ঢাকা, শনিবার,২৪ জুন ২০১৭

ভ্রমণ

বাংলাদেশ-ভারত ‘সীমান্তহাট’

মাহবুবুর রহমান সরকার

২১ জানুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ১৭:৪৪


প্রিন্ট

যারা ভ্রমণ পছন্দ করেন, তারা ঢাকা থেকে এক দিনেই ঘুরে আসতে পারেন ফেনী জেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তহাট। দুই দেশের সীমান্তে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে গড়ে তোলা হয়েছে এ সীমান্তহাট। দুই দেশের সীমান্ত পারের জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বেচাকেনার সুবিধার্থে দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তে এ হাট। বাংলাদেশের ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার মোকামিয়া সীমান্ত ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শ্রীনগর এলাকাসংলগ্ন সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বা নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এ হাট। হাটের চার দিকে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। হাটে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ-ভারত দুই পাশে দুটি গেট আছে। হাটে প্রবেশ করতে টিকিট কাটতে হবে। হাটে প্রবেশের গেট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে গেটে বিজিবিকে এ টিকিট দেখিয়ে যেতে হয়। টিকিটটি সংরক্ষণে রাখবেন, কারণ হাট থেকে বের হওয়ার সময় চেকিংয়ে এ টিকিট দেখাতে হতে পারে। আরেকটি ডকুমেন্ট সাথে রাখতে হবে- জাতীয় পরিচয়পত্র। বিজিবি চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। হাটটি সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।
এ হাটে বাংলাদেশের অংশে চারটি শেড আছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বসার জন্য; ভারতের অংশেও চারটি শেড ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বসার জন্য। হাটে ভারতীয়দের বেশি পছন্দ বাংলাদেশের জিয়ল মাছ, নোনা ইলিশ, বিস্কুট, চানাচুর। এ ছাড়া বাংলাদেশের পেঁয়াজ, মসুর ডাল, তরিতরকারি, শাকসবজিরও চাহিদা আছে ভারতীয়দের কাছে।


ভারতীয় অংশে বাংলাদেশীদের বেশি পছন্দ ভারতীয় কাপড় থ্রি-পিস, শাড়ি ও কসমেটিকস। ছোট শিশুদের কাপড় ও বেবিডায়াপারও প্রচুর বিক্রি হয়। এ ছাড়া এখানে ভারতীয় জিরা, চা, চিনি, মসলা, বিভিন্ন ধরনের চকলেটও বিক্রি হয়। ভারতীয় পাহাড়ি কলা বাংলাদেশীদের খুব পছন্দ। পাহাড়ি এ কলা বেশি সুস্বাদু। ট্যাক্স-ফ্রি হওয়ায় এখানে এসব জিনিসের দাম বাংলাদেশের বাজারের চেয়ে কিছুটা কম। তবে এখানে বেচাকেনায় দামাদামি চলে, দরদাম করে কিনতে পারলে ভালো।
হাটে বাংলাদেশী টাকা ও ভারতীয় রুপি দুটোরই লেনদেন হয়। ভারতীয়রা যেমন বাংলাদেশী টাকায় লেনদেন করেন, বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাও তেমনি রুপিতে লেনদেন করেন। হাটের মধ্যেই একটি মানিএক্সচেঞ্জ সেন্টার আছে। সারা দিনের বেচাকেনা শেষে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মুদ্রাবিনিময় করে নিজ নিজ দেশের মুদ্রা নিয়ে যান।

দাদা আমি তো হাটে, তুমি কত দূর : সীমান্তহাট শুধু বেচাকেনার জন্যই নয়, যেন একটি মিলনমেলাও। দুই দেশের জনসাধারণের যাদের আত্মীয়স্বজন সীমান্তের এপারে-ওপারে রয়েছেন, তারা এ হাটে এসে একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন, খোঁজখবর নেন। বাংলাদেশের এক জেলা থেকে একজন মহিলা এসেছেন হাটে, ভারতে বসবাসকারী তার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। হাটে ঢুকে ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে ভাইকে মোবাইল ফোনে বলছেন- দাদা আমি তো হাটে, তুমি কত দূর? কখন আসবে? স্থানীয়রা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে আসেন ভারতে বসবাসকারী তাদের আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করতে।

কিভাবে যাবেন : কমলাপুর টিটিপাড়া ও সায়েদাবাদ থেকে ১৫-২০ মিনিট পরপর স্টার লাইনের বাস ছাড়ে ফেনী ও ছাগলনাইয়া। তবে ছাগলনাইয়ার বাস কম ও সকাল সাড়ে ৭টা-৮টার আগে পাওয়া যায় না। সরাসরি ছাগলনাইয়ার বাসে যেতে চাইলে অনেক দেরি হতে পারে। সকাল ৬টা বা সাড়ে ৬টার দিকে টিটিপাড়া থেকে ফেনীর বাসে রওনা হলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে ফেনী জেলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছা যায়। সেখান থেকে রিকশায় ফেনী কলেজ রোড ছাগলনাইয়ার সিএনজিস্ট্যান্ড। ফেনী থেকে ছাগলনাইয়া ভাড়া নেবে জনপ্রতি ২৫ টাকা। একটি সিএনজিতে মোট পাঁচজন যাত্রী উঠাবে। সময় নেবে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। সিএনজির কোনো সময়সূচি নেই, যাত্রী হলেই ছেড়ে যায়। রিজার্ভ নিতে চাইলে রিজার্ভও যায়। ছাগলনাইয়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে মোকামিয়া সীমান্তহাটে সকাল থেকে সারা দিন সিএনজি চলাচল করে। চাইলে ফেনী থেকেও মোকামিয়া সীমান্তহাটে রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাবে। ছাগলনাইয়া থেকে ফেরার জন্য বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ঢাকার বাস পাওয়া যায়। রাত সাড়ে ৯ টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছে যাবে। ছাগলনাইয়া থেকে বাস না পেলে ফেনী এসে জেলা বাসস্ট্যান্ড বা মহীপাল বাসস্ট্যান্ড থেকে সব সময় ঢাকার বাস পাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে ছাগলনাইয়ার সীমান্তহাট ঘুরে আসার জন্য খাবার-নাশতাসহ একজনের এক হাজার টাকাই যথেষ্ট।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫