ঢাকা, শুক্রবার,২৪ মার্চ ২০১৭

ঢাকা

হোসেনপুরে আলু ক্ষেতে মড়ক 

জাহাঙ্গীর আলম,হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:৩০


প্রিন্ট

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি মওসুমে আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দেওয়ায় কাঙ্খিত উৎপাদন না পাওয়ায় কৃষকদের বিঘা প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ২-৩ হাজার টাকা। ফলে অনেক কৃষক লোকসানের ভয়ে ক্ষেত থেকে আলু তুলতে চাচ্ছেনা। কেউ কেউ বাকিতে ফড়িয়াদের নিকট আলু বিক্রি করেও যথা সময়ে টাকা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে বৃহঃস্পতিবার উপজেলার জামাইল, চর-জামাইলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম-গঞ্জের সর্বত্রই আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। এ সময় জামাইল গ্রামের কৃষক নবী হোসেনসহ অনেকেই জানান, তাদের আলু ক্ষেতে পাতা পচে মড়ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই রোগকে লেডব্রাইট বললেও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজে আসছে না। ফলে উৎপাদন ব্যহত ও লোকসানের আশঙ্খায় কৃষকরা দুচিন্তায় পড়েছেন। আবার অনেকেই জমি থেকে আলু তুলে স্তুপ করে ফড়িয়াদের (মধ্যস্বত্বভোগী) জন্য রেখে দিলেও আলুর গুনগতমান কিছুটা খারাপ হওয়ায় আশানুরোপ ক্রেতা মিলছেনা। সর্বত্রই বিক্রেতা বেশি হওয়ায় ফড়িয়ারা বাকিতে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে আলু ক্রয় করে নিজেরা লাভবান হলেও কৃষকরা লোকসানের কবলে পড়েছেন। উপজেলার সাহেবের চর গ্রামের আদর্শ কৃষক বাদল মিয়াসহ অনেকেই জানান, এ বছর আলুতে মড়ক দেখা দেওয়ায় ফলন খুব একটা ভাল হয়নি। তারপর ন্যয্যমূল্য না পাওয়ায় তারা মোটা অংকের লোকসানে পড়েছেন। তারা আরও জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে বীজ ক্রয়,জমি প্রস্তুত,সার-কীটনাশক ও শ্রমিক মুজুরীসহ মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে ২০-২১ হাজার টাকা। কিন্তু গ্রেনুলা ও ডায়মন্ড জাতের আলুর বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে গড়ে ৪৫-৫০ মন। কিন্তু প্রকার ভেদে প্রতি মন আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা।সে হিসাবে কৃষকের বিঘা প্রতি গড়ে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।
লোকসানের কারন জানতে চাইলে কৃষক নবী হোসেন ও নরুল হকসহ অনেকেই জানান, মূলত আলু ক্ষেতে মড়কের কারনে বিঘাপ্রতি তাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও গত বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি ফলন হ্রাস পেয়েছে ১০-১৫ মন। অন্যদিকে,আলু ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানাযায়,হোসেনপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ৬-৭ হাজার টাকা কিন্তু এখন তা বেড়ে গিয়ে ৮-১০ হাজার টাকা হয়েছে। একই ভাবে চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলু পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত বারের তুলনায় এ বছর হোসেনপুরের বিভিন্ন মোকাম থেকে আলু নিতে পাইকাররা আগ্রহী হচ্ছেন না। তাই আলুর দাম ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এতে লাভের আশায় আলু চাষ করে মোটা অংকের লোকসানে পড়েছেন কৃষকর।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরুল খায়েস জানান, এ বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আলু চাষের লক্ষমাত্রা ৫৫০ হেক্টর নির্ধারণ থাকলেও আবাদ হয়েছে অনেক বেশি। তবে কিছু কিছু এলাকায় আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা সার্বাক্ষনিক তদারকি করছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫