ঢাকা, শুক্রবার,২৪ মার্চ ২০১৭

রাজশাহী

পাবনায় ২২ বছর পর বেরিয়ে এলো স্কুল নির্মাণে দুর্নীতির চিত্র

এসএম আলাউদ্দিন, পাবনা

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:২৭


প্রিন্ট

রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গাতে ভবন নির্মাণে এবং মৌলভীবাজারে রেললাইনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের পর এবার পাবনায় একটি স্কুলের পুরনো ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহারের সন্ধান মিলেছে।

নির্মাণের প্রায় ২২ বছর পর সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুলের প্লাস্টার খসে পড়লে বাঁশের অংশ বিশেষ বের হলে বিষয়টি নজরে আসে। বাঁশের পাশাপাশি স্কুলের ভবনে বিভিন্ন স্থানে ফাটলের মধ্যে দেখা গেছে কাঠও। সবমিলিয়ে আতংক নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

শিক্ষকরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানালেও, নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। সময় যত পার হচ্ছে, বিদ্যালয়ের ভবনটি ততই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে ভবনের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজার ওপরের ঢালাই ভেঙে বাঁশের বাতা (বাঁশের তৈরি লম্বা লাঠি) বেরিয়ে এসেছে। তারপরও ভবনের বিভিন্ন কক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আতংকে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত বিন্যাডাঙ্গি গ্রামে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিন্যাডাঙ্গী রেজি: বেসরকারি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্খী সংখ্যা ১৫০ জন। প্রথমে টিনের ঘরে পাঠদান হলেও ১৯৯৪ সালে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে দুই দফায় স্কুলের ভবন নির্মিত হয়। ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদার ছিলেন সুজানগরের সুলতান মাহমুদ ও আব্দুর রউফ নামে দুই ব্যক্তি।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাজনার বিল এলাকায় বিদ্যালয়টির অবস্থান। পাঁচ কক্ষের একটি মাত্র পুরোনো ভবন। মেঝে স্যাঁতসেঁতে, মাটি সরে ফেটে গেছে। ভবনটির অধিকাংশ কক্ষের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। দেয়ালগুলোতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটল। একটি কক্ষের দরজার ওপর ভাগের ঢালাই ভেঙে বেরিয়ে এসেছে বাঁশের লাঠি। বারাদার ছাদে বেড়িয়ে এসে কাঠ।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মজিদ জানায়, আমরা সব সময় আতংকে থাকি কখন যেন বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ে। ফলে স্কুলে এসে পড়া শোনায় আমাদের মন বসে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ভবন নির্মাণের সময় আমরা কয়েকজন এলাকাবাসী ভালোভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারের কাছে এসেছিলাম কিন্তু ঠিকাদারের হুমকিতে কাজ দেখতে পারিনি। সম্প্রতি ভবনের ভেতর বাঁশ ও কাঠের অস্তিত পাওয়ায় এখন বুঝতে পারছি কেন তখন ঠিকারদার আমাদের কাজ দেখতে দেয়নি। ভবন ধসের আশংকায় আমার সন্তানকে এখন স্কুল থেকে নিয়ে গিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে এই স্কুল থেকে সন্তানদের নিয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুলের প্লাস্টার খসে পড়লে বাঁশের অংশ বিশেষ বের হলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার পর থেকে বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর বেশ কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সবাই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনো ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিশুদের ক্লাস করাতে হচ্ছে।

সুজানগর উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, ভবন নির্মাণের তথ্য দিতে পারেননি। তিনি জানান, অনেক আগের ঘটনা। ফাইল পত্র খতিয়ে দেখতে হবে।

সুজানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার জানান, তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে তিনি বিষয়টি শুনেছেন, অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন ঘটনা দুঃখজনক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫