ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

বরিশাল

রাঙ্গাবালীতে উপজেলা ঘোষণার পাঁচ বছরেও হাসপাতাল নির্মাণ হয়নি

মু.জাবির হোসেন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:৪০


প্রিন্ট

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার অবস্থান। ঘোষণার ৫ বছরেও এখানে নির্মিত হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতেও নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার। উপজেলা ঘোষনার পরও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনও নির্মাণ হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলার মানুষ যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাধীন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবাটুকুও পায়না এখানকার জনগন। এ উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা ঘোষনার পর অবহেলিত এ জনপদের সকলেই আশায় বুক বেধেছিলো চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য সেবামূলক খাতের উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ন, দূর্গম ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যয়বহুল যাতায়াতের কারণে তাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবাসহ রাষ্ট্রের অনেক গুত্বপূর্ণ সেবাই পৌঁছে না। ১৯৯০ সালের পরে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাত্র তিনটি ইউনিয়ন, রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ হয়নি। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে বহু পূরানা একটি আর ডি (রুরাল ডিসপেনসারী) থাকায় ওখানেও কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। আর নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে চলছে নাম মাত্র চিকিৎসা। এতে নেই কোন এম বি বি এস ডাক্তার। নেই কোন অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা। নেই কোন প্যাথলিজিক্যাল পরীক্ষা। আয়া পিয়নসহ কর্মকর্তা হিসাবে রাঙ্গাবালীতে ২জন, ও অন্যান্য কেন্দ্র গুলোতে ১জন করে সাব এসিষ্টান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা নিয়োগ থাকলেও একজন মুমুর্ষ রোগীর চিকিৎসা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়না। ফলে দেড় লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৭০ কিলোমিটার নদী পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে হয়। গর্ভবতী মা ও ডায়রিয়া আক্রান্তসহ গুরুতর অসুস্থ অনেককে প্রাণ হারাতে হয় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী ভয়াল আগুনমুখা নদীতে লঞ্চ কিংবা ট্রলারে। স¤পূর্ণ নৌ-যোগাযোগ নির্ভর ৫টি ইউনিয়ন (ছোটবাইশদিয়া, রাঙ্গাবালী, বড়বাইশদিয়া, চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া) নিয়ে গঠিত রাঙ্গাবালী উপজেলা। দেড় লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী উপজেলা রাঙ্গাবালী। ভাল চিকিৎসা নিতে হলে যেতে হয় জেলা শহর পটুয়াখালী, বিভাগীয় শহর বরিশাল কিংবা রাজধানী ঢাকায়। যোগাযোগ অসুবিধার কারণে এখানকার মানুষ ঝার-ফুঁকের মাধ্যমেই চিকিৎসা করায়। এখানকার দেড় লক্ষাধিক মানুষ জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন। যার ফলে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নানা জটিলতায় প্রতিবছরই মৃত্যুবরণ করছে ওখানকার অনেক নারী। ২ বছর আগে রাঙ্গাবালী উপজেলার কাছিবুনিয়া গ্রামের ফিরোজের স্ত্রী নাসিমা বেগমের (২৪) রাত ১১টার দিকে সন্তান হওয়ার পর খিঁচুনির কারণে অবস্থার অবনতি হয়। তাকে ট্রলারে করে পাশ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলায় নেওয়ার পথে রাত ১টার দিকে সে আগুনমুখা নদীতে প্রাণ হারান। একই গ্রামের সামসুদ্দিনের স্ত্রী সালমা বেগম (২৩) সন্তান জন্ম হওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা শহড়ে নেওয়ার পথে আগুনমুখা নদিতে ট্রলারে প্রাণ হারান। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা:সেলিম মিয়া বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে, হাসাপাতাল অনুমোধনের জন্য প্রয়োজনিয় কগজ পত্র ওকে হয়ে গেছে তাতে অনুমোধন হওয়ার কথা, এব্যাপরে খুব শিগ্রই আমরা জনতে পরবো।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫