ঢাকা, সোমবার,২৪ জুলাই ২০১৭

রকমারি

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

বদরুন নেসা নিপা

২১ জানুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ১৮:২০


প্রিন্ট

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২২তম আসর বরাবরের মতো বসেছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। পণ্য প্রচার ও প্রসারের একটি বড় ক্ষেত্র ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। বাণিজ্যমেলা প্রতি বছর শুরু হয় ইংরেজি বছরের প্রথম দিনটিতে অর্থাৎ পয়লা জানুয়ারি। দিন বদলের সাথে সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে এ মেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় করা হয়েছে। মেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা, অন্যান্য ব্যবস্থাপনা, স্টল প্যাভিলিয়নের সাজ সব কিছুই মেলার শুরুতে আসা দর্শনার্থীদের সন্তুষ্ট করছে বলে জানান মেলা কর্তৃপক্ষ। দিনের আলোতে মেলা দর্শনার্থীদের কাছে এক রকম, আর শীতের রাতের আঁধারে নানা রকম রঙিন আলোর ঝলকানি অপরূপ পরিবেশ তৈরি করে, যা সবার মন ছুঁয়ে যায়। একই জায়গায় সব পণ্যের পসরা। দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায় এখানে। দেশী পণ্যের পাশাপাশি পাওয়া যায় বাইরের দেশের জিনিসপত্র। তাই বছরের শুরুতে মেলাকে ঘিরে নগরবাসীর মাঝে একটু আলাদা আগ্রহ। শুধু কেনাকাটাই নয়, বিনোদন পিয়াসীদের জন্য এটি একটি ঘুরে বেড়ানোর স্থান হয়ে ওঠে।
মেলায় প্রবেশ করলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্টল ও প্যাভিলিয়ন চোখে পড়বে। মেলায় আমাদের দেশীয় স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাসন-কোসন, মেলামাইনের ও সিরামিক সামগ্রী, স্টিলের সামগ্রী ও রান্নাঘরের তৈজসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে তাদের নিজস্ব পণ্য দিয়ে। মেলার ডান দিকটায় হাঁটলে চোখে পড়বে পার্স, ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, লাইট, শিশুদের খেলনা, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র। মেলার মাঠের মাঝখানে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়নগুলো। প্রধান গেটের আশপাশেই আছে কাঠের আসবাবপত্রের বড় প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নগুলোর ইন্টেরিয়র সবার নজর কেড়ে নেয়। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা আসবাবপত্রের প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরে দেখার সুযাগ হাতছাড়া করছেন না। মেয়েদের প্রসাধনীসামগ্রী নিয়ে এসেছে এই মেলায় দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বরাবরের মতো এসব স্টল ও প্যাভিলিয়নে আছে নানা বয়সের নারী, পুরুষদের ভিড়। শীতকে লক্ষ্য করে অর্ধশতাধিক লোকাল ব্র্যান্ডের স্টলে স্যুট কোট ও ব্লেজারের পসরা সাজানো হয়েছে। শীত ও গরমের পোশাকের কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ডের প্যাভিলিয়ন দেখতে পাবেন। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মূল্য ছাড়ে এসব পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। মেয়েদের কাশ্মিরি শাল, মনিপুরি শাল ও ছেলেদের শাল পাবেন দেশীয় প্যাভিলিয়নগুলোতে। জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, তাঁতের শাড়ি, থ্রি পিস, বিছানার চাদর, পর্দা ও কম্বল এসব বস্ত্র জাতীয় জিনিসগুলো কিনতে চাইলে প্রবেশদ্বারের বাম পাশ থেকে শুরু করতে হবে। টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রীর সম্ভার নিয়ে প্যাভিলিয়ন আছে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানির সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ও প্রদর্শনীও হচ্ছে। এসব স্টলে ক্রেতাদের বেশ সমাগম দেখা যায়।
মেলায় অর্ধশতাধিক আছে ভোগ্যপণ্যের প্যাভিলিয়নের স্টল। যার মধ্যে আছে নাবিস্কো, ড্যানিশ, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড প্রাণ ও স্কয়ার গ্রুপের পণ্য। নানা রকম খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো। গ্রাহকদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজের। এ ছাড়া নির্দিষ্ট মূল্যের পণ্য কিনলে থাকছে নগদ মূল্য ছাড়। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন অফার ও উপহার। মেলায় এ ক্ষেত্রে নতুন ব্র্যান্ড ‘এলসন কুলফি’ আইসক্রিম। বাণিজ্যমেলা পরবর্তী সময়ে এলসন কুলফির বাজারজাত কার্যক্রম শুরু হবে।
বিদেশী প্যাভিলিয়নগুলো প্রধান গেটের ডান দিকে স্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানি স্টলগুলো সাজানো হয়েছে কম্বল, শাল, ব্যাগ, চাদর ও থ্রি-পিস দিয়ে। ইরানের প্যাভিলিয়নে গেলে পাবেন পাথর ও মুক্তা বসানো অলঙ্কার, বোরকা, পোশাক, তসবি, ওয়ালম্যাট ও কারপেট। আই গ্যালারিতে থাকছে থাই খাবার, ব্যাগ, ক্লিপ (চুলের) অর্নামেন্টসহ ফুল, মোমবাতি, স্যান্ডেল ও শাল। ভারতীয় প্যাভিলিয়ন শাল, শাড়ি ও সালোয়ার কামিজে সেজেছে রঙিন বেশে। তুর্কি স্টলে আছে ইস্তাম্বুলের ক্রিস্টালের জিনিসপত্র।
মেলায় ঘোরাঘুরি করে একটু জিরিয়ে নিতে আর ভোজনরসিকদের পেটপূজা করতে রেস্তোরাঁর মোটিভে সাজানো হয়েছে খাবারের দোকানগুলো। পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানি, ফখরুদ্দীনের কাচ্চি বিরিয়ানি, আর কাবাবের ঘ্রাণে ভোজনরসিকদের কাছে টানে। বাঙালির জিভে জল আনে, চটপটি-ফুসকা না খেলে তো চলেই না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫