আত্মিক যোগাযোগ থাকবে। দর্শকের কাছ থেকে যেন আমার কাছে সাড়া আসে হোক তা পজিটিভ বা নেগেটিভ। বিজ্ঞাপনে কিন্তু তা সম্ভব নয়। কারণ বিজ্ঞাপন কে নির্মাণ করেন-না-করেন তা দর্শক জানেনই না। তাই বিজ্ঞাপন নির্মাণে পরে আমি আমার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছি। তবে যে ৫০টি বিজ্ঞাপন আমি নির্মাণ করেছি তার প্রতিটিই বলা চলে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার থাকে না। আমি সমাজের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই নাটক বা চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে, যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।’

ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫